ঈশ্বরদীতে ইপিজেড কর্মীর আত্মহত্যা

ঈশ্বরদী ইপিজেডের চারতলা বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে এসএম খাইরুল আজম (২৯) নামে এক কর্মচারী আত্মহত্যা করেছে। গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল আজম কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন মির্জানগর এলাকার মো. আজিম-উদ-দৌলার ছেলে। সে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে গত দেড় মাস যাবৎ ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেড এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন।

খাইরুল আজমের বাবা জানান, প্রতিদিনের মতো আজকেও আমার ছেলে সকালে বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তার অফিস থেকে মোবাইল ফোনে আমাকে জানানো হয় যে, আমার ছেলে এস এম খাইরুল আজম ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমার পরিবারের লোকজনসহ ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখি আমার ছেলের মৃতদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় পড়ে আছে। রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার অমিত কুমার কুন্ডু জানান, দুপুরে একটি ছেলে বিল্ডিংয়ের উপর পরে গেছে খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে গিয়ে দেখি আহত খাইরুলকে আমাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে সেখানকার কর্তব্যরত নার্স তাকে দ্রুত ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমরা তাকে দ্রুত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডে একটি ছেলের লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে আমি এবং ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার সেখানে উপস্থিত হই এবং ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে সেখানেকার স্থাপিত ক্যামেরা ফুটেজ দেখতে চাই। এসময় ভিডিওতে আমরা দেখতে পাই, সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে খাইরুলের মোবাইল ফেনে একটি কল আসে এবং সে ফোনে কথা বলে। কথা বলা শেষ করার পর থেকে তার স্বাভাবিক চলা চলে ছন্দপতন দেখা যায়। এমতাবস্তায় দুপুর ১২টার দিকে সে তার কক্ষ ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে একই ভবনের ৪ তলায় উঠে যায়। সেখানকার রেলিং ডিঙ্গিয়ে খাইরুল নিচে লাফ দেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা গোপনসূত্রে জানতে পেরেছি, নিহত খাইরুলের প্রেমিকার আজ গায়ে হলুদ। সে হয়তো সেই শোক সহ্য করতে না পেরেই স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছে।

বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২ , ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৪

ঈশ্বরদীতে ইপিজেড কর্মীর আত্মহত্যা

প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী (পাবনা)

ঈশ্বরদী ইপিজেডের চারতলা বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে এসএম খাইরুল আজম (২৯) নামে এক কর্মচারী আত্মহত্যা করেছে। গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল আজম কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন মির্জানগর এলাকার মো. আজিম-উদ-দৌলার ছেলে। সে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে গত দেড় মাস যাবৎ ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেড এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন।

খাইরুল আজমের বাবা জানান, প্রতিদিনের মতো আজকেও আমার ছেলে সকালে বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তার অফিস থেকে মোবাইল ফোনে আমাকে জানানো হয় যে, আমার ছেলে এস এম খাইরুল আজম ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমার পরিবারের লোকজনসহ ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখি আমার ছেলের মৃতদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় পড়ে আছে। রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার অমিত কুমার কুন্ডু জানান, দুপুরে একটি ছেলে বিল্ডিংয়ের উপর পরে গেছে খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে গিয়ে দেখি আহত খাইরুলকে আমাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে সেখানকার কর্তব্যরত নার্স তাকে দ্রুত ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমরা তাকে দ্রুত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেডের রেনেসা বারিন্দ লিমিটেডে একটি ছেলের লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে আমি এবং ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ অরবিন্দ সরকার সেখানে উপস্থিত হই এবং ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে সেখানেকার স্থাপিত ক্যামেরা ফুটেজ দেখতে চাই। এসময় ভিডিওতে আমরা দেখতে পাই, সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে খাইরুলের মোবাইল ফেনে একটি কল আসে এবং সে ফোনে কথা বলে। কথা বলা শেষ করার পর থেকে তার স্বাভাবিক চলা চলে ছন্দপতন দেখা যায়। এমতাবস্তায় দুপুর ১২টার দিকে সে তার কক্ষ ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে একই ভবনের ৪ তলায় উঠে যায়। সেখানকার রেলিং ডিঙ্গিয়ে খাইরুল নিচে লাফ দেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা গোপনসূত্রে জানতে পেরেছি, নিহত খাইরুলের প্রেমিকার আজ গায়ে হলুদ। সে হয়তো সেই শোক সহ্য করতে না পেরেই স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছে।