আলু বীজ সংকট, চড়া দামে বিপাকে কৃষক

উত্তর অঞ্চলের আলুর আতুর ঘর খ্যাত পীরগাছায় আগাম আলুর বীজের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বীজের জন্য কৃষক ছুটা ছুটি করছে। ব্র্যাক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা ন্যায্যমূল্যে বীজ বিক্রি করছেন না। বাধ্য হয়ে চড়া মূল্য দিতে চাইলে বীজ পাওয়া যায়। ডিলারদের বরাদ্দের আলু এখন ফরিয়াদের ঘরে। প্রকৃত কৃষক পাচ্ছেন না আলু বীজ অথচ ফরিয়াকে ডিলার বীজ দিচ্ছেন ২৫ মে.টন পর্যন্ত। এ যেন আলুর রাজ্যে আলু বীজের হাহাকার।

রংপুরের পীরগাছায় সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে আলু বীজ। ফলে স্থানীয় বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে। জমি আলু রোপনের উপযোগী করার পরও বীজের অভাবে রোপন করতে পারছেন না। চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আগাম আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন চাষীরা। এদিকে কৃষকদের জিম্মি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলার সম্বনয়ে গড়ে উঠা ওই সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দামে আলু বীজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএডিসির আলু বীজ বাজারে আসলেও কৃষকের চাহিদা কম। কৃষক ভালো ফলনের আশায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের আলু বীজের দিকে ঝুকে পড়েছেন। কিন্তু বাজারে এই কোম্পানিসহ অন্যান্য কোম্পানির বীজ চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে ওই সব কোম্পানির আলু বীজ। ফলে ডিলার এবং খুচড়া দোকানে ঘুরেও পাচ্ছেন না কৃষক কাংখিত মানের আলুর বীজ। এই মুহূর্তে আলু উৎপাদনের উপযোগী করে তৈরি জমিতে অন্য কোন ফসল রোপণ/ বপনের চিন্তাও করতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক কৃষক বলছেন এই মুহূর্তে আলুর বীজ বাজার মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলাররা বেশি লাভের আশায় স্বাভাবিকভাবে বীজ বিক্রি করছে না। অনুমোদিত ডিলারদের বীজ চড়া মূল্যে বিক্রি করছে ফরিয়ারা।

উপজেলার দেউতি বাজারের ব্র্যাকের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার শামীম বলেন ০১ কেজি আলু বীজ তিনি ৬০ টাকা করে বিক্রি করছেন, তবে তিনি উপজেলার পাওটানা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী মোত্তালেবের নিকট পাইকারী বিক্রি করেন কেজি প্রতি ৫৮ টাকা। পাওটানা বাজারের দছিজল মেম্বার এক কেজি এ গ্রেডের স্টিক আলু বীজ ৬২ টাকা বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। তিনি তার ভাষায় বলেন ব্র্যাকের হেড অব দা ডিপাটমেন্টকে ম্যানেজ করলে তিনি যে ডিলারের কাছ থেকে আমাকে আলু বীজ নিতে বলেন আমি সেই ডিলারের গোডাউন থেকে নিয়ে এসে বিক্রি করি। ডিলার শামীম বলেন পাওটানার দছিজল মেম্বারকে ২৫ মে.টন আলু দিতে হবে আমাকে।

ব্রাকের এরিয়া ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেশী নিতে পারে, তার মানে কেজি প্রতি ৬০ টাকা দাম নেয়া যাবে না। কোম্পানির নির্ধরিত মূল্য, আলুর কার্টুন ৮ হাজার টাকা এবং বস্তার আলু কেজি ৫০ টাকা। সংবাদ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ডিলার শামীম কার্টুন ১০ হতে ১১ হাজার টাকা এবং বস্তার আলু কেজি প্রতি ৫৮ হতে ৬০ টাকা বিক্রি করেন। শুধু তাই নয় ওই ডিলার পীরগাছার চাষীদের চাহিদা পুরন না করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় আলু বীজ বিক্রি করছেন। এভাবে আলু বীজের সংকট থাকলে আলুর উৎপাদন কম হবে। চলতি বছর পীরগাছার আলু দিয়ে দেশের চাহিদা পুরন করার পর কয়েক হাজার মে.টন আলু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।

বীজের এমন সংকট হলে আগামী বছর রপ্তানি ছাড়াই দেশের চাহিদা পুরন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় কৃষিবিদরা মনে করেন। ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামের কৃষক আদর্শ আনোয়ারুল মাস্টার, মজিদুল ইসলাম ও আদম পাড়ার কৃষক সুশান্ত বলেন বেশ কয়েক দিন হলো জমি প্রস্তুত করার, বীজের অভাবে তারা আলু রোপন করতে পারছেন না।

কৃষক সুশান্ত বলেন ব্রাকের নিয়োগ প্রাপ্ত পীরগাছার সব ডিলার এমন কি ব্রাকের রংপুর জেলা ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেও বীজ না পাওয়ায় আমি চরম বীপদে পড়েছি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, বেসরকারি কোম্পানির বীজের মূল্য নিয়ে কৃষি সম্প্রসারন দপ্তর কিছু করতে পারেনা। তিনি আরো বলেন, কোম্পানিগুলো কৃষি দপ্তরের নিকট দায়বদ্ধ না।

সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২ , ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৪

আলু বীজ সংকট, চড়া দামে বিপাকে কৃষক

প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)

image

উত্তর অঞ্চলের আলুর আতুর ঘর খ্যাত পীরগাছায় আগাম আলুর বীজের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বীজের জন্য কৃষক ছুটা ছুটি করছে। ব্র্যাক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা ন্যায্যমূল্যে বীজ বিক্রি করছেন না। বাধ্য হয়ে চড়া মূল্য দিতে চাইলে বীজ পাওয়া যায়। ডিলারদের বরাদ্দের আলু এখন ফরিয়াদের ঘরে। প্রকৃত কৃষক পাচ্ছেন না আলু বীজ অথচ ফরিয়াকে ডিলার বীজ দিচ্ছেন ২৫ মে.টন পর্যন্ত। এ যেন আলুর রাজ্যে আলু বীজের হাহাকার।

রংপুরের পীরগাছায় সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে আলু বীজ। ফলে স্থানীয় বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরী হয়েছে। জমি আলু রোপনের উপযোগী করার পরও বীজের অভাবে রোপন করতে পারছেন না। চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আগাম আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন চাষীরা। এদিকে কৃষকদের জিম্মি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলার সম্বনয়ে গড়ে উঠা ওই সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দামে আলু বীজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএডিসির আলু বীজ বাজারে আসলেও কৃষকের চাহিদা কম। কৃষক ভালো ফলনের আশায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের আলু বীজের দিকে ঝুকে পড়েছেন। কিন্তু বাজারে এই কোম্পানিসহ অন্যান্য কোম্পানির বীজ চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে ওই সব কোম্পানির আলু বীজ। ফলে ডিলার এবং খুচড়া দোকানে ঘুরেও পাচ্ছেন না কৃষক কাংখিত মানের আলুর বীজ। এই মুহূর্তে আলু উৎপাদনের উপযোগী করে তৈরি জমিতে অন্য কোন ফসল রোপণ/ বপনের চিন্তাও করতে পারছেন না কৃষকরা। অনেক কৃষক বলছেন এই মুহূর্তে আলুর বীজ বাজার মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলাররা বেশি লাভের আশায় স্বাভাবিকভাবে বীজ বিক্রি করছে না। অনুমোদিত ডিলারদের বীজ চড়া মূল্যে বিক্রি করছে ফরিয়ারা।

উপজেলার দেউতি বাজারের ব্র্যাকের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার শামীম বলেন ০১ কেজি আলু বীজ তিনি ৬০ টাকা করে বিক্রি করছেন, তবে তিনি উপজেলার পাওটানা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী মোত্তালেবের নিকট পাইকারী বিক্রি করেন কেজি প্রতি ৫৮ টাকা। পাওটানা বাজারের দছিজল মেম্বার এক কেজি এ গ্রেডের স্টিক আলু বীজ ৬২ টাকা বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। তিনি তার ভাষায় বলেন ব্র্যাকের হেড অব দা ডিপাটমেন্টকে ম্যানেজ করলে তিনি যে ডিলারের কাছ থেকে আমাকে আলু বীজ নিতে বলেন আমি সেই ডিলারের গোডাউন থেকে নিয়ে এসে বিক্রি করি। ডিলার শামীম বলেন পাওটানার দছিজল মেম্বারকে ২৫ মে.টন আলু দিতে হবে আমাকে।

ব্রাকের এরিয়া ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেশী নিতে পারে, তার মানে কেজি প্রতি ৬০ টাকা দাম নেয়া যাবে না। কোম্পানির নির্ধরিত মূল্য, আলুর কার্টুন ৮ হাজার টাকা এবং বস্তার আলু কেজি ৫০ টাকা। সংবাদ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ডিলার শামীম কার্টুন ১০ হতে ১১ হাজার টাকা এবং বস্তার আলু কেজি প্রতি ৫৮ হতে ৬০ টাকা বিক্রি করেন। শুধু তাই নয় ওই ডিলার পীরগাছার চাষীদের চাহিদা পুরন না করে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় আলু বীজ বিক্রি করছেন। এভাবে আলু বীজের সংকট থাকলে আলুর উৎপাদন কম হবে। চলতি বছর পীরগাছার আলু দিয়ে দেশের চাহিদা পুরন করার পর কয়েক হাজার মে.টন আলু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।

বীজের এমন সংকট হলে আগামী বছর রপ্তানি ছাড়াই দেশের চাহিদা পুরন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় কৃষিবিদরা মনে করেন। ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামের কৃষক আদর্শ আনোয়ারুল মাস্টার, মজিদুল ইসলাম ও আদম পাড়ার কৃষক সুশান্ত বলেন বেশ কয়েক দিন হলো জমি প্রস্তুত করার, বীজের অভাবে তারা আলু রোপন করতে পারছেন না।

কৃষক সুশান্ত বলেন ব্রাকের নিয়োগ প্রাপ্ত পীরগাছার সব ডিলার এমন কি ব্রাকের রংপুর জেলা ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেও বীজ না পাওয়ায় আমি চরম বীপদে পড়েছি। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, বেসরকারি কোম্পানির বীজের মূল্য নিয়ে কৃষি সম্প্রসারন দপ্তর কিছু করতে পারেনা। তিনি আরো বলেন, কোম্পানিগুলো কৃষি দপ্তরের নিকট দায়বদ্ধ না।