চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং

চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লি কিয়াং (৬৩)। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লি কে বেছে নিয়েছেন শি জিনপিং।

চীনের ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেসে ২ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন লি। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লি কেকিয়াং। রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার দিক থেকে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দ্বিতীয়। এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বহুল আলোচিত চীনের ‘জিরো-কোভিড’ নীতির জন্য পরিচিত লি। তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযোগের সম্মুখীন হয়েও এই নীতিতে অটল থেকে প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের প্রমান দেন তিনি।

শি যখন চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জেজিয়াং প্রদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ছিলেন তখন ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত লি কিয়াং তার চিফ অব স্টাফ ছিলেন। লি কিয়াং শিয়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

ভোট চলার সময় ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন লি কিয়াং। চীনের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিয়াং বাস্তববাদী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করা হয়। তিন বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অর্থনীতির সঙ্কোচন, ভোক্তা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে দুর্বল আস্থা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাকে চীনের অর্থনীতিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

গত বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বেইজিংয়ে পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনের দিন ২০২৩ এর জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।

চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ঐতিহ্য অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করবেন চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়াং । মহামারির পরে ধীর গতিতে চলতে থাকা চীনের অর্থনীতির চাকা আবার সচল করার দায়িত্ব এখন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর। এছাড়া রফতানিতে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, চীনা পণ্যে বাড়তে থাকা মার্কিন শুল্ক ইত্যাদি সমস্যাও মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

গতবছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এ বছরের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি। গত তিন দশকের মধ্যে এটি চীনের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।

রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ , ২৭ ফাল্গুন ১৪২৯, ১৯ শবান ১৪৪৪

চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং

চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লি কিয়াং (৬৩)। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লি কে বেছে নিয়েছেন শি জিনপিং।

চীনের ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেসে ২ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন লি। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লি কেকিয়াং। রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার দিক থেকে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান দ্বিতীয়। এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বহুল আলোচিত চীনের ‘জিরো-কোভিড’ নীতির জন্য পরিচিত লি। তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযোগের সম্মুখীন হয়েও এই নীতিতে অটল থেকে প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের প্রমান দেন তিনি।

শি যখন চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জেজিয়াং প্রদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ছিলেন তখন ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত লি কিয়াং তার চিফ অব স্টাফ ছিলেন। লি কিয়াং শিয়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

ভোট চলার সময় ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন লি কিয়াং। চীনের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। কিয়াং বাস্তববাদী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করা হয়। তিন বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে অর্থনীতির সঙ্কোচন, ভোক্তা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে দুর্বল আস্থা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাকে চীনের অর্থনীতিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

গত বছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বেইজিংয়ে পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনের দিন ২০২৩ এর জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।

চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ঐতিহ্য অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করবেন চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়াং । মহামারির পরে ধীর গতিতে চলতে থাকা চীনের অর্থনীতির চাকা আবার সচল করার দায়িত্ব এখন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর। এছাড়া রফতানিতে বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, চীনা পণ্যে বাড়তে থাকা মার্কিন শুল্ক ইত্যাদি সমস্যাও মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

গতবছর চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এ বছরের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি। গত তিন দশকের মধ্যে এটি চীনের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা।