মুসার জবানবন্দি ‘জটিলতার’ মধ্যেই চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকাদার মুসার জবানবন্দি তদন্তে ‘জটিলত’ তৈরি করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে মুসা যে জবানবন্দি দিয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতার নাম রয়েছে। মুসা জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু হত্যার আগে ঢাকা দুটি ভিন্ন জায়গায় মিটিং করেছেন। সেখান থেকে টিপুকে হত্যার নির্দেশনা এসেছে। কিন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোন বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের উপস্থিত থাকার তথ্য-প্রমাণ না পায়নি। আরেকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিত থাকার বিষয়, এমনকি হত্যার নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার হতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে অনেককিছু অন্ধকারে থেকেই চার্জশিট প্রস্তুত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি।

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদার মুসাসহ কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে মুসার জবানবন্দির কিছু তথ্য জটিলতা তৈরি করেছে। সূত্র জানিয়েছে, মুসার জবানবন্দিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ তালুকদার ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনসুরের নাম এসেছে। তাদের বিষয়ে জবানবন্দিতে যা বলা হয়েছে তার কোন প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এ মামলার চার্জশিট কিছুদিনের মধ্যে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে তদন্তের এক বছর পার হয়ে গেছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে চায় ডিবি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিপুকে হত্যায় কারা অংশ নিয়েছে, কত টাকা হত্যার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, কেন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সবকিছু ডিবির তদন্তে দ্রুত সময়ের মধ্যে উঠে এসেছে। কিন্তু হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকদার মুসাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড হেফাজত শেষে আদালতে হাজির করা হলে, সে ম্যাজিস্ট্রটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেখানে সে দুজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে সেই তথ্যের প্রমাণ ডিবির কাছে পরিষ্কার না হওয়ায় চার্জশিটে দেয়ার ক্ষেত্রে সময় নেয়া হয়েছে।

মুসা তার জবাববন্দিতে বলেছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর আশরাফের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ছোটাখাটো বিষয়ে সে আশরাফ তালকুদারের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়, বিনিময়ে পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পোলাপান ও খরচপাত্তি দেয়। ২০২১ সালের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর সে আশরাফ তালকুদারকে ফোন দেয়। এরপর ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির (২০২২) ১৫ তারিখে আশরাফ তালুকদারের ছোট ভাই টিটুকে ফোন দিলে তাকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান গেটের উল্টোপাশে রূপটপ রেস্টুরেন্টে যেতে বললে সে সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে মুসা আশরাফ তালুকদার, মুনসুর, মারুফ রেজা সাগর, মোল্লা রানা, ঘাতক সোহেল, আমিনুল, বাবুল তালুকদার, সোহেল শাহরিয়ারের ছোট ভাই রিয়াত, টিটু ও খাইরুকে দেখতে পায়। সেখানে ঠিকাদারি ও স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে কথা শুরু হয়। এরপর টেন্ডার বাণিজ্যের সুবিধা ও ভর্তি বাণিজ্যের সুবিধা নিয়েও নিজেদের মধ্যে কথাবার্ত হয়। ওই বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিক। একপর্যায়ে জিসান আশরাফ তালুকদার ও মনসুরকে উদ্দেশ্য করে টিপুকে মেরে ফেলার জন্য বলে। আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলের মনসুরের সঙ্গে জিসান ও মানিকের রাগারাগি হয় মোবাইলে কথা বলার সময়। জিসান বলে আমাদের সহযোগিতা লাগলে বলেন আমরা সাহায্য করবো। লাগলে আমাদের লোক ও টিপুর লোকজন এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবো। জিসান ও মানিক, আশরাফ ও মনসুরকে উদ্দেশ্য করে বলে টিপুকে মেরে ফেলতে হবে। টিপু না থাকলে সবাই সুবিধা পাবে। বর্তমানে টিপু না থাকায় সবচেয়ে সুবিধাভোগী হলেন আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলর মনসুর। আশরাফ ও মনসুর ভাই কথা শেষ করে বলে আমরা যাই, তোদের কিছু লাগলে টিটুকে বলিস আমরা ব্যবস্থা করে দিবো। একপর্যায়ে টিটু বলে, আমি টিপু ভাইয়ের সঙ্গে থেকে কিছু পাইনি আপনারা সমর্থন দিলে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চাই। তখন আশরাফ তালুকদার টিটুকে বলে, তুমি কাজ চালিয়ে যাও আমি দেখবো।

মুসার জবানবন্দিতে টিপু হত্যায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার বলেন, মুসার সঙ্গে আমার কোন পরিচয় বা সম্পর্ক কোনদিন ছিল না এবং আমি মুসাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। টিপু আমাদের দলের লোক এবং আমার সঙ্গে কমিটিতে ছিল। টিপুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি এর প্রতিবাদ জানাই। শুধু টিপু নয় বৃহত্তম মতিঝিলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা খুন হয়েছে। এর নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি টিপুকে হত্যায় জড়িতদের শাস্তি আমিও চাই।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মতিঝিল, খিলগাঁও, শাজাহানপুর, পল্টনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বৃহত্তম মতিঝিল কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদন হয়। এসব লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ পেতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই হত্যক্যাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এর নেপথ্যে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক, জিসানের নির্দেশনা রয়েছে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির একটি বড় অংশ চলে যায় জিসান ও মানিকের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক থাকলেও মতিঝিলের খুনোখুনি জিসান ও মানিকের দিক নির্দেশনা রয়েছে। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে জিসান ও মানিক একেক সময় একেক জনের মাধ্যমে বৃহত্তম মতিঝিলে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যা করা হয়। জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যায় মতিঝিল আন্ডার ওয়ার্ল্ড সিন্ডিকেটের লোকজনকেই ব্যবহার করা হয়। টিপু হত্যার আগে ক্যাসিনো কাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলে মতিঝিলের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাহিদুল ইসলাম টিপু। কিন্তু টিপুকে হত্যার পর নিয়ন্ত্রণ ফের আন্ডার ওয়ার্ল্ড সিন্ডিকেটের কাছে চলে আসে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিকের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে।

সূত্রটি জানিয়েছে, টিপু মারা যাওয়ার পর মতিঝিল, খিলগাঁও, শাজাহানপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ চালাতে হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলর মনসুরকে বাধা মনে করা হচ্ছে। এ কারণে টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশ দাতাদের মধ্যে আশরাফ তালকুদারের নাম জড়িয়ে মুসা যে জবানবন্দি দিয়েছে তা আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিকল্পনায় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে খালেদ চৌধুরীও যোগ সূত্র রয়েছে। ক্যাসিনো কাণ্ডে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জামিনে বের হয়ে এখন মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, শাজাহানপুর থানা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে খালেদ চৌধুরী ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যা নেপথ্যে মতিঝিলকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও স্কুলের ভর্তি বাণিজ্যের বিরোধই ছিল মূল কারণ। আর এসব বিরোধের জেরেই টিপুকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশ দাতাদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝখানে সুমন শিকার মুছা তার জবানবন্দিতে আওয়মী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতার সংশ্লিষ্টতার যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন জবানবন্দিতে যা ইতোমধ্যে একটি পত্রিকায় এসেছে তা রীতিমতো হাস্যকর। কারণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকবেন এটা তারা বিশ্বাস করেন না। মুসাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার আগ পর্যন্ত মুসা দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিকের আশ্রয়ে ছিলেন। তাদের ধারণা ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ তালুকদারকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন যাতে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়।

ডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকদার মুসা জবাববন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে তার কোন প্রমাণ পাচ্ছি না। এর ফলে চার্জশিটে আশরাফ তালুকদারের নাম থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ হত্যার পরিকল্পনাকারী মুসা আশরাফ তালুকদারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বলেছেন, কিন্তু তদন্তে কোন প্রমাণ নেই। এখন আসামির জবাববন্দি অনুযায়ী আশরাফ তালুকদারের নাম চার্জশিটে থাকবে কি-না তা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে। এদিকে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম। টিমের এডিসি মো. শাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত করেছেন ইন্সপেক্টর মো. ইয়াসিন শিকদার। সম্প্রতি মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা এডিসি মো. সাহিদুজ্জামান বদলি হয়ে গেছেন। তার জাগায় মামলার নতুন তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে এসেছেন আকার হোসেন।

টিপু হত্যার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ জানান, চাঞ্চল্যকর টিপু ও প্রীতি হত্যা মামলার তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হত্যা মামলায় সম্পৃক্তদের কার কি ভূমিকা তা তদন্তে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিকল্পনায় কারা রয়েছে সেটিও পরিষ্কার। দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগের তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা অতি. উপপুলিশ কমিশনার সাহিদুজ্জামান ডিবির ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় মামলার চার্জশিদ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে ।

গত বছরের ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান ওরফে প্রীতিও (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। জাহিদুল হত্যার ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শাহাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, টিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৫ আসামি হলেন- সুমন শিকদার ওরফে মুসা, নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির, ওমর ফারুক, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্যা পলাশ, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, আবুল হোসেন মোহাম্মদ আরফান উল্লাহ, ইমাম খান ওরফে দামাল, নাসির উদ্দিন মানিক মারুফ খান, মশিউর রহমান একরাম, ইয়াসির আরাফাত সৈকত, সেকান্দার সিকদার আকাশ, হাফিজুল ইসলাম, ইশতিয়াক আহম্মেদ জিতু, ইমরান হোসেন জিতু, রাকিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, জুবের আলম খান রবিন ওরফে রেলওয়ে রবিন, আরিফুর রহমান সোহেল ওরফে ‘ঘাতক’ সোহেল, খাইরুল ইসলাম, সোহেল শাহরিয়ার, মারুফ রেজা সাগর, শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীম, তৌফিক হাসান ওরফে বাবু, সুমন হোসেন ওরফে সুমন, এহতেশাম উদ্দিন চৌধুরী ওরফে অপু ও শরিফুল ইসলাম ওরফে হৃদয়। এদের মধ্যে মুসা, আকাশ ও নাসির হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ইশতিয়াক আহম্মেদ জিতু, ইয়াসির আরাফাত সৈকত ও রাকিবুর রহমান এবং এছাড়া ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে মশিউর রহমান একরাম ও আরিফুর রহমান সোহেল ওরফে ঘাতক সোহেল জামিন পেয়েছেন।

বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ , ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৪

আওয়ামী লীগ নেতা টিপু ও কলেজছাত্রী প্রীতি হত্যা

মুসার জবানবন্দি ‘জটিলতার’ মধ্যেই চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকাদার মুসার জবানবন্দি তদন্তে ‘জটিলত’ তৈরি করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে মুসা যে জবানবন্দি দিয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতার নাম রয়েছে। মুসা জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু হত্যার আগে ঢাকা দুটি ভিন্ন জায়গায় মিটিং করেছেন। সেখান থেকে টিপুকে হত্যার নির্দেশনা এসেছে। কিন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোন বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের উপস্থিত থাকার তথ্য-প্রমাণ না পায়নি। আরেকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিত থাকার বিষয়, এমনকি হত্যার নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার হতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে অনেককিছু অন্ধকারে থেকেই চার্জশিট প্রস্তুত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি।

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদার মুসাসহ কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে মুসার জবানবন্দির কিছু তথ্য জটিলতা তৈরি করেছে। সূত্র জানিয়েছে, মুসার জবানবন্দিতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ তালুকদার ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনসুরের নাম এসেছে। তাদের বিষয়ে জবানবন্দিতে যা বলা হয়েছে তার কোন প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এ মামলার চার্জশিট কিছুদিনের মধ্যে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে তদন্তের এক বছর পার হয়ে গেছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে চায় ডিবি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিপুকে হত্যায় কারা অংশ নিয়েছে, কত টাকা হত্যার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, কেন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সবকিছু ডিবির তদন্তে দ্রুত সময়ের মধ্যে উঠে এসেছে। কিন্তু হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকদার মুসাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড হেফাজত শেষে আদালতে হাজির করা হলে, সে ম্যাজিস্ট্রটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেখানে সে দুজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে সেই তথ্যের প্রমাণ ডিবির কাছে পরিষ্কার না হওয়ায় চার্জশিটে দেয়ার ক্ষেত্রে সময় নেয়া হয়েছে।

মুসা তার জবাববন্দিতে বলেছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর আশরাফের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ছোটাখাটো বিষয়ে সে আশরাফ তালকুদারের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়, বিনিময়ে পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পোলাপান ও খরচপাত্তি দেয়। ২০২১ সালের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর সে আশরাফ তালকুদারকে ফোন দেয়। এরপর ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির (২০২২) ১৫ তারিখে আশরাফ তালুকদারের ছোট ভাই টিটুকে ফোন দিলে তাকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রধান গেটের উল্টোপাশে রূপটপ রেস্টুরেন্টে যেতে বললে সে সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে মুসা আশরাফ তালুকদার, মুনসুর, মারুফ রেজা সাগর, মোল্লা রানা, ঘাতক সোহেল, আমিনুল, বাবুল তালুকদার, সোহেল শাহরিয়ারের ছোট ভাই রিয়াত, টিটু ও খাইরুকে দেখতে পায়। সেখানে ঠিকাদারি ও স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে কথা শুরু হয়। এরপর টেন্ডার বাণিজ্যের সুবিধা ও ভর্তি বাণিজ্যের সুবিধা নিয়েও নিজেদের মধ্যে কথাবার্ত হয়। ওই বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিক। একপর্যায়ে জিসান আশরাফ তালুকদার ও মনসুরকে উদ্দেশ্য করে টিপুকে মেরে ফেলার জন্য বলে। আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলের মনসুরের সঙ্গে জিসান ও মানিকের রাগারাগি হয় মোবাইলে কথা বলার সময়। জিসান বলে আমাদের সহযোগিতা লাগলে বলেন আমরা সাহায্য করবো। লাগলে আমাদের লোক ও টিপুর লোকজন এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবো। জিসান ও মানিক, আশরাফ ও মনসুরকে উদ্দেশ্য করে বলে টিপুকে মেরে ফেলতে হবে। টিপু না থাকলে সবাই সুবিধা পাবে। বর্তমানে টিপু না থাকায় সবচেয়ে সুবিধাভোগী হলেন আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলর মনসুর। আশরাফ ও মনসুর ভাই কথা শেষ করে বলে আমরা যাই, তোদের কিছু লাগলে টিটুকে বলিস আমরা ব্যবস্থা করে দিবো। একপর্যায়ে টিটু বলে, আমি টিপু ভাইয়ের সঙ্গে থেকে কিছু পাইনি আপনারা সমর্থন দিলে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চাই। তখন আশরাফ তালুকদার টিটুকে বলে, তুমি কাজ চালিয়ে যাও আমি দেখবো।

মুসার জবানবন্দিতে টিপু হত্যায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার বলেন, মুসার সঙ্গে আমার কোন পরিচয় বা সম্পর্ক কোনদিন ছিল না এবং আমি মুসাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। টিপু আমাদের দলের লোক এবং আমার সঙ্গে কমিটিতে ছিল। টিপুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি এর প্রতিবাদ জানাই। শুধু টিপু নয় বৃহত্তম মতিঝিলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা খুন হয়েছে। এর নেপথ্যে কারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি টিপুকে হত্যায় জড়িতদের শাস্তি আমিও চাই।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মতিঝিল, খিলগাঁও, শাজাহানপুর, পল্টনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বৃহত্তম মতিঝিল কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদন হয়। এসব লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ পেতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই হত্যক্যাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এর নেপথ্যে বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক, জিসানের নির্দেশনা রয়েছে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির একটি বড় অংশ চলে যায় জিসান ও মানিকের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক থাকলেও মতিঝিলের খুনোখুনি জিসান ও মানিকের দিক নির্দেশনা রয়েছে। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে জিসান ও মানিক একেক সময় একেক জনের মাধ্যমে বৃহত্তম মতিঝিলে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যা করা হয়। জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যায় মতিঝিল আন্ডার ওয়ার্ল্ড সিন্ডিকেটের লোকজনকেই ব্যবহার করা হয়। টিপু হত্যার আগে ক্যাসিনো কাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলে মতিঝিলের নিয়ন্ত্রণ নেয় জাহিদুল ইসলাম টিপু। কিন্তু টিপুকে হত্যার পর নিয়ন্ত্রণ ফের আন্ডার ওয়ার্ল্ড সিন্ডিকেটের কাছে চলে আসে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিকের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে।

সূত্রটি জানিয়েছে, টিপু মারা যাওয়ার পর মতিঝিল, খিলগাঁও, শাজাহানপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা নির্বিঘেœ চালাতে হলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার ও কাউন্সিলর মনসুরকে বাধা মনে করা হচ্ছে। এ কারণে টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশ দাতাদের মধ্যে আশরাফ তালকুদারের নাম জড়িয়ে মুসা যে জবানবন্দি দিয়েছে তা আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিকল্পনায় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে খালেদ চৌধুরীও যোগ সূত্র রয়েছে। ক্যাসিনো কাণ্ডে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর জামিনে বের হয়ে এখন মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, শাজাহানপুর থানা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে খালেদ চৌধুরী ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যা নেপথ্যে মতিঝিলকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও স্কুলের ভর্তি বাণিজ্যের বিরোধই ছিল মূল কারণ। আর এসব বিরোধের জেরেই টিপুকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশ দাতাদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝখানে সুমন শিকার মুছা তার জবানবন্দিতে আওয়মী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতার সংশ্লিষ্টতার যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন জবানবন্দিতে যা ইতোমধ্যে একটি পত্রিকায় এসেছে তা রীতিমতো হাস্যকর। কারণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকবেন এটা তারা বিশ্বাস করেন না। মুসাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার আগ পর্যন্ত মুসা দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিকের আশ্রয়ে ছিলেন। তাদের ধারণা ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ তালুকদারকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন যাতে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়।

ডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী সুমন শিকদার মুসা জবাববন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে তার কোন প্রমাণ পাচ্ছি না। এর ফলে চার্জশিটে আশরাফ তালুকদারের নাম থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ হত্যার পরিকল্পনাকারী মুসা আশরাফ তালুকদারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বলেছেন, কিন্তু তদন্তে কোন প্রমাণ নেই। এখন আসামির জবাববন্দি অনুযায়ী আশরাফ তালুকদারের নাম চার্জশিটে থাকবে কি-না তা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে। এদিকে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনাল টিম। টিমের এডিসি মো. শাহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত করেছেন ইন্সপেক্টর মো. ইয়াসিন শিকদার। সম্প্রতি মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা এডিসি মো. সাহিদুজ্জামান বদলি হয়ে গেছেন। তার জাগায় মামলার নতুন তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে এসেছেন আকার হোসেন।

টিপু হত্যার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ জানান, চাঞ্চল্যকর টিপু ও প্রীতি হত্যা মামলার তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হত্যা মামলায় সম্পৃক্তদের কার কি ভূমিকা তা তদন্তে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিকল্পনায় কারা রয়েছে সেটিও পরিষ্কার। দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগের তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা অতি. উপপুলিশ কমিশনার সাহিদুজ্জামান ডিবির ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় মামলার চার্জশিদ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে ।

গত বছরের ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান ওরফে প্রীতিও (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। জাহিদুল হত্যার ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শাহাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, টিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৫ আসামি হলেন- সুমন শিকদার ওরফে মুসা, নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির, ওমর ফারুক, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্যা পলাশ, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, আবুল হোসেন মোহাম্মদ আরফান উল্লাহ, ইমাম খান ওরফে দামাল, নাসির উদ্দিন মানিক মারুফ খান, মশিউর রহমান একরাম, ইয়াসির আরাফাত সৈকত, সেকান্দার সিকদার আকাশ, হাফিজুল ইসলাম, ইশতিয়াক আহম্মেদ জিতু, ইমরান হোসেন জিতু, রাকিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, জুবের আলম খান রবিন ওরফে রেলওয়ে রবিন, আরিফুর রহমান সোহেল ওরফে ‘ঘাতক’ সোহেল, খাইরুল ইসলাম, সোহেল শাহরিয়ার, মারুফ রেজা সাগর, শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীম, তৌফিক হাসান ওরফে বাবু, সুমন হোসেন ওরফে সুমন, এহতেশাম উদ্দিন চৌধুরী ওরফে অপু ও শরিফুল ইসলাম ওরফে হৃদয়। এদের মধ্যে মুসা, আকাশ ও নাসির হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ইশতিয়াক আহম্মেদ জিতু, ইয়াসির আরাফাত সৈকত ও রাকিবুর রহমান এবং এছাড়া ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে মশিউর রহমান একরাম ও আরিফুর রহমান সোহেল ওরফে ঘাতক সোহেল জামিন পেয়েছেন।