ভূমিকম্প হলে ঢাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর মতো অবকাঠামো ও সুযোগ নেই : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ঢাকার অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প প্রতিরোধের কোন প্রযুক্তি নেই, ফলে ভূমিকম্প আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।’

‘কিন্তু আমাদের করণীয় হচ্ছে যেকোন ভবন বা অবকাঠামো তৈরির সময় তা ভূমিকম্প সহনীয় ও জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা। তবে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার কাজ চালানোর মতো অবকাঠামো ও সুযোগ নেই। সময় থাকতে আমাদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে’ বলেন তিনি।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা, গণমাধ্যমের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ এর সভাপতি মুরসালিন নোমানির সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেনÑ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ খান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল মিয়া ও ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল, কিন্তু তার ইফেক্ট যেন না আসে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য ভবন নির্মাণে প্রপার ডিজাইন করতে হবে। আবার সে ডিজাইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটাও রেগুলেট করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কাকে দায়ী করা হবে সেটা ফিক্সড করা যায় না। যেমন রানা প্লাজা যখন ভাঙলো, তখন তার মালিককে গ্রেপ্তার করা হলো, কিন্তু সেই ভবনের কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে ধরা হয়নি কেন?’

‘বেশি লাভের আশায় অনেক প্রতিষ্ঠান রাজউক অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে না। নির্মাণকালীন কাজ তদারকির জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করতে পারে। সব নিয়ম যথাযথ পালন হয়েছিল কি না সেজন্য দায়ী থাকবে এ কর্তৃপক্ষ, তদারকি সাপেক্ষে তারা সনদ দেবে’ বলে মত তার।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজউকের কাছে কেউ ডিজাইন নিয়ে গেলে সেটা অ্যাপ্রুভ করা হয়। মালিক চাইলে বিল্ডিং বানাতেই পারেন। কিন্তু আমার মতামত থাকবে, যে ভবন বানাবেন তিনি যেন সার্টিফাইড হন। যেন কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তাকে দায়ী করা যায়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা ভূমিকম্পেরই ইফেক্ট অ্যান্ড পোস্ট ইফেক্ট আছে। সেজন্য প্রতিকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা প্রতিবারই ভূমিকম্প প্রতিরোধী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার কথা বলি। কিন্তু ১২০ জন মানুষের জন্য যদি প্ল্যান করা হয়, সেখানে মানুষ থাকে তার চাইতেও অনেক বেশি। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার করা যায় না, প্লানের তুলনায় রাস্তা হয় অনেক সরু এবং ছোট।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্পের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রভাব এবং প্রতিকার ব্যবস্থা নিয়ে যত বেশি লেখা হবে, ততো বেশি মানুষ তা জানতে পারবে।’

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

ভূমিকম্প হলে ঢাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর মতো অবকাঠামো ও সুযোগ নেই : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ঢাকার অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প প্রতিরোধের কোন প্রযুক্তি নেই, ফলে ভূমিকম্প আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।’

‘কিন্তু আমাদের করণীয় হচ্ছে যেকোন ভবন বা অবকাঠামো তৈরির সময় তা ভূমিকম্প সহনীয় ও জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা। তবে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার কাজ চালানোর মতো অবকাঠামো ও সুযোগ নেই। সময় থাকতে আমাদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে’ বলেন তিনি।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা, গণমাধ্যমের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ এর সভাপতি মুরসালিন নোমানির সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেনÑ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ খান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল মিয়া ও ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল, কিন্তু তার ইফেক্ট যেন না আসে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য ভবন নির্মাণে প্রপার ডিজাইন করতে হবে। আবার সে ডিজাইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটাও রেগুলেট করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কাকে দায়ী করা হবে সেটা ফিক্সড করা যায় না। যেমন রানা প্লাজা যখন ভাঙলো, তখন তার মালিককে গ্রেপ্তার করা হলো, কিন্তু সেই ভবনের কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে ধরা হয়নি কেন?’

‘বেশি লাভের আশায় অনেক প্রতিষ্ঠান রাজউক অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করে না। নির্মাণকালীন কাজ তদারকির জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করতে পারে। সব নিয়ম যথাযথ পালন হয়েছিল কি না সেজন্য দায়ী থাকবে এ কর্তৃপক্ষ, তদারকি সাপেক্ষে তারা সনদ দেবে’ বলে মত তার।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজউকের কাছে কেউ ডিজাইন নিয়ে গেলে সেটা অ্যাপ্রুভ করা হয়। মালিক চাইলে বিল্ডিং বানাতেই পারেন। কিন্তু আমার মতামত থাকবে, যে ভবন বানাবেন তিনি যেন সার্টিফাইড হন। যেন কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তাকে দায়ী করা যায়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা ভূমিকম্পেরই ইফেক্ট অ্যান্ড পোস্ট ইফেক্ট আছে। সেজন্য প্রতিকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা প্রতিবারই ভূমিকম্প প্রতিরোধী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার কথা বলি। কিন্তু ১২০ জন মানুষের জন্য যদি প্ল্যান করা হয়, সেখানে মানুষ থাকে তার চাইতেও অনেক বেশি। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার করা যায় না, প্লানের তুলনায় রাস্তা হয় অনেক সরু এবং ছোট।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্পের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রভাব এবং প্রতিকার ব্যবস্থা নিয়ে যত বেশি লেখা হবে, ততো বেশি মানুষ তা জানতে পারবে।’