জলাভূমি রক্ষায় পদক্ষেপ নিন

বাংলাদেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও জলাভূমি ভরাট বা দখল হওয়ার খবর গণমাধ্যমে দেখা যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, পর্যটনসহ নানাক্ষেত্রে জলাভূমি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীর মোট আহরিত মাছের দুই তৃতীয়াংশ আসে জলাভূমি থেকে। জলাভূমি বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, পানির রাসায়নিক উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে ও অতিরিক্ত পুষ্টি শোষণ করে পানির গুণাগুণ উন্নতকরণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

মূলত আইনের শিথিলতা ও প্রয়োগের অভাবেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জলাভূমির পরিমাণ ক্রমশ কমছে। ফলে পানির স্তর কমছে, তাতে ভারসাম্যহীন হচ্ছে পরিবেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সারাদেশে প্রতি বছর ৪২ হাজার একর জলাভূমি ও কৃষিভূমি ভরাট হচ্ছে, দিনদিন মাত্রা আরো বাড়ছে। শহরে বৃষ্টির পানি সুষ্ঠু নির্গমনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি শহরের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকা জলাভূমি থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু রাজধানী ঢাকার জলাভূমির পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাও ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী কোনো পুকুর,জলাশয়,নদী,খাল ভরাট করা বেআইনি। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী ৫ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে; কিন্তু আইন না মেনেই চলছে জলাভূমি ভরাট।

তাই আইন কিংবা পরিকল্পনা থাকলেই হবে না, প্রয়োগের করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।

নাসরিন জাহান

বুধবার, ১৫ মার্চ ২০২৩ , ৩০ ফাল্গুন ১৪২৯, ২২ শবান ১৪৪৪

জলাভূমি রক্ষায় পদক্ষেপ নিন

বাংলাদেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও জলাভূমি ভরাট বা দখল হওয়ার খবর গণমাধ্যমে দেখা যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, পর্যটনসহ নানাক্ষেত্রে জলাভূমি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীর মোট আহরিত মাছের দুই তৃতীয়াংশ আসে জলাভূমি থেকে। জলাভূমি বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, পানির রাসায়নিক উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে ও অতিরিক্ত পুষ্টি শোষণ করে পানির গুণাগুণ উন্নতকরণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

মূলত আইনের শিথিলতা ও প্রয়োগের অভাবেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জলাভূমির পরিমাণ ক্রমশ কমছে। ফলে পানির স্তর কমছে, তাতে ভারসাম্যহীন হচ্ছে পরিবেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সারাদেশে প্রতি বছর ৪২ হাজার একর জলাভূমি ও কৃষিভূমি ভরাট হচ্ছে, দিনদিন মাত্রা আরো বাড়ছে। শহরে বৃষ্টির পানি সুষ্ঠু নির্গমনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি শহরের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকা জলাভূমি থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু রাজধানী ঢাকার জলাভূমির পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাও ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী কোনো পুকুর,জলাশয়,নদী,খাল ভরাট করা বেআইনি। এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী ৫ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে; কিন্তু আইন না মেনেই চলছে জলাভূমি ভরাট।

তাই আইন কিংবা পরিকল্পনা থাকলেই হবে না, প্রয়োগের করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।

নাসরিন জাহান