চলে গেলেন চিত্রনায়ক ফারুক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে পরিচিত ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক মারা গেছেন। গতকাল সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

নায়ক ফারুকের মৃত্যুর খবর শোনার পর পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার। শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, চিত্রনায়ক ফারুকের মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার অভিনীত চলচ্চিত্র দেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অবদান দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শোক বার্তায় আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

নায়ক ফারুকের ছেলে রওশন হোসেন পাঠান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের (সিঙ্গাপুরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়) দিকে তার বাবা মারা গেছেন। রওশন আরও জানান, তার বাবা ফারুকের মরদেহ আজ ভোরের ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ওই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন নায়ক ফারুক। উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পুরনো বেশ কিছু শারীরিক জটিলতাও ছিল। সবশেষ ২০২১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যান এই অভিনেতা। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) আসমা পাঠান রুম্পা জানান, চাচা (ফারুক) চার মাস ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেমি কোমায় কেটেছে আরও চার মাস। কয়েক মাস তার শারীরিক অবস্থার কখনো উন্নতি, আবার কখনো অবনতি হয়েছে। ছিল নানা শঙ্কাও। তবে কখনো হাল ছাড়েননি তার পরিবারের সদস্যরা, চালিয়েছেন চিকিৎসা। অবশেষে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন ফারুক।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় তার অভিষেক হয়। প্রথম সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন ফারুক।

অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১৬ সালে ভূষিত হন আজীবন সম্মাননায়।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘সারেং বৌ’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘মিয়া ভাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘দিন যায় কথা থাকে’ ইত্যাদি। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। ‘মিয়া ভাই’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে খ্যাতি পান।

৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা নায়ক ফারুক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

চলে গেলেন চিত্রনায়ক ফারুক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে পরিচিত ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক মারা গেছেন। গতকাল সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

নায়ক ফারুকের মৃত্যুর খবর শোনার পর পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার। শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, চিত্রনায়ক ফারুকের মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার অভিনীত চলচ্চিত্র দেশের সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অবদান দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রপতি ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শোক বার্তায় আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

নায়ক ফারুকের ছেলে রওশন হোসেন পাঠান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের (সিঙ্গাপুরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়) দিকে তার বাবা মারা গেছেন। রওশন আরও জানান, তার বাবা ফারুকের মরদেহ আজ ভোরের ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ওই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন নায়ক ফারুক। উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পুরনো বেশ কিছু শারীরিক জটিলতাও ছিল। সবশেষ ২০২১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যান এই অভিনেতা। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি) আসমা পাঠান রুম্পা জানান, চাচা (ফারুক) চার মাস ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেমি কোমায় কেটেছে আরও চার মাস। কয়েক মাস তার শারীরিক অবস্থার কখনো উন্নতি, আবার কখনো অবনতি হয়েছে। ছিল নানা শঙ্কাও। তবে কখনো হাল ছাড়েননি তার পরিবারের সদস্যরা, চালিয়েছেন চিকিৎসা। অবশেষে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন ফারুক।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় তার অভিষেক হয়। প্রথম সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন ফারুক।

অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০১৬ সালে ভূষিত হন আজীবন সম্মাননায়।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘সারেং বৌ’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘মিয়া ভাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘দিন যায় কথা থাকে’ ইত্যাদি। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। ‘মিয়া ভাই’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘মিয়া ভাই’ হিসেবে খ্যাতি পান।

৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা নায়ক ফারুক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।