দুর্নীতির আখড়া ভেঙে দেয়া হয়েছে

মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘করপোরেশনের কোথাও আর কোন দুর্নীতির আখড়া সৃষ্টি হতে দেবো না। করপোরেশনের যেসব শাখায় দুর্নীতির আখড়া ছিল, সেগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরিবহনচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চক্র ভেঙে দেয়া হয়েছে।’

গতকাল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ‘উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ৩ বছর’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামানসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলেন, ‘আন্তঃজেলা বাসের চাপ কমাতে আমরা ঢাকা থেকে বাস প্রান্ত সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল তৈরির জন্য ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। টার্মিনাল নির্মাণ হলে সায়েদাবাদে আর কোন বাস আসবে না। এছাড়া কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে আরও একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে।

ঢাকায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করতে ৫৩টি সিগন্যালে অবকাঠামো নির্মাণ হবে বলেও জানান তিনি।

‘হাত তোলা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হলেও ঢাকা মেগাসিটি কখনই সঠিক দিশা খুঁজে পায়নি। কিন্তু সে করালগ্রাস আমরা ভেঙে দিতে চাই। ৫৩টি চৌরাস্তায় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত স্থাপনের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।’

মেয়র বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কের রায়েরবাজার স্লুইস গেইট থেকে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত সড়কটি ৮ লেইনে প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গত তিন বছরে নেয়া নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসসিসির সড়ক, পথচারীদের চলাচলের পথকে লাল, সবুজ ও হলুদ চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘লাল চিহ্নিত এলাকায় কোন হকারকে বসতে দেয়া হবে না। সবুজ চিহ্নিত এলাকায় নির্দ্বিধায় ২৪ ঘণ্টা এবং হলুদ চিহ্নিত এলাকায় হকাররা সুনির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির বেদখলে থাকা সম্পত্তি দখলমুক্ত করেছেন জানিয়ে মেয়র তাপস আরও বলেন, তিন বছরে ৩৪ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে। যে সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এখন যেকোন দখলদার দখলের আগে অন্তত তিনবার চিন্তা করে।

মেয়র বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহের বুধবার আমি যখন বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাই, তখন দখলদারেরা আতঙ্কে থাকে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, দক্ষিণ সিটিতে অবৈধ দখলদারদের সময় শেষ।’

ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মশকনিধনে আমরা যে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি, বছরব্যাপী মশকনিধন কর্মপরিকল্পনার আওতায় আমরা ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পারছি। আমাদের মশকনিধন কার্যক্রম এখন বছরব্যাপী, যেখানে একদিনও কোন ব্যত্যয় হওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। অগ্রিম সব কর্মপরিকল্পনা নিয়ে থাকি। কীটনাশক আমদানি, মানসম্পন্ন কীটনাশক ব্যবহার, জনবল যান যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও মজুত আমরা নিশ্চিত করি।’

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গত তিন বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে যেসব কাজ করেছেন এবং যে কাজগুলো করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃতীয় বর্ষপূর্তির কেক কাটেন। এরপরে নগর ভবনের সামনে মেয়র বেলুন ওড়ান ও গাছের চারা রোপণ করেন।

বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ , ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৪

দুর্নীতির আখড়া ভেঙে দেয়া হয়েছে

মেয়র তাপস

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘করপোরেশনের কোথাও আর কোন দুর্নীতির আখড়া সৃষ্টি হতে দেবো না। করপোরেশনের যেসব শাখায় দুর্নীতির আখড়া ছিল, সেগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরিবহনচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চক্র ভেঙে দেয়া হয়েছে।’

গতকাল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে ‘উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ৩ বছর’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামানসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র বলেন, ‘আন্তঃজেলা বাসের চাপ কমাতে আমরা ঢাকা থেকে বাস প্রান্ত সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল তৈরির জন্য ভূমি উন্নয়ন কাজ চলছে। টার্মিনাল নির্মাণ হলে সায়েদাবাদে আর কোন বাস আসবে না। এছাড়া কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে আরও একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে।

ঢাকায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করতে ৫৩টি সিগন্যালে অবকাঠামো নির্মাণ হবে বলেও জানান তিনি।

‘হাত তোলা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হলেও ঢাকা মেগাসিটি কখনই সঠিক দিশা খুঁজে পায়নি। কিন্তু সে করালগ্রাস আমরা ভেঙে দিতে চাই। ৫৩টি চৌরাস্তায় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত স্থাপনের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।’

মেয়র বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কের রায়েরবাজার স্লুইস গেইট থেকে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত সড়কটি ৮ লেইনে প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গত তিন বছরে নেয়া নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসসিসির সড়ক, পথচারীদের চলাচলের পথকে লাল, সবুজ ও হলুদ চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘লাল চিহ্নিত এলাকায় কোন হকারকে বসতে দেয়া হবে না। সবুজ চিহ্নিত এলাকায় নির্দ্বিধায় ২৪ ঘণ্টা এবং হলুদ চিহ্নিত এলাকায় হকাররা সুনির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির বেদখলে থাকা সম্পত্তি দখলমুক্ত করেছেন জানিয়ে মেয়র তাপস আরও বলেন, তিন বছরে ৩৪ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে। যে সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এখন যেকোন দখলদার দখলের আগে অন্তত তিনবার চিন্তা করে।

মেয়র বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহের বুধবার আমি যখন বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাই, তখন দখলদারেরা আতঙ্কে থাকে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, দক্ষিণ সিটিতে অবৈধ দখলদারদের সময় শেষ।’

ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মশকনিধনে আমরা যে কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি, বছরব্যাপী মশকনিধন কর্মপরিকল্পনার আওতায় আমরা ঢাকাবাসীকে সুফল দিতে পারছি। আমাদের মশকনিধন কার্যক্রম এখন বছরব্যাপী, যেখানে একদিনও কোন ব্যত্যয় হওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। অগ্রিম সব কর্মপরিকল্পনা নিয়ে থাকি। কীটনাশক আমদানি, মানসম্পন্ন কীটনাশক ব্যবহার, জনবল যান যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও মজুত আমরা নিশ্চিত করি।’

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গত তিন বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে যেসব কাজ করেছেন এবং যে কাজগুলো করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃতীয় বর্ষপূর্তির কেক কাটেন। এরপরে নগর ভবনের সামনে মেয়র বেলুন ওড়ান ও গাছের চারা রোপণ করেন।