ইনফিনিক্স নোট ১২ প্রো কি সত্যিই ‘স্পিড মাস্টার’

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ইনফিনিক্সের নতুন ডিভাইস নোট ১২ প্রো। স্পিড মাস্টার খ্যাত নোট ১২ প্রো বাজারে এসেছে গত ১২ জানুয়ারি। বেশ হালকা এই ফোনটিতে আছে শক্তিশালী প্রসেসর, বেশ বড় ও সুন্দর ডিসপ্লে এবং দারুণ ক্যামেরা। প্রিমিয়াম এই ফোনটি মিলবে ২৬,৪৯৯ টাকায়।

টেক রিভিউয়ার চ্যানেল ‘টিটিপি’ জানিয়েছে, হেভি-ইউজার বা গেমারদের সব চাহিদা সহজেই পূরণ করবে নোট ১২ প্রো। তাদের মতে এই ফোনটি ‘পাওয়ার মনস্টার’। অন্যদিকে, ফোনটির ক্যামেরা নিয়ে কথা বলেছে টেক রিভিউয়ার চ্যানেল ‘প্রযুক্তি’। তারা বলেছে, ফোনটির ক্যামেরায় অসাধারণ সব ছবি তোলা যাচ্ছে। ছবির কালার ব্যালেন্স এবং ডিটেইলেরও প্রশংসা করেছে চ্যানেলটি।

এখন আসল প্রশ্ন, এই টাকায় নোট ১২ প্রো-তে কী কী দিচ্ছে ইনফিনিক্স? ছোট্ট করে বললে, এই ফোনে আছে ২৫৬ জিবি রম ও ৮ জিবি র‌্যাম। ফোনে র‌্যাম বাড়ানো যায় ১৩ জিবি পর্যন্ত। প্রসেসর হিসেবে আছে তাইওয়ানের টিএসএমসির ৬ ন্যানোমিটারের হেলিও জি-৯৯ মনস্টার ইঞ্জিন। আর ১০৮ মেগা পিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরাসহ ১৬ মেগা পিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। আর ডিসপ্লে? হ্যাঁ, ডিসপ্লে অ্যামোলেড।

সাধারণত হেভি ইউজার ও গেমারদের প্রথম প্রশ্ন হয়ে থাকে প্রসেসরের গতি আর জিপিইউ নিয়ে। ফোনটির হেলিও জি-৯৯ প্রসেসরের গতি ২.২ গিগাহার্টজ আর জিপিইউ আর্ম মেইল জি৫৭ ক্লাসের। তাই গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ে গ্রাফিক্স নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। তাছাড়া, ১২ ন্যানোমিটারের জি-৯৬ প্রসেসর থেকে ৬ ন্যানোমিটারের জি-৯৯ প্রসেসর প্রায় ১০ শতাংশ কম ব্যাটারি খরচ করে।

নোট ১২ প্রো-এর শক্তিশালী ১০৮ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা এবং ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার সঙ্গে থাকছে ১০ গুণ জুম করার সুবিধা। ফোনটিতে প্রফেশনাল নাইট সিন ফটোগ্রাফি মোড থাকায় রাতের বেলায়ও ছবি ওঠানো যাবে কোন অসুবিধা ছাড়াই।

এর ২৫৬ জিবি রম বাড়ানো যায় ২ টিবি পর্যন্ত। আর মেমোরি ফিউশনের মাধ্যমে ৮ জিবি র‌্যাম বাড়ানো যাবে ১৩ জিবি পর্যন্ত। তাছাড়া মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তি থাকার কারণে, কোনো অ্যাপ ওপেন হওয়ার সময় নেমে আসে ৮০২ মাইক্রো সেকেন্ড থেকে ৩০৭ মাইক্রো সেকেন্ডে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে একসঙ্গে ২০টি অ্যাপ চলবে কোন সমস্যা ছাড়াই।

ফোনটির ৬.৭ ইঞ্চি অ্যামোলেড ফুল এইচডি+ ডিসপ্লেতে রিফ্রেশ রেট আছে ৬০ হার্টজ পর্যন্ত। ৩৯৩ পিপিআই ডেনসিটির এই ডিসপ্লের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৯২%। ফোনটিতে আছে বিশাল ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। সাথে আছে সুপার ফাস্ট ৩৩ ওয়াটের সুপার চার্জ সক্ষমতা। ফোনটিতে টাইপ-সি চার্জার দেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য এই ফোনে আছে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গার প্রিন্ট। হাই কোয়ালিটির সাউন্ড দিতে ব্যবহার করা হয়েছে দুটো ডিটিএস স্পিকার। নোট ১২ প্রো পাওয়া যাচ্ছে ভলকানিক গ্রে, টাস্ক্যানি ব্লু এবং আলপাইন হোয়াইট এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে।

ইনফিনিক্সের নোট ১২ সিরিজের আরেকটি ফোনের দুটি ভার্সন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ক্যামেরা আর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ছাড়া নোট ১২, ২০২৩ এর বাকি সবকিছু নোট ১২ প্রো-এর মতোই। দামও আরেকটু কম। এই ফোনের ১২৮ জিবি ভার্সনের দাম ১৯,৯৯৯ টাকা, আর ২৫৬ জিবি ভার্সনের দাম পড়বে ২২,৯৯৯ টাকা।

তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রেগুলার ইউজার, হেভি ইউজার ও গেমারদের সব চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা আছে এই ফোনের।

বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ , ১০ মাঘ ১৪২৯, ৩০ জমাদিউল সানি ১৪৪৪

ইনফিনিক্স নোট ১২ প্রো কি সত্যিই ‘স্পিড মাস্টার’

মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন

image

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ইনফিনিক্সের নতুন ডিভাইস নোট ১২ প্রো। স্পিড মাস্টার খ্যাত নোট ১২ প্রো বাজারে এসেছে গত ১২ জানুয়ারি। বেশ হালকা এই ফোনটিতে আছে শক্তিশালী প্রসেসর, বেশ বড় ও সুন্দর ডিসপ্লে এবং দারুণ ক্যামেরা। প্রিমিয়াম এই ফোনটি মিলবে ২৬,৪৯৯ টাকায়।

টেক রিভিউয়ার চ্যানেল ‘টিটিপি’ জানিয়েছে, হেভি-ইউজার বা গেমারদের সব চাহিদা সহজেই পূরণ করবে নোট ১২ প্রো। তাদের মতে এই ফোনটি ‘পাওয়ার মনস্টার’। অন্যদিকে, ফোনটির ক্যামেরা নিয়ে কথা বলেছে টেক রিভিউয়ার চ্যানেল ‘প্রযুক্তি’। তারা বলেছে, ফোনটির ক্যামেরায় অসাধারণ সব ছবি তোলা যাচ্ছে। ছবির কালার ব্যালেন্স এবং ডিটেইলেরও প্রশংসা করেছে চ্যানেলটি।

এখন আসল প্রশ্ন, এই টাকায় নোট ১২ প্রো-তে কী কী দিচ্ছে ইনফিনিক্স? ছোট্ট করে বললে, এই ফোনে আছে ২৫৬ জিবি রম ও ৮ জিবি র‌্যাম। ফোনে র‌্যাম বাড়ানো যায় ১৩ জিবি পর্যন্ত। প্রসেসর হিসেবে আছে তাইওয়ানের টিএসএমসির ৬ ন্যানোমিটারের হেলিও জি-৯৯ মনস্টার ইঞ্জিন। আর ১০৮ মেগা পিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরাসহ ১৬ মেগা পিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। আর ডিসপ্লে? হ্যাঁ, ডিসপ্লে অ্যামোলেড।

সাধারণত হেভি ইউজার ও গেমারদের প্রথম প্রশ্ন হয়ে থাকে প্রসেসরের গতি আর জিপিইউ নিয়ে। ফোনটির হেলিও জি-৯৯ প্রসেসরের গতি ২.২ গিগাহার্টজ আর জিপিইউ আর্ম মেইল জি৫৭ ক্লাসের। তাই গেমিং বা ভিডিও এডিটিংয়ে গ্রাফিক্স নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। তাছাড়া, ১২ ন্যানোমিটারের জি-৯৬ প্রসেসর থেকে ৬ ন্যানোমিটারের জি-৯৯ প্রসেসর প্রায় ১০ শতাংশ কম ব্যাটারি খরচ করে।

নোট ১২ প্রো-এর শক্তিশালী ১০৮ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা এবং ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার সঙ্গে থাকছে ১০ গুণ জুম করার সুবিধা। ফোনটিতে প্রফেশনাল নাইট সিন ফটোগ্রাফি মোড থাকায় রাতের বেলায়ও ছবি ওঠানো যাবে কোন অসুবিধা ছাড়াই।

এর ২৫৬ জিবি রম বাড়ানো যায় ২ টিবি পর্যন্ত। আর মেমোরি ফিউশনের মাধ্যমে ৮ জিবি র‌্যাম বাড়ানো যাবে ১৩ জিবি পর্যন্ত। তাছাড়া মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তি থাকার কারণে, কোনো অ্যাপ ওপেন হওয়ার সময় নেমে আসে ৮০২ মাইক্রো সেকেন্ড থেকে ৩০৭ মাইক্রো সেকেন্ডে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে একসঙ্গে ২০টি অ্যাপ চলবে কোন সমস্যা ছাড়াই।

ফোনটির ৬.৭ ইঞ্চি অ্যামোলেড ফুল এইচডি+ ডিসপ্লেতে রিফ্রেশ রেট আছে ৬০ হার্টজ পর্যন্ত। ৩৯৩ পিপিআই ডেনসিটির এই ডিসপ্লের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৯২%। ফোনটিতে আছে বিশাল ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। সাথে আছে সুপার ফাস্ট ৩৩ ওয়াটের সুপার চার্জ সক্ষমতা। ফোনটিতে টাইপ-সি চার্জার দেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য এই ফোনে আছে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গার প্রিন্ট। হাই কোয়ালিটির সাউন্ড দিতে ব্যবহার করা হয়েছে দুটো ডিটিএস স্পিকার। নোট ১২ প্রো পাওয়া যাচ্ছে ভলকানিক গ্রে, টাস্ক্যানি ব্লু এবং আলপাইন হোয়াইট এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে।

ইনফিনিক্সের নোট ১২ সিরিজের আরেকটি ফোনের দুটি ভার্সন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ক্যামেরা আর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ছাড়া নোট ১২, ২০২৩ এর বাকি সবকিছু নোট ১২ প্রো-এর মতোই। দামও আরেকটু কম। এই ফোনের ১২৮ জিবি ভার্সনের দাম ১৯,৯৯৯ টাকা, আর ২৫৬ জিবি ভার্সনের দাম পড়বে ২২,৯৯৯ টাকা।

তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রেগুলার ইউজার, হেভি ইউজার ও গেমারদের সব চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা আছে এই ফোনের।