একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটেছিল, তা একেবারে নৃশংস

-ইমরান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেছেন, পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) সংঘটিত নৃশংসতা আমাদের বুঝতে হবে। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

পিটিআইয়ের প্রধান বলেন, ‘আজ, আমাদের বোঝা উচিত পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটেছিল এবং কী ধরনের নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। সেখানে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং যার প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল, তাদের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ যে নৃশংসতার শিকার হয়েছিল, তা আজ আমাদের বুঝতে হবে।

ভাষণে ইমরান বলেন, ‘আজ আমি আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, পূর্ব পাকিস্তানের কথা। আমার জীবনেই হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান। মার্চ ১৯৭১ সালে আমি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম পূর্ব পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯’র বিরুদ্ধে। আমাদের যে জাহাজ ফেরত এসেছিল, তা ছিল শেষ জাহাজ। আমার এখনো মনে আছে, কতই না ঘৃণা ছিল (পূর্ব) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। আমাদের তো তা জানাই ছিল না।’

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের এই সংকটময় সময়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত। পূর্ব পাকিস্তানেও একই ঘটনা ঘটেছিল, মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত ছিল। শুধু পার্থক্য হলো, আজ আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে। কিন্তু এমনকি তাও ব্লক করা হয়েছে।

কারণ তারা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের গণমাধ্যমই শুধু রাখতে চায়, নিজেদের পছন্দের কথাটাই মানুষকে শোনাতে চায়। সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানেও এটাই হয়েছিল। আমাদের এখানে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, আমরা তো কোন খবরই জানতাম না আসলে কী হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্র সুতোয় ঝুলে থাকে এবং একমাত্র বিচার বিভাগই তা বাঁচাতে পারে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মাফিয়ারা বিচার বিভাগের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাই আমি প্রথমে জাতিকে আমাদের বিচার বিভাগ ও সংবিধানের পাশে দাঁড়াতে বলছি।

এ সময় সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে বলপ্রয়োগ করে কারাগারে ঢোকানো যায় না। আইএসপিআরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে ইমরান বলেন, আইএসপিআর সাহেব, আমি জেলে থাকাকালে আপনি কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমি তার জবাব দিতে চাই। আপনি বলেছেন, আমি একজন ভণ্ড, আমি যতটা করেছি সেনাবাহিনীর আর কেউ ক্ষতি করেনি।

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটেছিল, তা একেবারে নৃশংস

-ইমরান

সংবাদ ডেক্স

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেছেন, পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) সংঘটিত নৃশংসতা আমাদের বুঝতে হবে। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

পিটিআইয়ের প্রধান বলেন, ‘আজ, আমাদের বোঝা উচিত পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটেছিল এবং কী ধরনের নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। সেখানে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং যার প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল, তাদের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ যে নৃশংসতার শিকার হয়েছিল, তা আজ আমাদের বুঝতে হবে।

ভাষণে ইমরান বলেন, ‘আজ আমি আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, পূর্ব পাকিস্তানের কথা। আমার জীবনেই হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান। মার্চ ১৯৭১ সালে আমি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম পূর্ব পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯’র বিরুদ্ধে। আমাদের যে জাহাজ ফেরত এসেছিল, তা ছিল শেষ জাহাজ। আমার এখনো মনে আছে, কতই না ঘৃণা ছিল (পূর্ব) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। আমাদের তো তা জানাই ছিল না।’

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের এই সংকটময় সময়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত। পূর্ব পাকিস্তানেও একই ঘটনা ঘটেছিল, মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত ছিল। শুধু পার্থক্য হলো, আজ আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে। কিন্তু এমনকি তাও ব্লক করা হয়েছে।

কারণ তারা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের গণমাধ্যমই শুধু রাখতে চায়, নিজেদের পছন্দের কথাটাই মানুষকে শোনাতে চায়। সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানেও এটাই হয়েছিল। আমাদের এখানে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, আমরা তো কোন খবরই জানতাম না আসলে কী হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্র সুতোয় ঝুলে থাকে এবং একমাত্র বিচার বিভাগই তা বাঁচাতে পারে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মাফিয়ারা বিচার বিভাগের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাই আমি প্রথমে জাতিকে আমাদের বিচার বিভাগ ও সংবিধানের পাশে দাঁড়াতে বলছি।

এ সময় সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে বলপ্রয়োগ করে কারাগারে ঢোকানো যায় না। আইএসপিআরের মহাপরিচালকের উদ্দেশে ইমরান বলেন, আইএসপিআর সাহেব, আমি জেলে থাকাকালে আপনি কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমি তার জবাব দিতে চাই। আপনি বলেছেন, আমি একজন ভণ্ড, আমি যতটা করেছি সেনাবাহিনীর আর কেউ ক্ষতি করেনি।