১০০ বেডে ১২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা : নতুন ভবন চালু হয়নি উদ্বোধনের ৫ বছরেও

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরগুনা

প্রয়োজনীয় লোকবল ও আসবাবপত্রের অভাবে উদ্বোধনের ৫ বছর পরও চালু হয়নি বরগুনা সদর হাসপাতালের নতুন ভবন। পুরাতন ভবনে ১০০ বেডের শূন্য কোঠা নিয়েই চলছে বরগুনার ১২ লাখ মানুষের নির্ধারিত ১ নম্বর স্বাস্থ্যসেবা। এ নিয়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে হাসপাতালটি নতুন ভবনে চালু করার দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি।

স্থানীয় দাবির প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে বরগুনার একজন সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী নানা ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে নির্মিত হয় বরগুনার জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ বেডের ৬তলা ভবন। লোকবল, লিফ্ট, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, অক্সিজেন ও আসবাবপত্র সংকট মাথায় রেখ্ েভবনটি দাঁড়িয়ে থাকে বেশ কিছুদিন।

২০১৮ সালে বরগুনা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনটি তালতলীর এক জনসভায় ডিজিট্যাল পদ্ধতিতে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, জনবল সংকট ও অবকাঠামোর অভাবে চালু করা যাচ্ছে না নতুন ভবন। ফলে পুরোনো ভবনে শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রৌকোশলী সুব্রত বিশ^াস জানান, উপকূলের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দশা দেখে ২০১০ সালের ৪ মে বরগুনা সার্কিট হাউজ ময়দানের এক জসভায় হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৩ সালে সরকারী ও জাইকার তহবিলে গণপূর্ত বিভাগ ৩১ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৭ টাকা ব্যয় নির্ধারণে ৮ তলার ভিত্তি নিয়ে ৬ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আ. খালেক এন্টারপ্রাইজ নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায়। এরপর এখানে ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের পর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সমস্যা চোখে পড়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নতুন নির্মিত ভবন ব্যবহারের উদ্যোগ নিলে। দেখা যায় লোকবল সংকটের সাথে আসবাব পত্র ও ভবনের বিভিন্ন ত্রুটি। লিফ্ট এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে করোনাকাল বর্তমান পর্যায় এলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত সমস্যার কারনে।

সমস্যগুলো হাতে রেখেই ৭ম ও ৮ম তলা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্তানীয় গণপূর্ত বিভাগ। নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ৭ম তলায় কেবিন, ৮ম তলায় আইসোলেসন, আইসিইউ ও কিডনি ডাইলাইসিসের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রকল্পের অধীনে এ কাজে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ^ ব্যাঙ্ক। তবে লোকবল এবং আসবাবপত্রের সংকট মোকাবেলা করতে না পারায় হাসপাতাল ভবন চালু করা যাচ্ছেনা বলে জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মো: সেহরাব উদ্দিন। তাই আগের মতো পুরোনো ভবনে ভোগান্তি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেছন রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। পা ফেলার মতো জায়গা নেই।

পুরুষ-মহিলা ওয়ার্ডেও রয়েছে শয্যা সংকট। শয্যা না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে জায়গা করে নিয়েছেন রোগীরা। এমনকি ভেতরে জায়গা না থাকায় চলার পথে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে নতুন ভবন উদ্বোধন হওয়ার পর গত বছর জুনে গৃহায়ণ ও গণর্পূত অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর করেন।

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য দরকার ৫৫ জন চিকিৎসক, ১০১ জন নার্সসহ মোট ২৩৩ জনের জনবল। এরমধ্যে ১০৩ জনের পদ শূন্য। এ ব্যাপারে বার বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি, তবুও কোনো কাজই হচ্ছে না।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাাতালের ভবনটি প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং চিকিৎসা যন্ত্র, বেড, অবকাঠামো না থাকার কারণে চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আমরা প্রতি মাসে রেজুলেশন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২ , ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৪

১০০ বেডে ১২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা : নতুন ভবন চালু হয়নি উদ্বোধনের ৫ বছরেও

image

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরগুনা

প্রয়োজনীয় লোকবল ও আসবাবপত্রের অভাবে উদ্বোধনের ৫ বছর পরও চালু হয়নি বরগুনা সদর হাসপাতালের নতুন ভবন। পুরাতন ভবনে ১০০ বেডের শূন্য কোঠা নিয়েই চলছে বরগুনার ১২ লাখ মানুষের নির্ধারিত ১ নম্বর স্বাস্থ্যসেবা। এ নিয়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে হাসপাতালটি নতুন ভবনে চালু করার দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি।

স্থানীয় দাবির প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে বরগুনার একজন সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী নানা ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে নির্মিত হয় বরগুনার জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ বেডের ৬তলা ভবন। লোকবল, লিফ্ট, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, অক্সিজেন ও আসবাবপত্র সংকট মাথায় রেখ্ েভবনটি দাঁড়িয়ে থাকে বেশ কিছুদিন।

২০১৮ সালে বরগুনা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনটি তালতলীর এক জনসভায় ডিজিট্যাল পদ্ধতিতে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, জনবল সংকট ও অবকাঠামোর অভাবে চালু করা যাচ্ছে না নতুন ভবন। ফলে পুরোনো ভবনে শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রৌকোশলী সুব্রত বিশ^াস জানান, উপকূলের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দশা দেখে ২০১০ সালের ৪ মে বরগুনা সার্কিট হাউজ ময়দানের এক জসভায় হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৩ সালে সরকারী ও জাইকার তহবিলে গণপূর্ত বিভাগ ৩১ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৭ টাকা ব্যয় নির্ধারণে ৮ তলার ভিত্তি নিয়ে ৬ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আ. খালেক এন্টারপ্রাইজ নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায়। এরপর এখানে ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের পর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সমস্যা চোখে পড়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নতুন নির্মিত ভবন ব্যবহারের উদ্যোগ নিলে। দেখা যায় লোকবল সংকটের সাথে আসবাব পত্র ও ভবনের বিভিন্ন ত্রুটি। লিফ্ট এবং অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে করোনাকাল বর্তমান পর্যায় এলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত সমস্যার কারনে।

সমস্যগুলো হাতে রেখেই ৭ম ও ৮ম তলা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্তানীয় গণপূর্ত বিভাগ। নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ৭ম তলায় কেবিন, ৮ম তলায় আইসোলেসন, আইসিইউ ও কিডনি ডাইলাইসিসের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা প্রকল্পের অধীনে এ কাজে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ^ ব্যাঙ্ক। তবে লোকবল এবং আসবাবপত্রের সংকট মোকাবেলা করতে না পারায় হাসপাতাল ভবন চালু করা যাচ্ছেনা বলে জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মো: সেহরাব উদ্দিন। তাই আগের মতো পুরোনো ভবনে ভোগান্তি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেছন রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরগুনার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। পা ফেলার মতো জায়গা নেই।

পুরুষ-মহিলা ওয়ার্ডেও রয়েছে শয্যা সংকট। শয্যা না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে জায়গা করে নিয়েছেন রোগীরা। এমনকি ভেতরে জায়গা না থাকায় চলার পথে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে নতুন ভবন উদ্বোধন হওয়ার পর গত বছর জুনে গৃহায়ণ ও গণর্পূত অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর করেন।

২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য দরকার ৫৫ জন চিকিৎসক, ১০১ জন নার্সসহ মোট ২৩৩ জনের জনবল। এরমধ্যে ১০৩ জনের পদ শূন্য। এ ব্যাপারে বার বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি, তবুও কোনো কাজই হচ্ছে না।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাাতালের ভবনটি প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং চিকিৎসা যন্ত্র, বেড, অবকাঠামো না থাকার কারণে চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আমরা প্রতি মাসে রেজুলেশন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।