গ্রামবাসীর সুবিধার জন্য নির্মিত ঘাট এখন গলার কাঁটা

গ্রামবাসীর সুবিধার জন্য যে ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল; এখন তা গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। যশোর জেলা পরিষদের অর্থায়নে মণিরামপুরের খাটুরা বাওড়ের এই ঘাট (সিঁড়িযুক্ত) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ সমাপ্ত না হওয়ায় গত পাঁচবছর ধরেই তা পড়ে আছে। আর অকেজো ঘাটের অগ্রভাগে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট লোহার রড উন্মুক্ত রয়েছে। যে কারণে ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামবাসীর গলাকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাযায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে যশোর জেলা পরিষদের বরাদ্দে মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় সংলগ্ন দশআনি ও বড় চেৎলা গ্রামের বাসিন্দাদের গোসলের সুবিধার্থে ঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই ঘাট দিয়ে বাওড় সংলগ্ন দশআনি ও বড় চেৎলা এই দুই গ্রামের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ প্রতিদিন বাওড়ে গোসলসহ রান্নার পানি সংগ্রহ করেন। তাদের সুবিধার্থেই ঘাটটি নির্মিত হচ্ছিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় বাওড়ের পাড় থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অসমাপ্ত ঘাটটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর অসমাপ্ত ঘাটের অগ্রভাগে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট লোহার রড উন্মুক্ত রয়েছে। যে কারণে ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামবাসীর গলাকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামবাসীর সুবিধার্থে নির্মাণ করা হলেও সেটি এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলার দশআনি গ্রামের বয়োবৃদ্ধা জোহরা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘কয় বছর ধইরে থুম্বোকল (অকেজোবস্তু) গাইথে থুইয়েছে, তা আর কেউ সইওর (ঠিক) এইরলো না’। পথেই এইডা করা নইয়েছে, তাতি কইরে বাওড়ে নামতি আমাগের ভোগান্তি হয়। আর ভরা বর্ষাকালে তা পাড় থেইকে দূরে থাহাই, বাওড়ের পানতি নামতি আরও কষ্ট হয়। আর ওই থুম্বোকলের মাথায় নোহা (লোহার রড) বাইর করা থাহাই স¹লির ভইয়ে থাকতি হয়।’ শুধু জোহরা নন, ঘাট দিয়ে বাওড়ে নামা দশআনি ও বড় চেৎলা গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ একই ক্ষোভের কথা বলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলেন, ঘাটের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিলেও কোন ফল মেলেনি।

যশোর জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত সদস্য (সাবেক) রুখসানা ইয়াসমিন পান্না বলেন, নির্বাচনের আগেই জেলা পরিষদের বরাদ্দে ঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে বরাদ্দের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে তিনি দাবি করেন।

যশোর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ঘাট নির্মাণে মাত্র দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, সেই টাকাই কাজ হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ আর হয়নি।

image

প্রায় সাত বছর আগে জেলা পরিষদের অর্থায়নে যশোরের মনিরামপুরে খাটুরা বাওড়ে এভাবে নির্মিত অসম্পূর্ণ ঘাট -সংবাদ

আরও খবর
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি
বিদেশি দূতদের আর বাড়তি প্রটোকল সুবিধা দেবে না সরকার
পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাবে বাংলাদেশ : তথ্যমন্ত্রী
কফি হাউজের নামে নারী নির্যাতন রুম
একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে যা ঘটেছিল, তা একেবারে নৃশংস
টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ, আ’লীগ নেতা বড় মনি জেলহাজতে
ভূমিকম্প হলে ঢাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর মতো অবকাঠামো ও সুযোগ নেই : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
চলে গেলেন চিত্রনায়ক ফারুক
‘আইএমএফ’ শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে কিছু বলেনি : ফখরুল

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩ , ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৪

গ্রামবাসীর সুবিধার জন্য নির্মিত ঘাট এখন গলার কাঁটা

যশোর অফিস

image

প্রায় সাত বছর আগে জেলা পরিষদের অর্থায়নে যশোরের মনিরামপুরে খাটুরা বাওড়ে এভাবে নির্মিত অসম্পূর্ণ ঘাট -সংবাদ

গ্রামবাসীর সুবিধার জন্য যে ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল; এখন তা গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। যশোর জেলা পরিষদের অর্থায়নে মণিরামপুরের খাটুরা বাওড়ের এই ঘাট (সিঁড়িযুক্ত) নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ সমাপ্ত না হওয়ায় গত পাঁচবছর ধরেই তা পড়ে আছে। আর অকেজো ঘাটের অগ্রভাগে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট লোহার রড উন্মুক্ত রয়েছে। যে কারণে ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামবাসীর গলাকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাযায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে যশোর জেলা পরিষদের বরাদ্দে মণিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় সংলগ্ন দশআনি ও বড় চেৎলা গ্রামের বাসিন্দাদের গোসলের সুবিধার্থে ঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই ঘাট দিয়ে বাওড় সংলগ্ন দশআনি ও বড় চেৎলা এই দুই গ্রামের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ প্রতিদিন বাওড়ে গোসলসহ রান্নার পানি সংগ্রহ করেন। তাদের সুবিধার্থেই ঘাটটি নির্মিত হচ্ছিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় বাওড়ের পাড় থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অসমাপ্ত ঘাটটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর অসমাপ্ত ঘাটের অগ্রভাগে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট লোহার রড উন্মুক্ত রয়েছে। যে কারণে ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামবাসীর গলাকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামবাসীর সুবিধার্থে নির্মাণ করা হলেও সেটি এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলার দশআনি গ্রামের বয়োবৃদ্ধা জোহরা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘কয় বছর ধইরে থুম্বোকল (অকেজোবস্তু) গাইথে থুইয়েছে, তা আর কেউ সইওর (ঠিক) এইরলো না’। পথেই এইডা করা নইয়েছে, তাতি কইরে বাওড়ে নামতি আমাগের ভোগান্তি হয়। আর ভরা বর্ষাকালে তা পাড় থেইকে দূরে থাহাই, বাওড়ের পানতি নামতি আরও কষ্ট হয়। আর ওই থুম্বোকলের মাথায় নোহা (লোহার রড) বাইর করা থাহাই স¹লির ভইয়ে থাকতি হয়।’ শুধু জোহরা নন, ঘাট দিয়ে বাওড়ে নামা দশআনি ও বড় চেৎলা গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ একই ক্ষোভের কথা বলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার বলেন, ঘাটের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিলেও কোন ফল মেলেনি।

যশোর জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত সদস্য (সাবেক) রুখসানা ইয়াসমিন পান্না বলেন, নির্বাচনের আগেই জেলা পরিষদের বরাদ্দে ঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে বরাদ্দের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে তিনি দাবি করেন।

যশোর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ঘাট নির্মাণে মাত্র দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, সেই টাকাই কাজ হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ আর হয়নি।