মীরসরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মেলকুম ট্রেইলে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ মেলকুম ট্রেইলে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। গত সোমবার দুপুরে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড সাঁটানোসহ দুর্ঘটনারোধে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বনবিভাগের কর্মকর্তাগণ। মেলকুম ঝিরিপথে গিয়ে দেখা যায়, রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় মেলকুম ঝিরির প্রবেশ পথে মীরসরাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ নওশাদ, জোরারগঞ্জ ও হিঙ্গুলী বনবিট কর্মকর্তা মো. একরাম হোসেনসহ কয়েকজন বনবিভাগের কর্মকর্তা পর্যটকদের বিপদজনক মেলকুম ঝিরিপথে যাওয়ার জন্য নিষেধ করছেন। কেউ কেউ শুনলেও অনেক পর্যটক বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে মেলকুম ঝিরিপথে পৌঁছাচ্ছে। এতে করে গহীন পাহাড়ে আলো আঁধারির মেলকুমে যাওয়া আসার পথে বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে পর্যটকরা। এ সময় পাহাড়ের মধ্যে বনবিভাগের বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলকুম এলাকাটি সম্পূর্ণ রিজার্ভ বনভূমি। বিপদজনক ট্রেইল নামেও পরিচিত। গত ১৪ মার্চ ও ২৪ এপ্রিল ২টি দলে আসা ১০ জন পর্যটক পথ ভুলে গহীন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। পরে জাতীয় সেবা ৯৯৯ কল দিলে ভীতসন্ত্রস্ত পর্যটকদের গভীর রাতে উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

সরকারিভাবে পর্যটন এলাকা হিসেবে স্বীকৃত কিংবা ইজারা না দেওয়া সত্ত্বেও পর্যটকরা স্থানীয় গাইড ছাড়া বিপদজনক মেলকুমে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় মহিউদ্দিন মেম্বার জানান, আলো আঁধারির ভয়ংকর মেলকুমে অনেকে যেতে ভয় পেত। এলাকার সাহসী বয়জ্যোষ্ঠরা কূপে মেল লতার রস ঢেলে দিলে মাছ মৃত কিংবা সংজ্ঞা হারিয়ে ঝিরি পথে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তো। এভাবে মাছ শিকারের জন্য মেল লতার ব্যবহার করতে করতে এই কূপ পরিচিতি পায় মেলকুম নামে।

এ বিষয়ে মীরসরাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ নওশাদ বলেন, ‘এটি বনবিভাগের রিজার্ভ জায়গা। যাহা জনসাধারণ প্রবেশ নিষেধ থাকলেও অনেকে তা মানছে না। আমরা বিভিন্ন সময় ব্যানার ফেস্টুন সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা দিয়ে সতর্ক করছি। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিট কর্মকর্তারা সব সময় পর্যটকদের মেলকুম গিরিপথে যাওয়ার জন্য নিষেধ করছে।’

বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ , ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৪

মীরসরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মেলকুম ট্রেইলে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রতিনিধি, মীরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ মেলকুম ট্রেইলে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। গত সোমবার দুপুরে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা সংবলিত সাইনবোর্ড সাঁটানোসহ দুর্ঘটনারোধে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বনবিভাগের কর্মকর্তাগণ। মেলকুম ঝিরিপথে গিয়ে দেখা যায়, রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় মেলকুম ঝিরির প্রবেশ পথে মীরসরাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ নওশাদ, জোরারগঞ্জ ও হিঙ্গুলী বনবিট কর্মকর্তা মো. একরাম হোসেনসহ কয়েকজন বনবিভাগের কর্মকর্তা পর্যটকদের বিপদজনক মেলকুম ঝিরিপথে যাওয়ার জন্য নিষেধ করছেন। কেউ কেউ শুনলেও অনেক পর্যটক বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে মেলকুম ঝিরিপথে পৌঁছাচ্ছে। এতে করে গহীন পাহাড়ে আলো আঁধারির মেলকুমে যাওয়া আসার পথে বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে পর্যটকরা। এ সময় পাহাড়ের মধ্যে বনবিভাগের বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলকুম এলাকাটি সম্পূর্ণ রিজার্ভ বনভূমি। বিপদজনক ট্রেইল নামেও পরিচিত। গত ১৪ মার্চ ও ২৪ এপ্রিল ২টি দলে আসা ১০ জন পর্যটক পথ ভুলে গহীন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। পরে জাতীয় সেবা ৯৯৯ কল দিলে ভীতসন্ত্রস্ত পর্যটকদের গভীর রাতে উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

সরকারিভাবে পর্যটন এলাকা হিসেবে স্বীকৃত কিংবা ইজারা না দেওয়া সত্ত্বেও পর্যটকরা স্থানীয় গাইড ছাড়া বিপদজনক মেলকুমে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় মহিউদ্দিন মেম্বার জানান, আলো আঁধারির ভয়ংকর মেলকুমে অনেকে যেতে ভয় পেত। এলাকার সাহসী বয়জ্যোষ্ঠরা কূপে মেল লতার রস ঢেলে দিলে মাছ মৃত কিংবা সংজ্ঞা হারিয়ে ঝিরি পথে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তো। এভাবে মাছ শিকারের জন্য মেল লতার ব্যবহার করতে করতে এই কূপ পরিচিতি পায় মেলকুম নামে।

এ বিষয়ে মীরসরাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ নওশাদ বলেন, ‘এটি বনবিভাগের রিজার্ভ জায়গা। যাহা জনসাধারণ প্রবেশ নিষেধ থাকলেও অনেকে তা মানছে না। আমরা বিভিন্ন সময় ব্যানার ফেস্টুন সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা দিয়ে সতর্ক করছি। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিট কর্মকর্তারা সব সময় পর্যটকদের মেলকুম গিরিপথে যাওয়ার জন্য নিষেধ করছে।’