উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের নীতি গণবিরোধী

উন্নয়ন যদি প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তার ফলাফল হয় বিপর্যয়কর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর তাপমাত্রার রেকর্ড বেড়েছে। এমতাবস্থায় অক্সিজেনের অকৃত্রিম উৎস গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের এসব নীতি গণবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্যরা।

রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে ডিভাইডারের দোহাই দিয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটি।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন না হলে তার ফল হয় বিপর্যয়কর। সম্প্রতি রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় অক্সিজেনের অকৃত্রিম উৎস গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানাই।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহতাবুন্নেসা বলেছেন, ‘আমাদের অক্সিজেন ভাণ্ডার ফুটো হয়ে গেছে। কী উন্নয়ন হচ্ছে গাছ কেটে? আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু গাছ কেটে কোন উন্নয়ন হয় না। আমাদের পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার ওপর গাছ নেই। আমরা একটি কৃত্রিম পরিবেশে বাস করছি।’

মাহতাবুন্নেসা বলেন, পুরান ঢাকায় বাহাদুর শাহ পার্ক ছিল। এতো সুন্দর পরিবেশ ছিল, সকাল-বিকেল শত শত মানুষ হাঁটাচলা করতো, মানুষ এখানকার আলো-বাতাস উপভোগ করতো। এই পার্কে বসে আশপাশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতো, বিশ্রাম নিতো।

বাহাদুর শাহ পার্ক নষ্ট হয়ে গেছে উল্লেখ করে মাহতাবুন্নেসা বলেন, ‘এখন এই পার্কে মাদকসেবী ও ভিক্ষুকদের অবাধ বিচরণ। এই পার্কে খাবারের দোকান করে দেয়া হয়েছে, তাহলে মানুষ হাঁটবে কোথায়? এই যে একটি সুন্দর জায়গা নষ্ট করে দেয়া হলো; এর তাৎপর্য কী, আমরা তা বুঝি না। নগরপিতাকে (মেয়র) আমাদের কথা ভাবতে দেয়া হয়েছিল, তাকে আমাদের কথা ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হুমায়রা হুমা বলেন, এই শহরের গাছগুলো জনগণের টাকায় রোপণ করা হয়েছে। কী অজুহাতে আপনি গাছ কাটবেন? ধানমন্ডিতে যে গাছ নিধন শুরু হয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

হুমায়রা আরও বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেছেন, গাছ লাগাতে হবে, আর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলছেন, গাছ কেটে উন্নয়ন করতে হবে। দুই মেয়রের দুই রকম মন্তব্য কেন? গাছকে বাঁচিয়ে অক্সিজেন ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুসসহ অন্যরা।

বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ , ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৪

উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের নীতি গণবিরোধী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীতে আইল্যান্ডের গাছ কাটার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন -সংবাদ

উন্নয়ন যদি প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তার ফলাফল হয় বিপর্যয়কর। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর তাপমাত্রার রেকর্ড বেড়েছে। এমতাবস্থায় অক্সিজেনের অকৃত্রিম উৎস গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের এসব নীতি গণবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্যরা।

রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে ডিভাইডারের দোহাই দিয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটি।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন না হলে তার ফল হয় বিপর্যয়কর। সম্প্রতি রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় অক্সিজেনের অকৃত্রিম উৎস গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। উন্নয়নের নামে গাছ উজাড়ের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানাই।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহতাবুন্নেসা বলেছেন, ‘আমাদের অক্সিজেন ভাণ্ডার ফুটো হয়ে গেছে। কী উন্নয়ন হচ্ছে গাছ কেটে? আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু গাছ কেটে কোন উন্নয়ন হয় না। আমাদের পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার ওপর গাছ নেই। আমরা একটি কৃত্রিম পরিবেশে বাস করছি।’

মাহতাবুন্নেসা বলেন, পুরান ঢাকায় বাহাদুর শাহ পার্ক ছিল। এতো সুন্দর পরিবেশ ছিল, সকাল-বিকেল শত শত মানুষ হাঁটাচলা করতো, মানুষ এখানকার আলো-বাতাস উপভোগ করতো। এই পার্কে বসে আশপাশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতো, বিশ্রাম নিতো।

বাহাদুর শাহ পার্ক নষ্ট হয়ে গেছে উল্লেখ করে মাহতাবুন্নেসা বলেন, ‘এখন এই পার্কে মাদকসেবী ও ভিক্ষুকদের অবাধ বিচরণ। এই পার্কে খাবারের দোকান করে দেয়া হয়েছে, তাহলে মানুষ হাঁটবে কোথায়? এই যে একটি সুন্দর জায়গা নষ্ট করে দেয়া হলো; এর তাৎপর্য কী, আমরা তা বুঝি না। নগরপিতাকে (মেয়র) আমাদের কথা ভাবতে দেয়া হয়েছিল, তাকে আমাদের কথা ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক হুমায়রা হুমা বলেন, এই শহরের গাছগুলো জনগণের টাকায় রোপণ করা হয়েছে। কী অজুহাতে আপনি গাছ কাটবেন? ধানমন্ডিতে যে গাছ নিধন শুরু হয়েছে, তা দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

হুমায়রা আরও বলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেছেন, গাছ লাগাতে হবে, আর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলছেন, গাছ কেটে উন্নয়ন করতে হবে। দুই মেয়রের দুই রকম মন্তব্য কেন? গাছকে বাঁচিয়ে অক্সিজেন ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুসসহ অন্যরা।