টেলিটক : পুরনো সমস্যা, নতুন উদ্যোগ

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক। সেই সময় থেকে যতটা না সেবা দিতে পেরেছে তার চেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে এই সরকারি অপারেটর। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের আঙুল এই অপারেটরের দিকে।

গত তিন, চার বছরে এই অপারেটরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে আছেÑ ১৬৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারের পাওনা, বিভিন্ন জেলায় টেলিটকের টাওয়ার ভাড়ায় ‘দুর্নীতি’, দরপত্র ছাড়াই মার্কেটিং বিভাগে শতকরা ৯০ ভাগ ক্রয় আর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে গত ৩ বছরে প্রায় ৩৪২ কেটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম ডি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন একেএম হাবিবুর রহমান।

এসব অব্যবস্থাপনা ও অভিযোগ নিয়ে এই সরকারি কর্মকর্তা কতটা স্বস্তিতে আছেন জানতে চাইলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘স্বস্তির একটু ঘাটতি তো আছেই। টেলিটক নিয়ে অনেক অভিযোগ ভেতরে ও বাইরে। এই অভিযোগ থেকে টেলিটককে মুক্ত করাই এখন আমার চ্যালেঞ্জ।’

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করছেন জানতে চাইলে তিনি তার অফিস কক্ষে স্তূপ করা ফাইল দেখিয়ে বলেন, ‘কারো কাছে কোন ফাইল ১ দিনের বেশি রাখা যাবে না। অতীতে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো। যে কাজটা কয়েক ঘণ্টার, সে কাজ করেত মাস পেরিয়ে যেতো, তা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

‘প্রথম নিজের ঘর থেকেই শুরু করেছি। ফাইল দিয়ে আমার রুমের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে আমাকে কয়েকজন বলেছে, আমার এই সৌন্দর্যের প্রয়োজন নাই। ফাইল দিয়ে আমার মুখ ঢেকে যাক, কিন্তু কোন ফাইল নিয়ে দিনের পর দিন রেখে দেয়া এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার ৮ মাস পার করলাম। এই ৮ মাসে টেলিটকের নেটওয়ার্ক এবং ফিন্যান্সিয়াল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে প্রথম ঠিক করেছি খরচটাকে নিয়ন্ত্রণ করা। আশা করছি এ অর্থ বছরের তুলনায় আগামী অর্থ বছরে খরচ অনেক কমে যাবে বা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন উদ্যোগ হচ্ছে রেভিনিউ কীভাবে বাড়ানো যায়।’

খরচ কীভাবে কমাবেন এই প্রশ্নে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার মধ্যে বাড়ি ভাড়া মানে ছাদ ভাড়া আমাদের একটা বড় খরচ। সাড়ে তিন হাজারের ওপর আমাদের নিজেদের টাওয়ার আছে। ছাদ ভাড়া করে টাওয়ার বসানো হয়েছে। কিছু আছে শেয়ার সাইট, পাওয়ার কোম্পানির কাছে ভাড়া নিচ্ছি। চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তিগুলো রিনিউ করতে হচ্ছে।

‘এই ছাদ ভাড়া নিতে আগে এর ফিজিবিলিটি বা সক্ষমতা না দেখেই ছাদ ভাড়া নেয়া হতো। অর্থাৎ আমি যেখানে টাওয়ার বসানোর জন্য ছাদ ভাড়া করছি সেখানে আমাদের নেটওয়ার্ক কতটুকু কাজ করছে। সেখান থেকে আমাদের আউটপুট কতটুকু আসবে এসব যাচাই করেই ছাদ ভাড়া নেয়ার জন্য আমি পদক্ষেপ নিয়েছি।

আরেকটা বিষয় হলো সাধারণত আমরা ১০ বছরের চুক্তিতে ছাদ ভাড়া নিয়ে থাকি। পাঁচ বছর পর অটোমেটিক ২০ পার্সেন্ট হারে রিনিউ হয়ে যেতো। যা আমি বন্ধ করেছি। ভাড়া কমিয়ে দিয়েছি। আমাদের সাধারণ মানুষ দেশকে ভালোবাসে। তাদেরকে গিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা যায় তারা বোঝে।

‘আগে যেখানে ২০ পার্সেন্ট বাড়ানো হয়েছিল সেখানে বুঝিয়ে বলার পর ১৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট পর্যন্ত কমানো গেছে। এটা যদিও নগণ্য তারপরও কিছুক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা যে রেটে চলছিল সেখান থেকেও ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে।

‘আমার এটা সরকারি কোম্পানি, বিদেশি কোম্পানির মতো এত ছাদ ভাড়া দিতে পারবো না। দু-একটা ফেইল করেছে হয়তো, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাকসেস হয়েছে। ভাড়া বাড়াতে হলে দেখতে হবে ওই সাইট থেকে প্রতি মাসে কত টাকা আয় হয় কত টাকা ব্যয় হয়।’

‘ইন হাউজ হিউম্যান ইফিসিয়েন্সি বাড়ানোর জন্য কিছু প্রসেস সিম্পলিফিকেশন’ করছেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কুইক ডিসিশন নেয়া যায় এ জন্য সবার সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকগুলো করছি। এখানকার প্রসেসগুলো লেনদি, রিপিটেশন আছে কিছু। এখানকার লোকজন ফাইল ওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি চাচ্ছি স্টেপস কমিয়ে ... একটা ফাইল দুইবার যেন না যায়। একটা ইস্যু নিয়ে মাসে পাঁচবার যেত, তা যেন একবারই হয়। এ বিষয়গুলো খেয়াল করলে টেলিটকের ঝিমিয়ে পড়া দূর করা সম্ভব। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

টেলিটকের মার্কেটিং নিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সঠিক মার্কেটিং করা হয়নি এটা সত্যি। আসলে এর পিছনে একটা যুক্তি আছে, সেটা হলো মার্কেটিংয়ে খরচ করবো, কিন্তু এই খরচ তুলে আনবো কীভাবে। ফিডব্যাক যদি না আসে এটা ভাবতে ভাবতেই সেভাবে কোন প্রচার হয়নি। এ বছরের জুলাইয়ে আশা করি প্রচারে যাবো। আর মার্চ থেকে জুন এই চার মাসের জন্য একটা প্ল্যান করেছি।

‘প্ল্যানগুলো মূলত, ডিজিটাল প্রচার, সোস্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন এবং প্রিন্ট মিডিয়া এদেরকে নিয়ে। ইভেন্টে যাবো আগামী বছর। আসলে প্রচারে এগিয়ে থাকতে হবে। সময়টা এখন প্রচারের, টেলিটক অনেক পিছিয়ে।’

ফাইভ জি নিয়ে টেলিটকের বর্তমান পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফোরজি যদি ঠিকভাবে পাই, তাহলে ফাইভজির এই মুহূর্তে দরকার নাই। সবাই বলে ফাইভ জি’র যে ক্যারেক্টারিস্টিক যে গতি এটা সাধারণ মানুষের খুব একটা দরকার নাই। অন্তত এই মুহূর্তে নাই। ফোরজিই তো আমরা সঠিকভাবে দিতে পারছি না।

ফাইভ জি’র দরকার কোথায় কমার্শিয়াল জায়গায়, রোবট চালাতে হবে, বিশাল ফ্যাক্টরি আছে এমন জায়গায়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পারপাস সার্ভ করার জন্য ফাইভ জি দরকার। আমাদের যে গ্রাহক তাদের তো কাভারেজে আনতে পারছি না।’

‘কোন জেলায় শতভাগ কাভারেজ নাই, ঢাকায় ৮০ বা ৮৮ ভাগ আছে। এই ফোর জি’র কাভারেজ যেখানে দিতে পারছি না সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ফাইভ জি দেয়ার কথা কেন ভাববো। এটা টেলিটকের জন্য বিলাসিতা,’ বলেন তিনি।

নেটওয়ার্ককে সবল করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাই সমাধানের দিকে যাওয়া সহজ হবে।

কী ধরনের সমস্যা জানতে চাইলে বলেন, ‘সবাই জানে টেলিটকের ইনভেস্টমেন্ট কম, টেলিটকের টাওয়ার নাই এটাও জানে। কারেন্ট চলে গেলে নেটওয়ার্ক চলে যায়, কারণ আমাদের পাওয়ার ব্যাকআপ নাই। কারেন্ট চলে গেলে নেটওয়ার্ক থাকে না তা সেই জায়গাগুলো বের করছি।

‘আবার ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে অনেকে বলে লোক পাই না। সিম পাওয়া যায় না। সেগুলো দেখছি। ডিস্ট্রিবিউটরদের সমস্যাগুলো শুনছি। সিম নাই, সিমের ক্রাইসিস আছে। তা খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো যে সিম আগে ১৭-১৮ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ৭০ টাকা হয়েছে। ‘এরই মধ্যে একবার টেন্ডার করেছি, একজন মাত্র টেন্ডার ফেলছে সে ১২৫ টাকা চায়। আমাদের জন্য অনেক বেশি। সেটা বাতিল করে আবার টেন্ডারে ফেলেছি তখন দুজন ফেলেছে। দুজনের মধ্যে যে কম চেয়েছে (৭০ টাকা) তার কাছ থেকে পরে কিনেছি।

‘এখন অনেকেই বলতে পারে অন্যরা পথেঘাটে বিক্রি করছে তাহলে আপনাদের এত ক্রাইসিস কেন। তাদের সামর্থ্যরে সঙ্গে আমাদের সামর্থ্য মিলালে চলবে না। কারণ, তাদের ইনভেস্টমেন্ট। যার ৭-৮ কোটি গ্রাহক তাদের তো প্লান থাকে তাদের কতটা সামাল দিতে হবে।

‘কাস্টমার (গ্রাহক) বড়ানোর চাইতে যারা আমাদের কাস্টমার তাদের ধরে রাখার চেষ্টা এখন আমাদের। কাস্টমার স্টেবল করলে এমনিতেই বেড়ে যাবে গ্রাহক সংখ্যা,’ বলেন টেলিটকের এম ডি হাবিবুর রহমান।

রবিবার, ১৪ মে ২০২৩ , ৩১ বৈশাখ ১৪৩০, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৪

টেলিটক : পুরনো সমস্যা, নতুন উদ্যোগ

জাহিদা পারভেজ ছন্দা

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক। সেই সময় থেকে যতটা না সেবা দিতে পেরেছে তার চেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে এই সরকারি অপারেটর। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের আঙুল এই অপারেটরের দিকে।

গত তিন, চার বছরে এই অপারেটরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে আছেÑ ১৬৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারের পাওনা, বিভিন্ন জেলায় টেলিটকের টাওয়ার ভাড়ায় ‘দুর্নীতি’, দরপত্র ছাড়াই মার্কেটিং বিভাগে শতকরা ৯০ ভাগ ক্রয় আর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে গত ৩ বছরে প্রায় ৩৪২ কেটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের আগস্ট মাসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম ডি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন একেএম হাবিবুর রহমান।

এসব অব্যবস্থাপনা ও অভিযোগ নিয়ে এই সরকারি কর্মকর্তা কতটা স্বস্তিতে আছেন জানতে চাইলে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘স্বস্তির একটু ঘাটতি তো আছেই। টেলিটক নিয়ে অনেক অভিযোগ ভেতরে ও বাইরে। এই অভিযোগ থেকে টেলিটককে মুক্ত করাই এখন আমার চ্যালেঞ্জ।’

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করছেন জানতে চাইলে তিনি তার অফিস কক্ষে স্তূপ করা ফাইল দেখিয়ে বলেন, ‘কারো কাছে কোন ফাইল ১ দিনের বেশি রাখা যাবে না। অতীতে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো। যে কাজটা কয়েক ঘণ্টার, সে কাজ করেত মাস পেরিয়ে যেতো, তা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

‘প্রথম নিজের ঘর থেকেই শুরু করেছি। ফাইল দিয়ে আমার রুমের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে আমাকে কয়েকজন বলেছে, আমার এই সৌন্দর্যের প্রয়োজন নাই। ফাইল দিয়ে আমার মুখ ঢেকে যাক, কিন্তু কোন ফাইল নিয়ে দিনের পর দিন রেখে দেয়া এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার ৮ মাস পার করলাম। এই ৮ মাসে টেলিটকের নেটওয়ার্ক এবং ফিন্যান্সিয়াল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে প্রথম ঠিক করেছি খরচটাকে নিয়ন্ত্রণ করা। আশা করছি এ অর্থ বছরের তুলনায় আগামী অর্থ বছরে খরচ অনেক কমে যাবে বা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন উদ্যোগ হচ্ছে রেভিনিউ কীভাবে বাড়ানো যায়।’

খরচ কীভাবে কমাবেন এই প্রশ্নে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার মধ্যে বাড়ি ভাড়া মানে ছাদ ভাড়া আমাদের একটা বড় খরচ। সাড়ে তিন হাজারের ওপর আমাদের নিজেদের টাওয়ার আছে। ছাদ ভাড়া করে টাওয়ার বসানো হয়েছে। কিছু আছে শেয়ার সাইট, পাওয়ার কোম্পানির কাছে ভাড়া নিচ্ছি। চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। চুক্তিগুলো রিনিউ করতে হচ্ছে।

‘এই ছাদ ভাড়া নিতে আগে এর ফিজিবিলিটি বা সক্ষমতা না দেখেই ছাদ ভাড়া নেয়া হতো। অর্থাৎ আমি যেখানে টাওয়ার বসানোর জন্য ছাদ ভাড়া করছি সেখানে আমাদের নেটওয়ার্ক কতটুকু কাজ করছে। সেখান থেকে আমাদের আউটপুট কতটুকু আসবে এসব যাচাই করেই ছাদ ভাড়া নেয়ার জন্য আমি পদক্ষেপ নিয়েছি।

আরেকটা বিষয় হলো সাধারণত আমরা ১০ বছরের চুক্তিতে ছাদ ভাড়া নিয়ে থাকি। পাঁচ বছর পর অটোমেটিক ২০ পার্সেন্ট হারে রিনিউ হয়ে যেতো। যা আমি বন্ধ করেছি। ভাড়া কমিয়ে দিয়েছি। আমাদের সাধারণ মানুষ দেশকে ভালোবাসে। তাদেরকে গিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা যায় তারা বোঝে।

‘আগে যেখানে ২০ পার্সেন্ট বাড়ানো হয়েছিল সেখানে বুঝিয়ে বলার পর ১৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট পর্যন্ত কমানো গেছে। এটা যদিও নগণ্য তারপরও কিছুক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা যে রেটে চলছিল সেখান থেকেও ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে।

‘আমার এটা সরকারি কোম্পানি, বিদেশি কোম্পানির মতো এত ছাদ ভাড়া দিতে পারবো না। দু-একটা ফেইল করেছে হয়তো, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাকসেস হয়েছে। ভাড়া বাড়াতে হলে দেখতে হবে ওই সাইট থেকে প্রতি মাসে কত টাকা আয় হয় কত টাকা ব্যয় হয়।’

‘ইন হাউজ হিউম্যান ইফিসিয়েন্সি বাড়ানোর জন্য কিছু প্রসেস সিম্পলিফিকেশন’ করছেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কুইক ডিসিশন নেয়া যায় এ জন্য সবার সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকগুলো করছি। এখানকার প্রসেসগুলো লেনদি, রিপিটেশন আছে কিছু। এখানকার লোকজন ফাইল ওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি চাচ্ছি স্টেপস কমিয়ে ... একটা ফাইল দুইবার যেন না যায়। একটা ইস্যু নিয়ে মাসে পাঁচবার যেত, তা যেন একবারই হয়। এ বিষয়গুলো খেয়াল করলে টেলিটকের ঝিমিয়ে পড়া দূর করা সম্ভব। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

টেলিটকের মার্কেটিং নিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সঠিক মার্কেটিং করা হয়নি এটা সত্যি। আসলে এর পিছনে একটা যুক্তি আছে, সেটা হলো মার্কেটিংয়ে খরচ করবো, কিন্তু এই খরচ তুলে আনবো কীভাবে। ফিডব্যাক যদি না আসে এটা ভাবতে ভাবতেই সেভাবে কোন প্রচার হয়নি। এ বছরের জুলাইয়ে আশা করি প্রচারে যাবো। আর মার্চ থেকে জুন এই চার মাসের জন্য একটা প্ল্যান করেছি।

‘প্ল্যানগুলো মূলত, ডিজিটাল প্রচার, সোস্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন এবং প্রিন্ট মিডিয়া এদেরকে নিয়ে। ইভেন্টে যাবো আগামী বছর। আসলে প্রচারে এগিয়ে থাকতে হবে। সময়টা এখন প্রচারের, টেলিটক অনেক পিছিয়ে।’

ফাইভ জি নিয়ে টেলিটকের বর্তমান পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফোরজি যদি ঠিকভাবে পাই, তাহলে ফাইভজির এই মুহূর্তে দরকার নাই। সবাই বলে ফাইভ জি’র যে ক্যারেক্টারিস্টিক যে গতি এটা সাধারণ মানুষের খুব একটা দরকার নাই। অন্তত এই মুহূর্তে নাই। ফোরজিই তো আমরা সঠিকভাবে দিতে পারছি না।

ফাইভ জি’র দরকার কোথায় কমার্শিয়াল জায়গায়, রোবট চালাতে হবে, বিশাল ফ্যাক্টরি আছে এমন জায়গায়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পারপাস সার্ভ করার জন্য ফাইভ জি দরকার। আমাদের যে গ্রাহক তাদের তো কাভারেজে আনতে পারছি না।’

‘কোন জেলায় শতভাগ কাভারেজ নাই, ঢাকায় ৮০ বা ৮৮ ভাগ আছে। এই ফোর জি’র কাভারেজ যেখানে দিতে পারছি না সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ফাইভ জি দেয়ার কথা কেন ভাববো। এটা টেলিটকের জন্য বিলাসিতা,’ বলেন তিনি।

নেটওয়ার্ককে সবল করার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাই সমাধানের দিকে যাওয়া সহজ হবে।

কী ধরনের সমস্যা জানতে চাইলে বলেন, ‘সবাই জানে টেলিটকের ইনভেস্টমেন্ট কম, টেলিটকের টাওয়ার নাই এটাও জানে। কারেন্ট চলে গেলে নেটওয়ার্ক চলে যায়, কারণ আমাদের পাওয়ার ব্যাকআপ নাই। কারেন্ট চলে গেলে নেটওয়ার্ক থাকে না তা সেই জায়গাগুলো বের করছি।

‘আবার ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে অনেকে বলে লোক পাই না। সিম পাওয়া যায় না। সেগুলো দেখছি। ডিস্ট্রিবিউটরদের সমস্যাগুলো শুনছি। সিম নাই, সিমের ক্রাইসিস আছে। তা খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো যে সিম আগে ১৭-১৮ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ৭০ টাকা হয়েছে। ‘এরই মধ্যে একবার টেন্ডার করেছি, একজন মাত্র টেন্ডার ফেলছে সে ১২৫ টাকা চায়। আমাদের জন্য অনেক বেশি। সেটা বাতিল করে আবার টেন্ডারে ফেলেছি তখন দুজন ফেলেছে। দুজনের মধ্যে যে কম চেয়েছে (৭০ টাকা) তার কাছ থেকে পরে কিনেছি।

‘এখন অনেকেই বলতে পারে অন্যরা পথেঘাটে বিক্রি করছে তাহলে আপনাদের এত ক্রাইসিস কেন। তাদের সামর্থ্যরে সঙ্গে আমাদের সামর্থ্য মিলালে চলবে না। কারণ, তাদের ইনভেস্টমেন্ট। যার ৭-৮ কোটি গ্রাহক তাদের তো প্লান থাকে তাদের কতটা সামাল দিতে হবে।

‘কাস্টমার (গ্রাহক) বড়ানোর চাইতে যারা আমাদের কাস্টমার তাদের ধরে রাখার চেষ্টা এখন আমাদের। কাস্টমার স্টেবল করলে এমনিতেই বেড়ে যাবে গ্রাহক সংখ্যা,’ বলেন টেলিটকের এম ডি হাবিবুর রহমান।