জনগণকে নিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে : কাদের

বিএনপির যে কোন ‘কূটকৌশল’ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন ‘বানচালের সব ষড়যন্ত্র’ রুখে দেয়া হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচনে আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা। তবে নির্বাচন হতে দেবে না এটা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর ভোরের শিশির বিন্দু নয়।’

ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এ কথা বলেন।

পৃথিবীর কোথাও গণআন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকলে কখনও তা সফল হয়নি মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশি দূতাবাসগুলোতে নালিশ করে তারা দেশকে ছোট করছে। তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন করতে দেবে না। নির্বাচনে তারা আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা, নির্বাচন হতে দেবে না এমন ধরনের যে সংকল্প ব্যক্ত করে তারা রুখে দাঁড়াবে, আমরাও দেখব, কে কাকে রুখে দাঁড়ায়।’

বিএনপির আন্দোলন-কর্মসূচির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ও তাদের দোসররা নাকি আন্দোলনের ঝড় সৃষ্টি করবে, আর সেই ঝড়ে নাকি সরকারের পতন হবে। বাস্তবতা হচ্ছে বিএনপির ঝড় তোলার কোন সামর্থ্য নেই, তাই গলাবাজি দিয়ে নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে চাচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ শান্তির সমাবেশ করছে দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার একটা কথা বারবার বলেছি, পরিষ্কার বলছি, তাদের (বিএনপি) কর্মসূচির পাল্টাপাল্টিতে আমরা নেই। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। সে কারণে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি।’

বর্তমানে দেশ দুটি ধারায় বিভক্ত-মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারা, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ধারা যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি।’

বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচিতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়নি-মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের নেতাকর্মীরা বুঝে গেছে মুখের গলাবাজি বাস্তবে মরিচিকা। আন্দোলনের পথরেখা থেকে নিজেরা সরে গেছে। তাদের জোটে অনৈক্য। উইকেটের পতন ঘটছে। এখন ১৪/১৫টা দল আছে মনে হয়। তাদের নেতা নেই। নেতা ছাড়া আন্দোলন দুঃস্বপ্ন।’

জিয়াউর রহমানের নামে হত্যা মামলা দায়ের সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মামলা দল বা সরকার দায়ের করেনি। একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রশাসনকে বিভিন্ন নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।’

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপপ্রচার সৈয়দ সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম এবং উপদপ্তর বিষয়ক সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ১৫ মে ২০২৩ , ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৪

জনগণকে নিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে : কাদের

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বিএনপির যে কোন ‘কূটকৌশল’ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন ‘বানচালের সব ষড়যন্ত্র’ রুখে দেয়া হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচনে আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা। তবে নির্বাচন হতে দেবে না এটা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর ভোরের শিশির বিন্দু নয়।’

ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এ কথা বলেন।

পৃথিবীর কোথাও গণআন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকলে কখনও তা সফল হয়নি মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশি দূতাবাসগুলোতে নালিশ করে তারা দেশকে ছোট করছে। তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন করতে দেবে না। নির্বাচনে তারা আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা, নির্বাচন হতে দেবে না এমন ধরনের যে সংকল্প ব্যক্ত করে তারা রুখে দাঁড়াবে, আমরাও দেখব, কে কাকে রুখে দাঁড়ায়।’

বিএনপির আন্দোলন-কর্মসূচির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ও তাদের দোসররা নাকি আন্দোলনের ঝড় সৃষ্টি করবে, আর সেই ঝড়ে নাকি সরকারের পতন হবে। বাস্তবতা হচ্ছে বিএনপির ঝড় তোলার কোন সামর্থ্য নেই, তাই গলাবাজি দিয়ে নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে চাচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ শান্তির সমাবেশ করছে দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার একটা কথা বারবার বলেছি, পরিষ্কার বলছি, তাদের (বিএনপি) কর্মসূচির পাল্টাপাল্টিতে আমরা নেই। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। সে কারণে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি।’

বর্তমানে দেশ দুটি ধারায় বিভক্ত-মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারা, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ধারা যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি।’

বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচিতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়নি-মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের নেতাকর্মীরা বুঝে গেছে মুখের গলাবাজি বাস্তবে মরিচিকা। আন্দোলনের পথরেখা থেকে নিজেরা সরে গেছে। তাদের জোটে অনৈক্য। উইকেটের পতন ঘটছে। এখন ১৪/১৫টা দল আছে মনে হয়। তাদের নেতা নেই। নেতা ছাড়া আন্দোলন দুঃস্বপ্ন।’

জিয়াউর রহমানের নামে হত্যা মামলা দায়ের সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মামলা দল বা সরকার দায়ের করেনি। একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রশাসনকে বিভিন্ন নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।’

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপপ্রচার সৈয়দ সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম এবং উপদপ্তর বিষয়ক সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।