নির্মাণের বর্ষেই সেতু বিধ্বস্ত ১৬ বছরেও হয়নি সংস্কার!

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পলাশকান্দা গ্রামের পাশখলা খালের ওপর এক আজব সেতুর সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নির্মিত এই সেতুর দু’ধারে বাশের মাচা । প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত লোক এ সেতু দিয়ে আসা যাওয়া করে। যাতায়াতের এমন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের। বিগত ১৬ বছর যাবত এমন অবস্থায় চললেও সেতুটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ওই বছরই নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যে বন্যার প্রবল স্রোতে সেতু ধসে হেলে পড়ে।

সে সময় দু’পাশের মাটি সরে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর উদ্যোগে ধসে পড়া সেতু দু’পাশে বাঁশ-কাঠের সংযোগ সেতু নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

যানবাহন চলাচলে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এই বিষয়ে সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পলাশকান্দা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে, ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্রিজ নির্মাণকালে নিম্নœমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে ব্রিজের দুই পাশে মাটি না দেয়ার কারণে বন্যার প্রবল স্র্রোতে ব্রিজটি ধসে হেলে পড়ে যায়।

এ রাস্তায় দিয়ে যাতায়াত করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন সিংহেশ্বর ইউনিয়নের জিগারকান্দা, পলাশকান্দা, কুটুরাকান্দা, কুলিরকান্দা, বালিচান্দা, পুরাপুটিয়া, চাতুলিয়াকান্দা, গুনাপাড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার পথচারী এ ভাঙ্গা ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। কোন ভারি যানবাহন নিয়ে পার হওয়া যায় না। প্রতিবছর অনেক মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এখানে। বিগত ১৬ বছর যাবত এমন অবস্থার চললেও ব্রিজটির সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে স্থানীয় মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যেের এ সেতুটি নির্মিত হয়েছিল।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে সেতুটি ধসে পড়ায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে যাতায়ত করতে হয় ৫ মাইল ঘুরে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে ও মিলেছে শুধু আশ্বাস। কিন্তু বাস্তবে বিগত ১৬ বছর যাবত সেতুটির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি তারা। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে কাঠ-বাঁশ ক্রয় করে সাময়িকভাবে সেতুটি মেরামত করে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করছেন।

পলাশকান্দার ব্রিজ পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার লোকজন ফুলপুর উপজেলা সদরে সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। এজন্য তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য শহরে বাজারজাত করতে দুর্ভোগ পোহাত হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৪নং সিংহেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহা আলী জানান, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এ সেতুর বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি বিভাগকে অবহিত করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব উল হাফিজ জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রস্তাব পেলে সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার জানান, দ্রুত উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ০৭ আশ্বিন ১৪২৯ ২৫ সফর ১৪৪৪

নির্মাণের বর্ষেই সেতু বিধ্বস্ত ১৬ বছরেও হয়নি সংস্কার!

প্রতিনিধি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)

image

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পলাশকান্দা গ্রামের পাশখলা খালের ওপর এক আজব সেতুর সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নির্মিত এই সেতুর দু’ধারে বাশের মাচা । প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত লোক এ সেতু দিয়ে আসা যাওয়া করে। যাতায়াতের এমন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের। বিগত ১৬ বছর যাবত এমন অবস্থায় চললেও সেতুটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ওই বছরই নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যে বন্যার প্রবল স্রোতে সেতু ধসে হেলে পড়ে।

সে সময় দু’পাশের মাটি সরে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর উদ্যোগে ধসে পড়া সেতু দু’পাশে বাঁশ-কাঠের সংযোগ সেতু নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

যানবাহন চলাচলে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এই বিষয়ে সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পলাশকান্দা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে, ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ব্রিজ নির্মাণকালে নিম্নœমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে ব্রিজের দুই পাশে মাটি না দেয়ার কারণে বন্যার প্রবল স্র্রোতে ব্রিজটি ধসে হেলে পড়ে যায়।

এ রাস্তায় দিয়ে যাতায়াত করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন সিংহেশ্বর ইউনিয়নের জিগারকান্দা, পলাশকান্দা, কুটুরাকান্দা, কুলিরকান্দা, বালিচান্দা, পুরাপুটিয়া, চাতুলিয়াকান্দা, গুনাপাড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার পথচারী এ ভাঙ্গা ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। কোন ভারি যানবাহন নিয়ে পার হওয়া যায় না। প্রতিবছর অনেক মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এখানে। বিগত ১৬ বছর যাবত এমন অবস্থার চললেও ব্রিজটির সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে স্থানীয় মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যেের এ সেতুটি নির্মিত হয়েছিল।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে সেতুটি ধসে পড়ায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে যাতায়ত করতে হয় ৫ মাইল ঘুরে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলে ও মিলেছে শুধু আশ্বাস। কিন্তু বাস্তবে বিগত ১৬ বছর যাবত সেতুটির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি তারা। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে কাঠ-বাঁশ ক্রয় করে সাময়িকভাবে সেতুটি মেরামত করে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করছেন।

পলাশকান্দার ব্রিজ পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার লোকজন ফুলপুর উপজেলা সদরে সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। এজন্য তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য শহরে বাজারজাত করতে দুর্ভোগ পোহাত হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৪নং সিংহেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহা আলী জানান, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এ সেতুর বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি বিভাগকে অবহিত করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব উল হাফিজ জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রস্তাব পেলে সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র সরকার জানান, দ্রুত উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।