বিষমুক্ত সবজি চাষের পদ্ধতি

জামালপুরের মেলান্দহে কৃষকদের মাঝে বিষমুক্ত সবজি চাষের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় ১শ’ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) বা সমন্বিত বালাই নাশক পদ্ধতিতে দেশের ২০টি ইউনিয়নের আওতায় মেলান্দহের শ্যামপুর এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকদের মাঝে পরিক্ষামূলক এই প্রকল্প চালু করেছে কৃষি বিভাগ।

ইতোমধ্যেই কীটনাশকমুক্ত চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যান্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে সবজির চাষ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতিতে চাষা করা হচ্ছে, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করল্লা। এছাড়াও কৃষকদের নিজ প্রয়োজনে চাষ করছেন-তরমুজ, রঙ্গিন তরমুজ ছাড়াও আরো ৪ জাতের স্কোয়াশ, ৩ জাতের ক্যাপসিক্যাম, লাল ঢেড়স, নতুন নতুন জাতের ফুলকপি, লাল শাক, পাট শাক, সারিসারি পেপের গাছ, টমেটো ইত্যাদি।

পোকামাকড়ের জেনিটিক আচরণের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রংয়ের ফাঁদ আবিস্কার করেছে কৃষি বিভাগ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কীটনাশক মারণাস্ত্র ফেরোমিন, ফাঁদ, নেট হাউজ, মানচিং শিট। পোকামাকড়ের আকৃষ্টকারি হলুদ, লাল, কালো ফাঁদে একধরণের আঠা থাকে। সেই আঠাতে বসলেই পোকামাকড় মারা যায়।

সবজি ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য একটি পাত্রে কেমিক্যালের তৈরি (কৃষকের ভাষায় তাবিজ) ফেরোমিন রাখা হয়। ফেরোমিনে নারী পোকার গন্ধ ছড়ায়। প্রজননের জন্য পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ফেরোমিনের পাত্রে প্রবেশকরেই পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও মানচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে ফসলে আগাছা হয় না। ক্ষেতে পানিরও সংকট পড়ে না। মানচিং হচ্ছে বপনকৃত বীজের স্থান উন্মুক্ত রেখে বাকি জমি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকলে নেট দিয়ে ক্ষেতের চারদিকে ঢেকে দিতে হয়।

শাহজামাল

বুধবার, ১৫ মার্চ ২০২৩ , ৩০ ফাল্গুন ১৪২৯, ২২ শবান ১৪৪৪

বিষমুক্ত সবজি চাষের পদ্ধতি

image

জামালপুরের মেলান্দহে কৃষকদের মাঝে বিষমুক্ত সবজি চাষের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় ১শ’ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) বা সমন্বিত বালাই নাশক পদ্ধতিতে দেশের ২০টি ইউনিয়নের আওতায় মেলান্দহের শ্যামপুর এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকদের মাঝে পরিক্ষামূলক এই প্রকল্প চালু করেছে কৃষি বিভাগ।

ইতোমধ্যেই কীটনাশকমুক্ত চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যান্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে সবজির চাষ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতিতে চাষা করা হচ্ছে, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করল্লা। এছাড়াও কৃষকদের নিজ প্রয়োজনে চাষ করছেন-তরমুজ, রঙ্গিন তরমুজ ছাড়াও আরো ৪ জাতের স্কোয়াশ, ৩ জাতের ক্যাপসিক্যাম, লাল ঢেড়স, নতুন নতুন জাতের ফুলকপি, লাল শাক, পাট শাক, সারিসারি পেপের গাছ, টমেটো ইত্যাদি।

পোকামাকড়ের জেনিটিক আচরণের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রংয়ের ফাঁদ আবিস্কার করেছে কৃষি বিভাগ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কীটনাশক মারণাস্ত্র ফেরোমিন, ফাঁদ, নেট হাউজ, মানচিং শিট। পোকামাকড়ের আকৃষ্টকারি হলুদ, লাল, কালো ফাঁদে একধরণের আঠা থাকে। সেই আঠাতে বসলেই পোকামাকড় মারা যায়।

সবজি ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য একটি পাত্রে কেমিক্যালের তৈরি (কৃষকের ভাষায় তাবিজ) ফেরোমিন রাখা হয়। ফেরোমিনে নারী পোকার গন্ধ ছড়ায়। প্রজননের জন্য পুরুষ পোকা আকৃষ্ট হয়ে ফেরোমিনের পাত্রে প্রবেশকরেই পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও মানচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে ফসলে আগাছা হয় না। ক্ষেতে পানিরও সংকট পড়ে না। মানচিং হচ্ছে বপনকৃত বীজের স্থান উন্মুক্ত রেখে বাকি জমি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকলে নেট দিয়ে ক্ষেতের চারদিকে ঢেকে দিতে হয়।

শাহজামাল