একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে ‘কার্বন কর’

একাধিক গাড়ি থাকলেই বাড়তি করের আওতৃায় আসবে সেই গাড়ি। ‘কার্বন কর’ নামে অবিহিত হবে এই কর। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটেই এই ‘কার্বন কর’র প্রস্তাব আসতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। সরকারের বাড়তি করের যোগান, কার্বন নিঃসরণ কমানো, শহরের যানজট সমস্যার নিরসন এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী অর্থবছর থেকেই প্রথমবারের মতো এ ‘কার্বন কর’ চালুর চিন্তা করছে সরকার।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এতে বলা হয়, এই কর ব্যবস্থার ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের উন্নয়ন অভীষ্ট বড় হচ্ছে। এ সময় কর বৃদ্ধির নানা রকম উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে; কর নেট সম্প্রসারণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কার্যত দৃশ্যমান ফল আসছে না। নতুন করে যোগ হয়েছে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ।

এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজস্ব আদায়ের নতুন ক্ষেত্রের সন্ধানে এনবিআর। এ চিন্তা থেকেই রাজস্ব বাড়াতে নতুন ক্ষেত্রের চিন্তাভাবনা। সর্বোচ্চ ইঞ্জিন সক্ষমতার গাড়ির ভিত্তিতে কার্বন করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ একাধিক গাড়ি থাকলে যে গাড়ির সিসি ক্ষমতা বেশি হবে, সেটির ওপর কার্বন কর ধার্য করা হবে। যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমানোই এ করের অন্যতম লক্ষ্য।

শহরের সড়ক বাড়ছে না, কিন্তু প্রতি বছর বিপুল হারে গাড়ি বাড়ছে। সেটাও আবার প্রাইভেট গাড়ি। তাই দ্বিতীয় প্রাইভেট গাড়ির ওপর বাড়তি কর বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে গণগরিবহনের চাহিদা বাড়ে। প্রস্তাবটি অনুমোদেনের জন্য আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়রে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্বন কর বসানো একটি ভালো প্রস্তাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উদ্দেশ্য যদি হয় কার্বন নিঃসরণ কমানো, তাহলে এটা একটি ভালো প্রস্তাব। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় গাড়ি নয়, প্রথম গাড়িটিই কার্বন করের আওতায় আনা যেতে পারে। যদি সেটি হয় বেশি কার্বন নিঃসরণ করা গাড়ি; অর্থাৎ যদি হয় ডিজেল চালিত গাড়ি। সরকারের রাজস্ব দরকার। তাই এটি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যও একটি বড় খাত হতে পারে।

রবিবার, ১৪ মে ২০২৩ , ৩১ বৈশাখ ১৪৩০, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৪

একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে ‘কার্বন কর’

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

একাধিক গাড়ি থাকলেই বাড়তি করের আওতৃায় আসবে সেই গাড়ি। ‘কার্বন কর’ নামে অবিহিত হবে এই কর। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটেই এই ‘কার্বন কর’র প্রস্তাব আসতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। সরকারের বাড়তি করের যোগান, কার্বন নিঃসরণ কমানো, শহরের যানজট সমস্যার নিরসন এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী অর্থবছর থেকেই প্রথমবারের মতো এ ‘কার্বন কর’ চালুর চিন্তা করছে সরকার।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এতে বলা হয়, এই কর ব্যবস্থার ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের উন্নয়ন অভীষ্ট বড় হচ্ছে। এ সময় কর বৃদ্ধির নানা রকম উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে; কর নেট সম্প্রসারণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কার্যত দৃশ্যমান ফল আসছে না। নতুন করে যোগ হয়েছে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ।

এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজস্ব আদায়ের নতুন ক্ষেত্রের সন্ধানে এনবিআর। এ চিন্তা থেকেই রাজস্ব বাড়াতে নতুন ক্ষেত্রের চিন্তাভাবনা। সর্বোচ্চ ইঞ্জিন সক্ষমতার গাড়ির ভিত্তিতে কার্বন করের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ একাধিক গাড়ি থাকলে যে গাড়ির সিসি ক্ষমতা বেশি হবে, সেটির ওপর কার্বন কর ধার্য করা হবে। যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমানোই এ করের অন্যতম লক্ষ্য।

শহরের সড়ক বাড়ছে না, কিন্তু প্রতি বছর বিপুল হারে গাড়ি বাড়ছে। সেটাও আবার প্রাইভেট গাড়ি। তাই দ্বিতীয় প্রাইভেট গাড়ির ওপর বাড়তি কর বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে গণগরিবহনের চাহিদা বাড়ে। প্রস্তাবটি অনুমোদেনের জন্য আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়রে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্বন কর বসানো একটি ভালো প্রস্তাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উদ্দেশ্য যদি হয় কার্বন নিঃসরণ কমানো, তাহলে এটা একটি ভালো প্রস্তাব। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় গাড়ি নয়, প্রথম গাড়িটিই কার্বন করের আওতায় আনা যেতে পারে। যদি সেটি হয় বেশি কার্বন নিঃসরণ করা গাড়ি; অর্থাৎ যদি হয় ডিজেল চালিত গাড়ি। সরকারের রাজস্ব দরকার। তাই এটি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যও একটি বড় খাত হতে পারে।