নাজিরপুরে ভালো নেই বাঁশ-বেত শিল্পের কারিগররা

বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এ শিল্পটি। গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে এমনকি অফিস-আদালতসহ সবখানেই ব্যবহার করত বাঁশ ও বেতের তৈরি সরঞ্জামাদি। বর্তমানে সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই।

পিরোজপুরের নাজিরপুরে একসময় ঐতিহ্যবাহী ছিল বাঁশ ও বেতশিল্প। জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস ছিল এ শিল্প। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে শিল্পটি। দিন দিন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত দিনমজুর কারিগররা। তবুও বাপ-দাদার এ পেশাকে এখনও ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছে কিছু সংখ্যক পরিবার।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার দেউলবাড়ি, মালিখালি, শেখমাটিয়া ইউনিয়নের ২৫-৩০টি পরিবার বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি ধরে রেখেছেন। এসব পরিবার গুলোর পুরুষদের পাশাপাশি সংসারের কাজ শেষ করে নারী কারিগরেরাও বাঁশ দিয়ে নানারকম পণ্য তৈরি করছেন। বর্তমানে বেত তেমন সহজ লভ্য না হওয়ায় কারিগরেরা বাঁশ দিয়েই বেশি তৈরী করছেন এই সব চিরচেনা পণ্য। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আজ অনেক পরিবারই বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে আধুনিতার যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আর্কষনীয় বিভিন্ন প্লাষ্টিক পণ্য ও আন্যান্য দ্রব্য মূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ভাবে আসা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বাপ-দাদার এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আজ তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দিন দিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের মূল্য যে ভাবে বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য, যার কারণে কারিগররা জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের বাঁশ শিল্পের কারিগর সুদেপ চন্দ্র ঘোষাল জানান,বাপদাদার এ পেশাকে ধরে এখনো বেঁচে আছি। এখান থেকে যেটুকু আয় হয় তা দিয়েই পরিবার চালাই। এক সময় ২০ থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি বাঁশ কেনা যেত এখন সেই বাঁশ কিনতে হচ্ছে আড়াইশ থেকে তিনশত টাকায়। সেই সঙ্গে বাড়েনি বাঁশের তৈরী এসব পণ্যের দাম। জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ ঘর বাড়ী নির্মাণে যে পরিমান বাঁশের প্রয়োজন সে পরিমান বাঁশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আমার টাকা পয়সা কম, তাই বেশি করে বাঁশ কিনতে পারি না। ছোট একটা থাকার ঘর ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। সরকারি ভাবে যদি এই কাজের জন্য কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পেতাম তাহলে কিছুটা হলেও এই শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারতাম এবং শিল্পটাকে ধরে রাখতাম। ছেলে মেয়েরে ভালো করে পড়া লেখা করাতে পারতাম।

উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের শিংখালি ও পাকুরিয়ার নারী কারিগর সপ্না বারুই, শীলা, হরপ্রসাদ, বিজনদাস সহ অনেকে বলেন, আমরা হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও এ কাজে নিয়োজিত আছি। একটি বাঁশ থেকে ১০-১২টি ডালি তৈরি হয়। সবাই খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য থেকে ১৫-২০টাকা করে লাভ থাকে। এখন আগের মত আর বেশি লাভ হয় না। তাই এই সীমিত লাভ দিয়ে পরিবার চালানো অতি কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা নিজেরাই বিভিন্ন হাটে গিয়ে ও গ্রামে গ্রামে ফেরি করে এই সব পণ্য বিক্রয় করে থাকি। সরকারি ভাবে যদি আমরা সহোযোগিতা পাই তাহলে আমরা এ প্রাচীন শিল্পকে বাঁচাতে পারবো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহবুব বলেন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। এটা আমাদের পিরোজপুরে চালু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এটা এখন চালু হয়নি। আমরা কিছু মানুষকে অনলাইনে আবেদনও করিয়েছি এবং এটা প্রক্রিয়াধীন। যখন চালু হবে তখন তাদের জন্য এককালীন অনুদান এবং প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করা হবে।

image

নাজিপুর (পিরোজপুর) : বাঁশের টুকরি তৈরি করছেন এক কারিগর -সংবাদ

আরও খবর
শীতলক্ষ্যায় কচুরিপানার জট : আটকা পড়ছে নৌকা, খেয়া পারাপার বন্ধ
উল্লাপাড়ায় শিক্ষকদের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
ঝালকাঠিতে তীব্র দাবদহে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী
দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহাখনির কূপ খনন উদ্বোধন
সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আম পাঠাতে প্রস্তুত রেলওয়ে
কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে তিন ভাইবোনের মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
মহাদেবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন দোকানির জরিমানা
সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু বাজারে
আড়িয়াল খাঁয় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সোনাইমুড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ , ৩০ বৈশাখ ১৪৩০, ২২ ‍শাওয়াল ১৪৪৪

নাজিরপুরে ভালো নেই বাঁশ-বেত শিল্পের কারিগররা

প্রতিনিধি, নাজিরপুর (পিরোজপুর)

image

নাজিপুর (পিরোজপুর) : বাঁশের টুকরি তৈরি করছেন এক কারিগর -সংবাদ

বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এ শিল্পটি। গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে এমনকি অফিস-আদালতসহ সবখানেই ব্যবহার করত বাঁশ ও বেতের তৈরি সরঞ্জামাদি। বর্তমানে সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই।

পিরোজপুরের নাজিরপুরে একসময় ঐতিহ্যবাহী ছিল বাঁশ ও বেতশিল্প। জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস ছিল এ শিল্প। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে শিল্পটি। দিন দিন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত দিনমজুর কারিগররা। তবুও বাপ-দাদার এ পেশাকে এখনও ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছে কিছু সংখ্যক পরিবার।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার দেউলবাড়ি, মালিখালি, শেখমাটিয়া ইউনিয়নের ২৫-৩০টি পরিবার বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি ধরে রেখেছেন। এসব পরিবার গুলোর পুরুষদের পাশাপাশি সংসারের কাজ শেষ করে নারী কারিগরেরাও বাঁশ দিয়ে নানারকম পণ্য তৈরি করছেন। বর্তমানে বেত তেমন সহজ লভ্য না হওয়ায় কারিগরেরা বাঁশ দিয়েই বেশি তৈরী করছেন এই সব চিরচেনা পণ্য। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে আজ অনেক পরিবারই বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে আধুনিতার যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আর্কষনীয় বিভিন্ন প্লাষ্টিক পণ্য ও আন্যান্য দ্রব্য মূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব শিল্পের কারিগররা তাদের পূর্ব পুরুষের পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ভাবে আসা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বাপ-দাদার এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আজ তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দিন দিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের মূল্য যে ভাবে বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য, যার কারণে কারিগররা জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের বাঁশ শিল্পের কারিগর সুদেপ চন্দ্র ঘোষাল জানান,বাপদাদার এ পেশাকে ধরে এখনো বেঁচে আছি। এখান থেকে যেটুকু আয় হয় তা দিয়েই পরিবার চালাই। এক সময় ২০ থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি বাঁশ কেনা যেত এখন সেই বাঁশ কিনতে হচ্ছে আড়াইশ থেকে তিনশত টাকায়। সেই সঙ্গে বাড়েনি বাঁশের তৈরী এসব পণ্যের দাম। জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ ঘর বাড়ী নির্মাণে যে পরিমান বাঁশের প্রয়োজন সে পরিমান বাঁশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আমার টাকা পয়সা কম, তাই বেশি করে বাঁশ কিনতে পারি না। ছোট একটা থাকার ঘর ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। সরকারি ভাবে যদি এই কাজের জন্য কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পেতাম তাহলে কিছুটা হলেও এই শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারতাম এবং শিল্পটাকে ধরে রাখতাম। ছেলে মেয়েরে ভালো করে পড়া লেখা করাতে পারতাম।

উপজেলার মালিখালি ইউনিয়নের শিংখালি ও পাকুরিয়ার নারী কারিগর সপ্না বারুই, শীলা, হরপ্রসাদ, বিজনদাস সহ অনেকে বলেন, আমরা হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও এ কাজে নিয়োজিত আছি। একটি বাঁশ থেকে ১০-১২টি ডালি তৈরি হয়। সবাই খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য থেকে ১৫-২০টাকা করে লাভ থাকে। এখন আগের মত আর বেশি লাভ হয় না। তাই এই সীমিত লাভ দিয়ে পরিবার চালানো অতি কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা নিজেরাই বিভিন্ন হাটে গিয়ে ও গ্রামে গ্রামে ফেরি করে এই সব পণ্য বিক্রয় করে থাকি। সরকারি ভাবে যদি আমরা সহোযোগিতা পাই তাহলে আমরা এ প্রাচীন শিল্পকে বাঁচাতে পারবো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহবুব বলেন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। এটা আমাদের পিরোজপুরে চালু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এটা এখন চালু হয়নি। আমরা কিছু মানুষকে অনলাইনে আবেদনও করিয়েছি এবং এটা প্রক্রিয়াধীন। যখন চালু হবে তখন তাদের জন্য এককালীন অনুদান এবং প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা করা হবে।