শীতলক্ষ্যায় কচুরিপানার জট : আটকা পড়ছে নৌকা, খেয়া পারাপার বন্ধ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ঢেকে পড়েছে কচুরিপানায়। শীতলক্ষ্যা ও সংযুক্ত বানার নদের প্রায় ২০ কি.মি এলাকা কচুরিপানায় ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন ঘাটে খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রানীগঞ্জ এলাকায় কচুরিপানায় আটকে পরার সাড়ে চার ঘন্টা পর ২৩ খেয়াযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি এ নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ বাজার ও একডালা এলাকার দক্ষিণ থেকে শুরু হয়ে রানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর এবং একই ধারায় প্রবাহিত পরবর্তী অংশ বানার নদের টোক বাজার পর্যন্ত নদী পথটি ঘন কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। এর মাঝে সাবানতলা, তারাগঞ্জ বাজার , রানীগঞ্জ বাজার, ইকুরিয়া, সাফাইশ্রী, কাপাসিয়া বাজার, নারায়ণপুর বাজার, দরদরিয়া বাজার, সিংহশ্রী বাজারসহ বিভিন্ন খেয়াঘাটে মাঝিরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করতে পারছেন না। রানীগঞ্জ বাজার খেয়াঘাটের মাঝি মো. দেলোয়ার, মো.সোহেল ও মো. ইব্রাহিম জানান, এই ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উজানের পানির সঙ্গে কচুরিপানা আসতে থাকে। দুপুরের পর ভাটার সময় ¯্রােত না থাকায় অনেকটা স্থির পানিতে এগুলো মারাত্মক ঠাসা আকার ধারণ করে। ফলে এ সময় এ ঘাট দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালানোও অসম্ভব হয়ে উঠে। তারা শীতলক্ষ্যার মাঝখানে রিপন মাঝি ও ফালু মিয়ার দুটি ইঞ্জিন চালিত নৌকার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নৌকা দুটি মোট ২৩ জন যাত্রী নিয়ে দুপুর একটার সময় লাখপুর ঘাট থেকে রানীগঞ্জ আসছিল। বিকেল চারটার সময় প্রখর রোদে মাঝ নদীতে তারা ডাক চিৎকার শুরু করলে এ প্রতিবেদক কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তিনি নদী খনন কাজে নিয়োজিত লোকদের সহায়তায় তিনি তাদের উদ্ধার করেন। তারা আরো জানান গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন বিকেলে একাধিক নৌকা আটকের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এখন বিকেল বেলা খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘাটের নিয়মিত যাত্রী প্রভাষক শফিকুল হক জানান, তিনি গত বুধবার সকালে প্রায় ৫০ মিনিট সময় ব্যয় করে বটতলা থেকে রানীগঞ্জ খেয়াঘাটে এসেছেন। কচুরিপানার কারণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রখর রোদের মাঝে প্রায় চল্লিশ মিনিট সময় নদীতে কাটিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সড়ক পথে প্রায় বিশ কি.মি ঘুরে কাপাসিয়া সদর হয়ে রানীগঞ্জ এসেছেন।

কাপাসিয়া বাজার খেয়া ঘাটের মাঝি মো. মোশারফ হোসেন জানান, গত রমজানের শেষ সময় থেকে কচুরিপানার কারণে এ ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপারে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দুই তিন জন সহযোগী নিয়ে কচুরিপানা ফাঁক করে বহু পথ ঘুরে যাত্রী পারাপার করতে হয়। তীব্র রোদ ও গরমের মাঝে দীর্ঘ সময় যাত্রীরা নদীতে বসে থাকতে কষ্ট হওয়ায় তারা বেশ খানিকটা ঘুরে ফকির মজনু শাহ সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে বর্তমানে উপার্জন কমে যাওয়ায় দুর্মূল্যের এ বাজারে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ ঘাটের নিয়মিত যাত্রী শিক্ষক রুবাইয়া জাহান হ্যাপী জানান, কচুরিপানার কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাম্য সংখ্যক যাত্রী পেলে মাঝিরা নৌকা ছাড়ে। বর্তমানে নদী পার হতেও অনেক সময় লাগে। তাই এখন তরগাঁও থেকে সড়ক পাথে ফকির মজনু শাহ সেতু হয়ে কাপাসিয়া আসেন তিনি।

রানীগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হাই জানান, রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে পাইকারী মালামাল আনতে পারলে পরিবহন খরচ অনেক কম হয়। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারণে নৌপথে মালামাল পরিবহন করতে না পারায় সড়ক পথে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। ফলে কিছতা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়।

কাপাসিয়া সদরের সাফাইশ্রী এলাকার জেলে কালীদাস বর্মন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীতলক্ষ্যা নদীতে এ মৌসুমে দুই তিন মাস কচুরি পানার কারণে মাছ শিকার করতে পারেন না। ফলে তার মতো অন্তত শতাধিক জেলে পরিবার মারাত্মক কষ্টে দিন কাটায়। কচুরিপানার এ সমস্যা দ্রুত নিরসনের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম গোলাম মোর্শেদ খান জানান, নদীতে ¯্রােত না থাকায় এ সময় কচুরিপানা সড়ছে না। এগুলো সড়ানোর মতো পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তেমন কিছুই করার নেই। তবে নদীতে চলমান খনন কাজ শেষে ভবিষ্যতে এগুলো আর আটকে থাকবে না বলে আশা করছেন তিনি।

image

কাপাসিয়া (গাজীপুর) : শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা ঢুকে পড়ায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে -সংবাদ

আরও খবর
উল্লাপাড়ায় শিক্ষকদের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
ঝালকাঠিতে তীব্র দাবদহে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহাখনির কূপ খনন উদ্বোধন
সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আম পাঠাতে প্রস্তুত রেলওয়ে
কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে তিন ভাইবোনের মৃত্যু
নাজিরপুরে ভালো নেই বাঁশ-বেত শিল্পের কারিগররা
মুন্সীগঞ্জে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
মহাদেবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন দোকানির জরিমানা
সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু বাজারে
আড়িয়াল খাঁয় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সোনাইমুড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ , ৩০ বৈশাখ ১৪৩০, ২২ ‍শাওয়াল ১৪৪৪

শীতলক্ষ্যায় কচুরিপানার জট : আটকা পড়ছে নৌকা, খেয়া পারাপার বন্ধ

প্রতিনিধি, কাপাসিয়া (গাজীপুর)

image

কাপাসিয়া (গাজীপুর) : শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা ঢুকে পড়ায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে -সংবাদ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ঢেকে পড়েছে কচুরিপানায়। শীতলক্ষ্যা ও সংযুক্ত বানার নদের প্রায় ২০ কি.মি এলাকা কচুরিপানায় ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন ঘাটে খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রানীগঞ্জ এলাকায় কচুরিপানায় আটকে পরার সাড়ে চার ঘন্টা পর ২৩ খেয়াযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি এ নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ বাজার ও একডালা এলাকার দক্ষিণ থেকে শুরু হয়ে রানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর এবং একই ধারায় প্রবাহিত পরবর্তী অংশ বানার নদের টোক বাজার পর্যন্ত নদী পথটি ঘন কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। এর মাঝে সাবানতলা, তারাগঞ্জ বাজার , রানীগঞ্জ বাজার, ইকুরিয়া, সাফাইশ্রী, কাপাসিয়া বাজার, নারায়ণপুর বাজার, দরদরিয়া বাজার, সিংহশ্রী বাজারসহ বিভিন্ন খেয়াঘাটে মাঝিরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করতে পারছেন না। রানীগঞ্জ বাজার খেয়াঘাটের মাঝি মো. দেলোয়ার, মো.সোহেল ও মো. ইব্রাহিম জানান, এই ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উজানের পানির সঙ্গে কচুরিপানা আসতে থাকে। দুপুরের পর ভাটার সময় ¯্রােত না থাকায় অনেকটা স্থির পানিতে এগুলো মারাত্মক ঠাসা আকার ধারণ করে। ফলে এ সময় এ ঘাট দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালানোও অসম্ভব হয়ে উঠে। তারা শীতলক্ষ্যার মাঝখানে রিপন মাঝি ও ফালু মিয়ার দুটি ইঞ্জিন চালিত নৌকার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নৌকা দুটি মোট ২৩ জন যাত্রী নিয়ে দুপুর একটার সময় লাখপুর ঘাট থেকে রানীগঞ্জ আসছিল। বিকেল চারটার সময় প্রখর রোদে মাঝ নদীতে তারা ডাক চিৎকার শুরু করলে এ প্রতিবেদক কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তিনি নদী খনন কাজে নিয়োজিত লোকদের সহায়তায় তিনি তাদের উদ্ধার করেন। তারা আরো জানান গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন বিকেলে একাধিক নৌকা আটকের ঘটনা ঘটেছে। ফলে এখন বিকেল বেলা খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘাটের নিয়মিত যাত্রী প্রভাষক শফিকুল হক জানান, তিনি গত বুধবার সকালে প্রায় ৫০ মিনিট সময় ব্যয় করে বটতলা থেকে রানীগঞ্জ খেয়াঘাটে এসেছেন। কচুরিপানার কারণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় প্রখর রোদের মাঝে প্রায় চল্লিশ মিনিট সময় নদীতে কাটিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সড়ক পথে প্রায় বিশ কি.মি ঘুরে কাপাসিয়া সদর হয়ে রানীগঞ্জ এসেছেন।

কাপাসিয়া বাজার খেয়া ঘাটের মাঝি মো. মোশারফ হোসেন জানান, গত রমজানের শেষ সময় থেকে কচুরিপানার কারণে এ ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপারে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দুই তিন জন সহযোগী নিয়ে কচুরিপানা ফাঁক করে বহু পথ ঘুরে যাত্রী পারাপার করতে হয়। তীব্র রোদ ও গরমের মাঝে দীর্ঘ সময় যাত্রীরা নদীতে বসে থাকতে কষ্ট হওয়ায় তারা বেশ খানিকটা ঘুরে ফকির মজনু শাহ সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে বর্তমানে উপার্জন কমে যাওয়ায় দুর্মূল্যের এ বাজারে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ ঘাটের নিয়মিত যাত্রী শিক্ষক রুবাইয়া জাহান হ্যাপী জানান, কচুরিপানার কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় ঘাটে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাম্য সংখ্যক যাত্রী পেলে মাঝিরা নৌকা ছাড়ে। বর্তমানে নদী পার হতেও অনেক সময় লাগে। তাই এখন তরগাঁও থেকে সড়ক পাথে ফকির মজনু শাহ সেতু হয়ে কাপাসিয়া আসেন তিনি।

রানীগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হাই জানান, রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে পাইকারী মালামাল আনতে পারলে পরিবহন খরচ অনেক কম হয়। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানার কারণে নৌপথে মালামাল পরিবহন করতে না পারায় সড়ক পথে মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। ফলে কিছতা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়।

কাপাসিয়া সদরের সাফাইশ্রী এলাকার জেলে কালীদাস বর্মন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীতলক্ষ্যা নদীতে এ মৌসুমে দুই তিন মাস কচুরি পানার কারণে মাছ শিকার করতে পারেন না। ফলে তার মতো অন্তত শতাধিক জেলে পরিবার মারাত্মক কষ্টে দিন কাটায়। কচুরিপানার এ সমস্যা দ্রুত নিরসনের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম গোলাম মোর্শেদ খান জানান, নদীতে ¯্রােত না থাকায় এ সময় কচুরিপানা সড়ছে না। এগুলো সড়ানোর মতো পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তেমন কিছুই করার নেই। তবে নদীতে চলমান খনন কাজ শেষে ভবিষ্যতে এগুলো আর আটকে থাকবে না বলে আশা করছেন তিনি।