জলবায়ু রক্ষায় আমাদেরও করণীয় আছে

রহমান মৃধা

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার কারণে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদিও প্যারিস চুক্তিতে কথা ছিল তাপমাত্রা কমাতে সবাই কাজ করবে কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ কথা রাখেনি। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস। গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত বছর আগেই নতুন রেকর্ড করেছে।

পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরি। প্রতিদিন জলবায়ুর ওপর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা জেনে নেই এবং কোথায় অগ্রসর হতে যাচ্ছে এর শেষ পরিণতি।

বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস যা পৃথিবীর গ্রিনহাউসকে উত্তপ্ত করছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই সমস্যা সমাধানে জরুরি ও সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।

পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে টিকে থাকার সুযোগ দিতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের উদ্যোগ নিতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে বিশ্বের নেতাদের নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে বরফ গলার কারণে পানি বাড়ছে ৩ মিলিমিটার করে প্রতি বছরে।

এভাবে চলতে থাকলে ২১০০ সালে পানির উচ্চতা ১ মিটার বাড়বে ১৯৯০ সালের তুলনায়। সব মিলে মনে হচ্ছে আমার ভয়ংকর সমস্যার দিকে এগোচ্ছি।

এমন একটি সময় মাত্র ১৬ (২০১৯ সালে) বছরের মেয়ে গ্রেটা থুনবার্গ জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তৎকালীন পরিবেশ আন্দোলন শুরু করার মাত্র এক বছরের মাথায়ই জুটতে শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক সব স্বীকৃতি।

২০১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল গ্রেটাকে। শেষে গ্রেটাকে দেয়া হয় ‘রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড’ যেটি ‘অল্টারনেটিভ নোবেল প্রাইজ’ হিসেবেও পরিচিত।

অনেকেই বলেছেন যেমন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে আসলে কী এমন করেছে গ্রেটা? পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে গ্রেটার অবদান তেমন কিছুই না শুধু জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একটা তাৎপর্যপূর্ণ গতি সৃষ্টি করছে সে। জলবায়ু সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাত্র চার বছর আগে আন্দোলন শুরু করে সুইডেনের স্কুলপড়ুয়া গ্রেটা।

সুইডেনে তার বয়সে সে সময় সবাই স্কুলে সময় কাটিয়েছে যা এদেশের নিয়ম। গ্রেটা স্কুলে না গিয়ে তার পুরো সময় জলবায়ু নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তার পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে জড়ো হয়েছে বিভিন্ন দেশের নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, পৃথিবী বদলে দিচ্ছে সে।

কেউ কেউ তাকে পরিবেশবাদীদের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবেও দেখেছে। তার কথায় সে খুব শক্তপোক্ত ও প্রভাবশালী। সে একটা বিপ্লবের ডাক দিয়েছিল তখন। এতে অনেকের গায়ে কিছুটা জ্বালাও ধরেছিল, এ কারণে বাধাও আসছে।

যাই হোক না কেন গ্রেটার এস্পের্গের সিনড্রোম রয়েছে। তার কাছে সবকিছু সাদা এবং কালা, এর বাইরে বা ভেতরে কিছু নেই।

এ ধরনের অনেকেই পৃথিবীতে রয়েছে যারা সাধারণত একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পারদর্শী হয়ে থাকে। এছাড়া যদি এরা কিছু পছন্দ করে তার পিছে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করে না।

মনে হচ্ছে গ্রেটা তার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছে যা পৃথিবীর জন্য মঙ্গল বৈ অমঙ্গল নয়। গ্রেটা সত্যি ভাগ্যবতী কারণ পৃথিবীতে অনেক গ্রেটা রয়েছে যাদের এমনটি সুযোগ আসেনি আজও।

এখন আমার ভাবনা গ্রেটার ভাগ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদেরও ভাগ্যের কিভাবে পরিবর্তন আনতে পারি। পৃথিবী দিন দিন যেভাবে গরম হতে চলেছে, বরফ গলছে, তাতে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ কি তাহলে পানিতে ডুবে যাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে? আমরা নিজেরাই বা কী করছি এর প্রতিরোধ করতে বা আদৌও কিছু ভাবছি কিনা! নাকি ভেজাল, ক্যাসিনো, ঘুষ, আর দুর্নীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছি। নাকি সেই নন্দলালের মতো বসে বসে ভাবছি দেখি না কী হয়! আমরা এখন কোন পর্যায়ে আছি!

আমাদের কিন্তু শুধু বিদেশিদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলে চলবে না। যে পরিমাণ গাড়ি, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ, কেমিক্যাল, ভেজাল (খাবারে, ওষুধে, ভূমিতে) ব্যবহার করছি তাতে পৃথিবীর বারোটা বাজাতে শুধু অন্যকে দায়ী করলে চলবে না। একই সঙ্গে দূষিত পানি পান করে কেউ মারা যাক তাও আমরা চাই না। দেখা যাচ্ছে, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। খাল-বিল-নদী দখল ও দূষণ, রাসায়নিক ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার হচ্ছে। নদীর উজানে প্রতিবেশী ভারতের বাঁধ নির্মাণের ফলে মরুকরণ, উপকূলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে দেশে নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হয়েছে।

ভূউপরিস্থ পানির বদলে মাটির নিচের পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে নিরাপদ পানির সংকটকে কাজে লাগিয়ে পানির বাণিজ্যিকীকরণ। ফলে চড়া মূল্যে বোতল কিংবা জারের পানি কিনে খাওয়া এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে পানিকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে।

দেশের সব মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। আমাদেরকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ভার নিতে হবে। দেশটা পানিতে ডুবে যাক তা কেউ চাই না, তাই আসুন সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।

[লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

image

ভূউপরিস্থ পানির বদলে মাটির নিচের পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা বেড়েছে

আরও খবর
নতুন কারিকুলাম ও ব্রতচারী শিক্ষা
আদিবাসী ফোরাম প্রসঙ্গে

সোমবার, ১৫ মে ২০২৩ , ০১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৪

জলবায়ু রক্ষায় আমাদেরও করণীয় আছে

রহমান মৃধা

image

ভূউপরিস্থ পানির বদলে মাটির নিচের পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা বেড়েছে

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার কারণে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদিও প্যারিস চুক্তিতে কথা ছিল তাপমাত্রা কমাতে সবাই কাজ করবে কিন্তু দুঃখের বিষয় কেউ কথা রাখেনি। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস। গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত বছর আগেই নতুন রেকর্ড করেছে।

পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরি। প্রতিদিন জলবায়ুর ওপর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা জেনে নেই এবং কোথায় অগ্রসর হতে যাচ্ছে এর শেষ পরিণতি।

বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস যা পৃথিবীর গ্রিনহাউসকে উত্তপ্ত করছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই সমস্যা সমাধানে জরুরি ও সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।

পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে টিকে থাকার সুযোগ দিতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের উদ্যোগ নিতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে বিশ্বের নেতাদের নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে বরফ গলার কারণে পানি বাড়ছে ৩ মিলিমিটার করে প্রতি বছরে।

এভাবে চলতে থাকলে ২১০০ সালে পানির উচ্চতা ১ মিটার বাড়বে ১৯৯০ সালের তুলনায়। সব মিলে মনে হচ্ছে আমার ভয়ংকর সমস্যার দিকে এগোচ্ছি।

এমন একটি সময় মাত্র ১৬ (২০১৯ সালে) বছরের মেয়ে গ্রেটা থুনবার্গ জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তৎকালীন পরিবেশ আন্দোলন শুরু করার মাত্র এক বছরের মাথায়ই জুটতে শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক সব স্বীকৃতি।

২০১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও দেয়া হয়েছিল গ্রেটাকে। শেষে গ্রেটাকে দেয়া হয় ‘রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড’ যেটি ‘অল্টারনেটিভ নোবেল প্রাইজ’ হিসেবেও পরিচিত।

অনেকেই বলেছেন যেমন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে আসলে কী এমন করেছে গ্রেটা? পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে গ্রেটার অবদান তেমন কিছুই না শুধু জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একটা তাৎপর্যপূর্ণ গতি সৃষ্টি করছে সে। জলবায়ু সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাত্র চার বছর আগে আন্দোলন শুরু করে সুইডেনের স্কুলপড়ুয়া গ্রেটা।

সুইডেনে তার বয়সে সে সময় সবাই স্কুলে সময় কাটিয়েছে যা এদেশের নিয়ম। গ্রেটা স্কুলে না গিয়ে তার পুরো সময় জলবায়ু নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তার পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে জড়ো হয়েছে বিভিন্ন দেশের নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, পৃথিবী বদলে দিচ্ছে সে।

কেউ কেউ তাকে পরিবেশবাদীদের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবেও দেখেছে। তার কথায় সে খুব শক্তপোক্ত ও প্রভাবশালী। সে একটা বিপ্লবের ডাক দিয়েছিল তখন। এতে অনেকের গায়ে কিছুটা জ্বালাও ধরেছিল, এ কারণে বাধাও আসছে।

যাই হোক না কেন গ্রেটার এস্পের্গের সিনড্রোম রয়েছে। তার কাছে সবকিছু সাদা এবং কালা, এর বাইরে বা ভেতরে কিছু নেই।

এ ধরনের অনেকেই পৃথিবীতে রয়েছে যারা সাধারণত একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর পারদর্শী হয়ে থাকে। এছাড়া যদি এরা কিছু পছন্দ করে তার পিছে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করে না।

মনে হচ্ছে গ্রেটা তার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছে যা পৃথিবীর জন্য মঙ্গল বৈ অমঙ্গল নয়। গ্রেটা সত্যি ভাগ্যবতী কারণ পৃথিবীতে অনেক গ্রেটা রয়েছে যাদের এমনটি সুযোগ আসেনি আজও।

এখন আমার ভাবনা গ্রেটার ভাগ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদেরও ভাগ্যের কিভাবে পরিবর্তন আনতে পারি। পৃথিবী দিন দিন যেভাবে গরম হতে চলেছে, বরফ গলছে, তাতে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ কি তাহলে পানিতে ডুবে যাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে? আমরা নিজেরাই বা কী করছি এর প্রতিরোধ করতে বা আদৌও কিছু ভাবছি কিনা! নাকি ভেজাল, ক্যাসিনো, ঘুষ, আর দুর্নীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছি। নাকি সেই নন্দলালের মতো বসে বসে ভাবছি দেখি না কী হয়! আমরা এখন কোন পর্যায়ে আছি!

আমাদের কিন্তু শুধু বিদেশিদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলে চলবে না। যে পরিমাণ গাড়ি, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ, কেমিক্যাল, ভেজাল (খাবারে, ওষুধে, ভূমিতে) ব্যবহার করছি তাতে পৃথিবীর বারোটা বাজাতে শুধু অন্যকে দায়ী করলে চলবে না। একই সঙ্গে দূষিত পানি পান করে কেউ মারা যাক তাও আমরা চাই না। দেখা যাচ্ছে, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। খাল-বিল-নদী দখল ও দূষণ, রাসায়নিক ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার হচ্ছে। নদীর উজানে প্রতিবেশী ভারতের বাঁধ নির্মাণের ফলে মরুকরণ, উপকূলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে দেশে নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হয়েছে।

ভূউপরিস্থ পানির বদলে মাটির নিচের পানির ওপর বিপজ্জনক নির্ভরতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে নিরাপদ পানির সংকটকে কাজে লাগিয়ে পানির বাণিজ্যিকীকরণ। ফলে চড়া মূল্যে বোতল কিংবা জারের পানি কিনে খাওয়া এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে পানিকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে।

দেশের সব মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। আমাদেরকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ভার নিতে হবে। দেশটা পানিতে ডুবে যাক তা কেউ চাই না, তাই আসুন সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।

[লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]