বেরোবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ভাঙচুর : আহত ১০

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এদের মধ্যে নিলয় নামে এক শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর গোলাম রব্বানী সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করে বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ মে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী (সেক্রেটারি গ্রুপ) তানজিল পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারকে মারতে যায়। পরে মাঠ থেকে ফেরার পথে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি গ্রুপের কিছু ছাত্রলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা করে। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শামীম বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। এরপর গত ৯ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে ছাত্রলীগ কর্মী তানজিলের নেতৃত্বে সেক্রেটারি গ্রুপের ৮/১০ জন সভাপতি গ্রুপের কর্মী তরুন রায়ের ওপর অতর্কিত হামালা চালায়। পরে আবারো এ ঘটনার মীমাংসা করে দেয় ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শামীম।

এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সর্দার পাড়াতে তরুন রায়ের নেতৃত্বে সভাপতি গ্রুপের ৮/১০ জন সেক্রেটারি গ্রুপের রেজওয়ানুল ইসলাম নিলয়ের ওপর হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে নিলয় পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় নিলয়কে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও সেক্রেটারি গ্রুপের কর্মীরা শহীদ মুখতার ইলাহি হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বঙ্গবন্ধু হলে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করা হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র উপদেষ্টা, বহিরাঙ্গন পরিচালক ও হল প্রভোস্টদ্বয় উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়–য়ার সমর্থকরা বঙ্গবন্ধু হল আর সাধারণ সম্পাদক শামীমের সমর্থকরা শহীদ মোখতার এলাহি হল নিয়ন্ত্রণ করে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান রাতে অবস্থা খুব খারাপ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন সংঘর্ষের সময় বঙ্গবন্ধু হলের জানালার বেশ কিছু গ্লাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা দায়ীদের চিহ্নিত করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেট্রোপলিটান তাজহাট থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়রি করা হয়নি। এ ব্যাপারে তাজহাট থানার ওসি নাজমুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপিত পামেল বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক শামীমের সঙ্গে শুক্রবার সকালে ও বিকেল সাড়ে ৫টায় তাদের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও দুই জনেই ফোন রিসিভ করেননি।

শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ , ৩০ বৈশাখ ১৪৩০, ২২ ‍শাওয়াল ১৪৪৪

বেরোবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ভাঙচুর : আহত ১০

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক রংপুর

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এদের মধ্যে নিলয় নামে এক শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর গোলাম রব্বানী সংঘর্ষের ঘটনা স্বীকার করে বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ মে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী (সেক্রেটারি গ্রুপ) তানজিল পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারকে মারতে যায়। পরে মাঠ থেকে ফেরার পথে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি গ্রুপের কিছু ছাত্রলীগ কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটে ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা করে। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শামীম বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। এরপর গত ৯ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে ছাত্রলীগ কর্মী তানজিলের নেতৃত্বে সেক্রেটারি গ্রুপের ৮/১০ জন সভাপতি গ্রুপের কর্মী তরুন রায়ের ওপর অতর্কিত হামালা চালায়। পরে আবারো এ ঘটনার মীমাংসা করে দেয় ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শামীম।

এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সর্দার পাড়াতে তরুন রায়ের নেতৃত্বে সভাপতি গ্রুপের ৮/১০ জন সেক্রেটারি গ্রুপের রেজওয়ানুল ইসলাম নিলয়ের ওপর হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে নিলয় পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় নিলয়কে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও সেক্রেটারি গ্রুপের কর্মীরা শহীদ মুখতার ইলাহি হলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বঙ্গবন্ধু হলে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করা হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র উপদেষ্টা, বহিরাঙ্গন পরিচালক ও হল প্রভোস্টদ্বয় উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়–য়ার সমর্থকরা বঙ্গবন্ধু হল আর সাধারণ সম্পাদক শামীমের সমর্থকরা শহীদ মোখতার এলাহি হল নিয়ন্ত্রণ করে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান রাতে অবস্থা খুব খারাপ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন সংঘর্ষের সময় বঙ্গবন্ধু হলের জানালার বেশ কিছু গ্লাস ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা দায়ীদের চিহ্নিত করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেট্রোপলিটান তাজহাট থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়রি করা হয়নি। এ ব্যাপারে তাজহাট থানার ওসি নাজমুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপিত পামেল বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক শামীমের সঙ্গে শুক্রবার সকালে ও বিকেল সাড়ে ৫টায় তাদের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও দুই জনেই ফোন রিসিভ করেননি।