টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ, আ’লীগ নেতা বড় মনি জেলহাজতে

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আ.লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীন তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে তিনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড় মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।

টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু গত (৩০ এপ্রিল) চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গত রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে গত রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, দুপুর ১২টার দিকে বড় মনি আদালতে আত্মসর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া বড় মনি তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজ বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় উল্লেখ করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয় শামীমা আক্তারের কাছে জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদেকুর রহমান।

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ, আ’লীগ নেতা বড় মনি জেলহাজতে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আ.লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীন তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে তিনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড় মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।

টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু গত (৩০ এপ্রিল) চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গত রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে গত রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, দুপুর ১২টার দিকে বড় মনি আদালতে আত্মসর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া বড় মনি তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজ বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় উল্লেখ করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনির শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয় শামীমা আক্তারের কাছে জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদেকুর রহমান।