সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় গাজীপুর বিএনপির ২৯ নেতা আজীবন বহিষ্কার

বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। দলের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় ২৯ নেতা কাউন্সিলর পদে অংশগ্রহণ করায় তাদের সবাইকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

গত মঙ্গলবার দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই পত্রে বলা হয়, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা কাউন্সিলর হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা কোন সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে বরং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২৯ নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন গাজীপুর সদর থানা বিএনপির সভাপতি মজিবর সরকার; সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আজমল ভূঁইয়া; সদর থানার বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হান্নান মিয়া; বাসন থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন; টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউদ্দিন আহম্মেদ; মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার; পুবাইল থানা বিএনপির সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম; পুবাইল থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সুলতান উদ্দিন; সদর থানা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রশিদ খান; সদর থানা বিএনপির সদস্য সবদের আহাম্মদ, খায়রুল আলম, জি এস মনির, শহিদুল ইসলাম, তানভির আহমেদ, শাহিন আলম, আনোয়ার সরকার, রফিকুল ইসলাম।

আজীবন বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকায় আরও আছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম; টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সেলিম হোসেন; গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন খান; গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি খন্দকার নুরুন্নাহার, কেয়া শারমিন; গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সদস্য ফিরোজা বেগম; টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাসিনা মমতাজ; ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলম; ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আউয়াল সরকার; গাছা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান; ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন মিলন ও টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শওকত হোসেন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৩০ জন নেতা গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। যার কারণে গত মঙ্গলবার গাজীপুর বিএনপির ২৯ জন নেতাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ , ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৪

সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় গাজীপুর বিএনপির ২৯ নেতা আজীবন বহিষ্কার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। দলের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় ২৯ নেতা কাউন্সিলর পদে অংশগ্রহণ করায় তাদের সবাইকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

গত মঙ্গলবার দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই পত্রে বলা হয়, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা কাউন্সিলর হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা কোন সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে বরং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত রয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২৯ নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন গাজীপুর সদর থানা বিএনপির সভাপতি মজিবর সরকার; সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাসান আজমল ভূঁইয়া; সদর থানার বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হান্নান মিয়া; বাসন থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোছলেম উদ্দিন; টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউদ্দিন আহম্মেদ; মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার; পুবাইল থানা বিএনপির সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম; পুবাইল থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সুলতান উদ্দিন; সদর থানা বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রশিদ খান; সদর থানা বিএনপির সদস্য সবদের আহাম্মদ, খায়রুল আলম, জি এস মনির, শহিদুল ইসলাম, তানভির আহমেদ, শাহিন আলম, আনোয়ার সরকার, রফিকুল ইসলাম।

আজীবন বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকায় আরও আছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য আবুল হাশেম; টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সেলিম হোসেন; গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন খান; গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি খন্দকার নুরুন্নাহার, কেয়া শারমিন; গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সদস্য ফিরোজা বেগম; টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাসিনা মমতাজ; ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলম; ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আউয়াল সরকার; গাছা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহফুজুর রহমান; ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন মিলন ও টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শওকত হোসেন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৩০ জন নেতা গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। যার কারণে গত মঙ্গলবার গাজীপুর বিএনপির ২৯ জন নেতাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।