ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট : মৃত্যু নবজাতকের

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিয়মনীতির কোন বালাই নেই, নেই কোন লাইসেন্স। তারপরও চলছে সেবার নামে ব্যবসা। তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ আল্ট্রাসনো ও ডায়াগানষ্টিক সেন্টার। সরকারী হাসপাতাল সংলগ্ন এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে বহাল তবিয়তে চলছে। বিভিন œসময় এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার মিলছে না। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর থানায় এজাহার করেন আইযুল আলী নামে এক ব্যাক্তি। এজাহার সুত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী গত ১১ নভেম্বর দুপুরে তার স্ত্রী সম্পাকে (২৫) নিয়ে বিসমিল্লাহ আল্ট্রাসনো ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন গর্ভবতী স্ত্রীর আল্ট্রাসনো করার জন্য। ডাক্তার মশিউর রহমান সাদিক সম্পা বেগমের আল্ট্রাসনো সম্পূর্ণ করে রির্পোট প্রদান করেন। রির্পোটে তিনি উল্লেখ করেন, সম্পার গর্ভে একটি সন্তান আছে এবং প্রসবের সময় আরো দুই মাস বাকি। কিন্তু রোগীর প্রসবের ব্যথা শুরু হয় পরের দিন ১২ নভেম্বর। কোন কুল না পেয়ে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করান তারা। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রির্পোট দেখে নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করেন। ফলে একটি বাচ্চা নরমাল ডেলিভারী হয়। রোগীর প্রসব ব্যথা না কমায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করেন এবং বলেন প্রসূতি মায়ের পেটে আরো একটি সন্তান আছে। তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে পরবর্তী সিজার করা হয় । ফলে প্রসূতি মা বেঁচে গেলেও বাচ্চাটি মৃত্যুবরণ করে। রোগীর স্বামী আইয়ুব আলী এবিষয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রির্পোট কেন ভুল হলো জানতে চাইলে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে থাকা লোকজন তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।

এ বিষয়ে ডাক্তার মশিউরর হমান সাদিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্ট্রাসনোতে দুইটি বাচ্চাই ধরা পরার কথা। কিন্তু কেন এটা হলো তা বুঝতে পারছেন না তিনি। তিনি আরো বলেন, ঐ রোগী তো আরো অন্যন্য জায়গায় আল্ট্রাসনো করিয়েছেন। তাহলে তারাও কেন এটা দেখলো না? আমি কেন একা দোষী হবো?

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয়ব ্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২ , ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৪

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট : মৃত্যু নবজাতকের

প্রতিনিধি, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিয়মনীতির কোন বালাই নেই, নেই কোন লাইসেন্স। তারপরও চলছে সেবার নামে ব্যবসা। তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ আল্ট্রাসনো ও ডায়াগানষ্টিক সেন্টার। সরকারী হাসপাতাল সংলগ্ন এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপটে বহাল তবিয়তে চলছে। বিভিন œসময় এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার মিলছে না। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর থানায় এজাহার করেন আইযুল আলী নামে এক ব্যাক্তি। এজাহার সুত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া গ্রামের আইয়ুব আলী গত ১১ নভেম্বর দুপুরে তার স্ত্রী সম্পাকে (২৫) নিয়ে বিসমিল্লাহ আল্ট্রাসনো ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন গর্ভবতী স্ত্রীর আল্ট্রাসনো করার জন্য। ডাক্তার মশিউর রহমান সাদিক সম্পা বেগমের আল্ট্রাসনো সম্পূর্ণ করে রির্পোট প্রদান করেন। রির্পোটে তিনি উল্লেখ করেন, সম্পার গর্ভে একটি সন্তান আছে এবং প্রসবের সময় আরো দুই মাস বাকি। কিন্তু রোগীর প্রসবের ব্যথা শুরু হয় পরের দিন ১২ নভেম্বর। কোন কুল না পেয়ে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করান তারা। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রির্পোট দেখে নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করেন। ফলে একটি বাচ্চা নরমাল ডেলিভারী হয়। রোগীর প্রসব ব্যথা না কমায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করেন এবং বলেন প্রসূতি মায়ের পেটে আরো একটি সন্তান আছে। তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে পরবর্তী সিজার করা হয় । ফলে প্রসূতি মা বেঁচে গেলেও বাচ্চাটি মৃত্যুবরণ করে। রোগীর স্বামী আইয়ুব আলী এবিষয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রির্পোট কেন ভুল হলো জানতে চাইলে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে থাকা লোকজন তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।

এ বিষয়ে ডাক্তার মশিউরর হমান সাদিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্ট্রাসনোতে দুইটি বাচ্চাই ধরা পরার কথা। কিন্তু কেন এটা হলো তা বুঝতে পারছেন না তিনি। তিনি আরো বলেন, ঐ রোগী তো আরো অন্যন্য জায়গায় আল্ট্রাসনো করিয়েছেন। তাহলে তারাও কেন এটা দেখলো না? আমি কেন একা দোষী হবো?

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয়ব ্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।