দুই শেয়ারবাজারেই বড় পতন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। কমেছে বাজার মূলধন। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর উত্থানের চেয়ে পতন বেশি হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। সব ধরনের সূচক পতনের একই অবস্থা অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। কমেছে লেনদেনসহ মূলধনও। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর উত্থানের চেয়ে পতন বেশি হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে ৬৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৬৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। আগেরদিন রোববার মূলধন হয়েছিল ৬৫ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১৮৯ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭০টি এবং কমেছে ৮৪টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৯০টির।

এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬০ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ১৮৫ দশমিক ৮২ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি টাকা শেয়ার। আগেরদিন রোববার ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। রোববার বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। আগেরদিন বৃহস্পতিবার মূলধন হয়েছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৭০৩ কোটি টাকা। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৬টি, কমেছে ৭১টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮১টির।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৬১ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ২০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩১১ দশমিক ৬২ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪৪৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩৭ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৬৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসই এর ব্লক মার্কেটে মোট ৬১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মোট ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮২০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে এমারেল্ড অয়েল লিমিটেডের। কোম্পানিটি ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।

সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ৭ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ব্লক মার্কেটে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ২ কোটি ২৩ লাখ, বিকন ফার্মা ১ কোটি ৫৯ লাখ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ১ কোটি ৩৩ লাখ, জেমিনি সি ফুড ১ কোটি ৬ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ১ কোটি ১১ লাখ ও স্কয়ার ফার্মা ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির বা ২৪.৪১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেমিনি সি ফুডের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি।

আগের কার্যদিবসে জেমিনি সি ফুডের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ৮৪৩.৭০ টাকা। গতকাল লেনদেন শেষে শেয়ারটির ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৭৮০.৫০ টাকায়। অর্থাৎ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬৩.২০ টাকা বা ৭.৪৯ শতাংশ কমেছে। এর মাধ্যমে জেমিনি সি ফুড টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

এদিন ডিএসইতে টপটেন লুজার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৭.৪৫ শতাংশ, জুট স্পিনার্সের ৭.১১ শতাংশ, সোনালী আঁশের ৬.৫৪ শতাংশ, ইস্টার্ন ক্যাবলসের ৫.৩৪ শতাংশ, খান ব্রাদার্স পিপির ৫.৩০ শতাংশ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের ৪.৮৭ শতাংশ, সি পার্ল বিচের ৪.৪৬ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের ৪.৩৫ শতাংশ এবং এপেক্স ফুডসের ৪.৩৩ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

দুই শেয়ারবাজারেই বড় পতন

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। কমেছে বাজার মূলধন। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর উত্থানের চেয়ে পতন বেশি হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। সব ধরনের সূচক পতনের একই অবস্থা অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। কমেছে লেনদেনসহ মূলধনও। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর উত্থানের চেয়ে পতন বেশি হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে ৬৫৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৬৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার। গতকাল বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। আগেরদিন রোববার মূলধন হয়েছিল ৬৫ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১৮৯ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭০টি এবং কমেছে ৮৪টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৯০টির।

এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬০ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ১৮৫ দশমিক ৮২ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৬৬ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি টাকা শেয়ার। আগেরদিন রোববার ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। রোববার বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা। আগেরদিন বৃহস্পতিবার মূলধন হয়েছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। একদিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৭০৩ কোটি টাকা। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৬টি, কমেছে ৭১টি এবং পরিবর্তন হয়নি ৮১টির।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩৫ দশমিক ৬১ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ২০ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩১১ দশমিক ৬২ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৪৪৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩৭ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৬৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসই এর ব্লক মার্কেটে মোট ৬১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মোট ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮২০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে এমারেল্ড অয়েল লিমিটেডের। কোম্পানিটি ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।

সি পার্ল বিচ রিসোর্ট ৭ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ব্লক মার্কেটে লেনদেন করা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ২ কোটি ২৩ লাখ, বিকন ফার্মা ১ কোটি ৫৯ লাখ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ১ কোটি ৩৩ লাখ, জেমিনি সি ফুড ১ কোটি ৬ লাখ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ১ কোটি ১১ লাখ ও স্কয়ার ফার্মা ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৪টির বা ২৪.৪১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেমিনি সি ফুডের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি।

আগের কার্যদিবসে জেমিনি সি ফুডের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ৮৪৩.৭০ টাকা। গতকাল লেনদেন শেষে শেয়ারটির ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৭৮০.৫০ টাকায়। অর্থাৎ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬৩.২০ টাকা বা ৭.৪৯ শতাংশ কমেছে। এর মাধ্যমে জেমিনি সি ফুড টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

এদিন ডিএসইতে টপটেন লুজার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৭.৪৫ শতাংশ, জুট স্পিনার্সের ৭.১১ শতাংশ, সোনালী আঁশের ৬.৫৪ শতাংশ, ইস্টার্ন ক্যাবলসের ৫.৩৪ শতাংশ, খান ব্রাদার্স পিপির ৫.৩০ শতাংশ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের ৪.৮৭ শতাংশ, সি পার্ল বিচের ৪.৪৬ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের ৪.৩৫ শতাংশ এবং এপেক্স ফুডসের ৪.৩৩ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।