আশ্রয়ণের ঘর জরাজীর্ণ ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কুঠিবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এদিকে, প্রতিটি পরিবারের ১০ শতকের দলিল থাকলেও খাজনা নিচ্ছেনা ইউনিয়ন ভুমি অফিস। আশ্রয়ণ বাসিন্দাদের দাবী জরাজীর্ন ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা ও সরকারিভাবে তাদের প্রাপ্ত দলিল অনুযায়ী খাজনা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভার নদীর তীরবর্তী কুঠিবাড়ী এলাকায় ২০০০ সালে ৪ একর জমির উপরে নির্মিত হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। এ প্রকল্পে ৪টি ব্যারাকে ৪০টি পরিবারের বসবাস। এখানে ৭/৮টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ভুমিহীন পরিবার গুলোর জন্য ২০০১ সালে প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১০ শতক করে জমি দলিল হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা দলিল অনুযায়ী তাদের নামে মিউটেশন করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে আসছে হঠাৎ করে তাদের খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয় ভূমি অফিস।

২০০৪ সালে দুটি ব্যারাকে ২০টি ঘর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায়। পরে সরকারি বরাদ্দে ২০১৫ সালে ক্ষতিগ্রস্থ ২০টি ঘর পুনরায় নির্মাণ করা হয়। বাকী দুটি ব্যারাকের ২০টি ঘর এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি ঘরের খুটি ভেঙ্গে গিয়ে নড়বড়ে অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঘরের ছাউনির টিনগুলো ছিদ্র হয়ে ঝাজড়া হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পনিতে তলিয়ে যায়, পুর্ণিমার অতিরিক্ত জোয়ারে হাটু পানি সৃষ্টি হয়ে রান্না খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অভুক্ত থাকতে হয় পরিবার পরিজন নিয়ে। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-বন্যায় ঘর ছেড়ে যেতে হয় অন্যত্র। নেই কোন স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির রয়েছে অভাব। আশ্রয়নের অফিস ঘরটিও ভাঙ্গা চুড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন দুর্বিসহ জীবন যাপন আশ্রয়নের বাসিন্দাদের।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি সেকেন্দার আলী খান, সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র বাউল, নুরজাহান বেগম, সালেহা বেগম, মোসাম্মত লিজা আক্তার, রুস্তম কাজী, অসীম দত্তসহ একাধিক আশ্রয়নের বাসিন্দারা বলেন, ২০০১ সালে সরকারিভাবে প্রত্যেককে ১০ শতক জমির দলিল দেন। পরবর্তীতে নিজ নামে মিউটেশন করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছি। হঠাৎ ভূমি অফিস কর্মকর্তা বলছেন ৫ শতক জমির খাজনা দিতে পারবেন। আমাদের খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আশ্রয়নের শুরু থেকেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ মাঠ জরিপে বি আর এস রেকর্ডেও আমাদের নামে রেকর্ড হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের জমি বুঝিয়ে দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও অদ্যবদি পর্যন্ত কোনর সুরহা হয়নি। ব্যারাক দুটি ২০টি পরিবারের ঘরগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কুঠিবাড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পটি দলিল ও জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভায় ব্যারাক হাউজে বসবাসকৃত প্রতিটি কক্ষে হাফ শতক করে জমি প্রাপ্ত। কিভাবে ১০ শতকের জমির দলিল হস্তান্তর হয়েছে খুজে দেখা হচ্ছে। আশ্রয়নের দুটি ব্যারাকে ২০টি ঘরের সংস্কারের জন্য গত বছর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে সংস্কার করা হবে।

মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২ , ৩০ কার্তিক ১৪২৯, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৪

আশ্রয়ণের ঘর জরাজীর্ণ ঝুঁকিতে ৪০ পরিবার

প্রতিনিধি, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

image

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন বাসিন্দাদের -সংবাদ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কুঠিবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এদিকে, প্রতিটি পরিবারের ১০ শতকের দলিল থাকলেও খাজনা নিচ্ছেনা ইউনিয়ন ভুমি অফিস। আশ্রয়ণ বাসিন্দাদের দাবী জরাজীর্ন ঘরগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা ও সরকারিভাবে তাদের প্রাপ্ত দলিল অনুযায়ী খাজনা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভার নদীর তীরবর্তী কুঠিবাড়ী এলাকায় ২০০০ সালে ৪ একর জমির উপরে নির্মিত হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। এ প্রকল্পে ৪টি ব্যারাকে ৪০টি পরিবারের বসবাস। এখানে ৭/৮টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ভুমিহীন পরিবার গুলোর জন্য ২০০১ সালে প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১০ শতক করে জমি দলিল হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা দলিল অনুযায়ী তাদের নামে মিউটেশন করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে আসছে হঠাৎ করে তাদের খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয় ভূমি অফিস।

২০০৪ সালে দুটি ব্যারাকে ২০টি ঘর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায়। পরে সরকারি বরাদ্দে ২০১৫ সালে ক্ষতিগ্রস্থ ২০টি ঘর পুনরায় নির্মাণ করা হয়। বাকী দুটি ব্যারাকের ২০টি ঘর এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি ঘরের খুটি ভেঙ্গে গিয়ে নড়বড়ে অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঘরের ছাউনির টিনগুলো ছিদ্র হয়ে ঝাজড়া হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পনিতে তলিয়ে যায়, পুর্ণিমার অতিরিক্ত জোয়ারে হাটু পানি সৃষ্টি হয়ে রান্না খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অভুক্ত থাকতে হয় পরিবার পরিজন নিয়ে। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-বন্যায় ঘর ছেড়ে যেতে হয় অন্যত্র। নেই কোন স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির রয়েছে অভাব। আশ্রয়নের অফিস ঘরটিও ভাঙ্গা চুড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন দুর্বিসহ জীবন যাপন আশ্রয়নের বাসিন্দাদের।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি সেকেন্দার আলী খান, সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র বাউল, নুরজাহান বেগম, সালেহা বেগম, মোসাম্মত লিজা আক্তার, রুস্তম কাজী, অসীম দত্তসহ একাধিক আশ্রয়নের বাসিন্দারা বলেন, ২০০১ সালে সরকারিভাবে প্রত্যেককে ১০ শতক জমির দলিল দেন। পরবর্তীতে নিজ নামে মিউটেশন করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছি। হঠাৎ ভূমি অফিস কর্মকর্তা বলছেন ৫ শতক জমির খাজনা দিতে পারবেন। আমাদের খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আশ্রয়নের শুরু থেকেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ মাঠ জরিপে বি আর এস রেকর্ডেও আমাদের নামে রেকর্ড হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের জমি বুঝিয়ে দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও অদ্যবদি পর্যন্ত কোনর সুরহা হয়নি। ব্যারাক দুটি ২০টি পরিবারের ঘরগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।

এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কুঠিবাড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পটি দলিল ও জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভায় ব্যারাক হাউজে বসবাসকৃত প্রতিটি কক্ষে হাফ শতক করে জমি প্রাপ্ত। কিভাবে ১০ শতকের জমির দলিল হস্তান্তর হয়েছে খুজে দেখা হচ্ছে। আশ্রয়নের দুটি ব্যারাকে ২০টি ঘরের সংস্কারের জন্য গত বছর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে সংস্কার করা হবে।