বরিশাল : মেয়র প্রার্থী ১০, কাউন্সিলর প্রার্থী ১৮২

২০০২ সালে গঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশনের আসন্ন ৫ম নগর পরিষদের নির্বাচনে ৪ জন দলীয় প্রার্থীসহ মোট ১০ জন মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ১৪৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দলীয় মনোনয়ন পত্র দাখিলকারীরা হলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, জকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের মিজানুর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন বিএনপি ঘরানার কামরুল আহসান রুপন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি সৈয়দ এছাহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের, মো. নেছারউদ্দিন, কাশীপুরের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী ঘরানার লুৎফুল কবীর, মো. আসাদুজ্জামান। আজ অর্থাৎ ১৮ মে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। ২৫ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন, ২৬ মে প্রতীক বরাদ্দ, ১২ জুন ভোট গ্রহণ।

তবে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে দাবি করা হলেও পুরো নগরীজুড়ে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত একটি গ্রুপের প্রার্থী হিসেবেও প্রচারণা রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ কাউন্সিলর প্রার্থী দণ্ডিত

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মোট ৬৮ হাজার ৫০০ শত টাকা জরিমানা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান, আবি আবদুল্লাহ ও মঈনউদ্দিন আহমেদ। কোন কোন প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে তা প্রকাশ করা না হলেও বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে ১২ নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন ভুলুকে ৫ হাজার টাকা, ৫ নং ওয়ার্ডের শেখ আনোয়ার হোসেনকে ২০ হাজার টাকা, ২২ নং ওয়ার্ডের শহীদ খান আজাদকে ২০ হাজার টাকা, এছাড়া আরও তিনজনকে ২৩ হাজার ৫০০ শত টাকা।

মনোনয়ন পত্র দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রার্থীর প্রস্তাবকের মৃত্যু

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ১৮ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আবদুল্লাহ সাদীর প্রস্তাবক ছিলেন ক্ষিরোদ মুখার্জী লেনের বাসিন্দা ও নগরীর এসসিজিএম (চৈতন্য) বিদ্যালয়ের এমএ জলিল (৭০)। সাদী জানান বর্তমানে তিনি দলের কোন পদে নেই।

সাদী জানান, বেলা ১১টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর প্রস্তাবক এমএ জলিল বাড়ি চলে যান। বিকেল চারটার দিকে তার বুকে ব্যথা উঠলে তাকে দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারাগারে থাকা আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা মান্নাও কাউন্সিলর প্রার্থী

আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের প্রাচরকর্মীদের পিটিয়ে আহত করা ও হত্যার হুমকি দেয়া এবং সদ্য বিলুপ্ত হওয়া বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর একান্ত ঘনিষ্ট সহচর রইছ আহাম্মেদ মান্না কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জানা যায়, ২ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আরও ৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন।

মান্না কারারুদ্ধ হওয়ার পর এখন তার এলাকার সাধার মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর মামাতো ভাই অসীম দেওয়ান অভিযোগ করেন, মান্নার নেতৃত্বে তার বাড়িতে কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময়ে পিস্তলের গুলি ছোড়া হয়েছে। তাই তিনি বরিশাল ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অন্য মানুষের অভিযোগ তারা মান্নার অত্যাচারে নিপীড়িত হলেও জীবনের ভয়ে কোথাও কোন অভিযোগ জানাতে পারেননি। এমনকি আহতরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বরিশালের কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হতে পারেননি।

২০২১ সনের আগস্টে রাতের বেলা বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বসতবাড়িতে

সশস্ত্র হামলা, একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মান্না বিসিক শিল্প নগরীতে থাকা জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুনে হামলা এবং কাউনিয়া থানা ঘেরাও করার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা যায়।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ , ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৪

নগর নির্বাচন

বরিশাল : মেয়র প্রার্থী ১০, কাউন্সিলর প্রার্থী ১৮২

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

২০০২ সালে গঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশনের আসন্ন ৫ম নগর পরিষদের নির্বাচনে ৪ জন দলীয় প্রার্থীসহ মোট ১০ জন মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ১৪৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দলীয় মনোনয়ন পত্র দাখিলকারীরা হলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, জকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের মিজানুর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন বিএনপি ঘরানার কামরুল আহসান রুপন, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি সৈয়দ এছাহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের, মো. নেছারউদ্দিন, কাশীপুরের সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী ঘরানার লুৎফুল কবীর, মো. আসাদুজ্জামান। আজ অর্থাৎ ১৮ মে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। ২৫ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন, ২৬ মে প্রতীক বরাদ্দ, ১২ জুন ভোট গ্রহণ।

তবে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী যথেষ্ট শক্ত অবস্থান নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে দাবি করা হলেও পুরো নগরীজুড়ে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত একটি গ্রুপের প্রার্থী হিসেবেও প্রচারণা রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ কাউন্সিলর প্রার্থী দণ্ডিত

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মোট ৬৮ হাজার ৫০০ শত টাকা জরিমানা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম রাকিবুল হাসান, আবি আবদুল্লাহ ও মঈনউদ্দিন আহমেদ। কোন কোন প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে তা প্রকাশ করা না হলেও বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে ১২ নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন ভুলুকে ৫ হাজার টাকা, ৫ নং ওয়ার্ডের শেখ আনোয়ার হোসেনকে ২০ হাজার টাকা, ২২ নং ওয়ার্ডের শহীদ খান আজাদকে ২০ হাজার টাকা, এছাড়া আরও তিনজনকে ২৩ হাজার ৫০০ শত টাকা।

মনোনয়ন পত্র দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রার্থীর প্রস্তাবকের মৃত্যু

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ১৮ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আবদুল্লাহ সাদীর প্রস্তাবক ছিলেন ক্ষিরোদ মুখার্জী লেনের বাসিন্দা ও নগরীর এসসিজিএম (চৈতন্য) বিদ্যালয়ের এমএ জলিল (৭০)। সাদী জানান বর্তমানে তিনি দলের কোন পদে নেই।

সাদী জানান, বেলা ১১টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর প্রস্তাবক এমএ জলিল বাড়ি চলে যান। বিকেল চারটার দিকে তার বুকে ব্যথা উঠলে তাকে দ্রুত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারাগারে থাকা আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা মান্নাও কাউন্সিলর প্রার্থী

আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের প্রাচরকর্মীদের পিটিয়ে আহত করা ও হত্যার হুমকি দেয়া এবং সদ্য বিলুপ্ত হওয়া বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর একান্ত ঘনিষ্ট সহচর রইছ আহাম্মেদ মান্না কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জানা যায়, ২ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আরও ৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন।

মান্না কারারুদ্ধ হওয়ার পর এখন তার এলাকার সাধার মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ও মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর মামাতো ভাই অসীম দেওয়ান অভিযোগ করেন, মান্নার নেতৃত্বে তার বাড়িতে কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময়ে পিস্তলের গুলি ছোড়া হয়েছে। তাই তিনি বরিশাল ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অন্য মানুষের অভিযোগ তারা মান্নার অত্যাচারে নিপীড়িত হলেও জীবনের ভয়ে কোথাও কোন অভিযোগ জানাতে পারেননি। এমনকি আহতরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বরিশালের কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হতে পারেননি।

২০২১ সনের আগস্টে রাতের বেলা বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বসতবাড়িতে

সশস্ত্র হামলা, একই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মান্না বিসিক শিল্প নগরীতে থাকা জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুনে হামলা এবং কাউনিয়া থানা ঘেরাও করার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা যায়।