সিলেট মেয়রের নিরাপত্তায় থাকা আনসার প্রত্যাহার

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করে নেয় জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়। এর একদিন পরই গতকাল বিকেলে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার নানা চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, নির্দিষ্ট মাসিক ফি’তে প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় থেকে ২৪ জন আনসার সদস্যকে নিয়োগ দেয় সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে পাঁচজন আনসার সদস্য দিন ও রাতে পালাক্রমে মেয়রের ব্যক্তিগত ও তার বাসার নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ মেয়র আরিফের বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়ান।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে আমাকে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে আমার বাসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা ৬ জন আনসার বাহিনীর সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সিলেটে নতুন যোগদান করা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার।’

মেয়র আরিফ বলেন, মৌখিক বা লিখিত, কোনভাবেই আমাকে বা সিসিকের কাউকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। অথচ গত ৬ বছর ধরে মাসিক বেতনের বিনিময়ে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নগর ভবন ও আমার (মেয়রের) বাসার অফিসসহ সিসিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে আমার (মেয়রের) বাসা ও বাসা সংলগ্ন অফিসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৬ জনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে আমার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।’

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন আমাকে সরকার থেকে দু’জন গানম্যান দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের মেয়াদে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরপর নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় মাসিক চুক্তিতে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। শিডিউল করে সিসিকের পানি শোধনাগার ও যান্ত্রিক শাখাসহ (যেখানে সিসিকের বিভিন্ন গাড়ি ও মেশিন রাখা হয়) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন তারা। তাদের মধ্যে থেকে ৬ জনকে আমার বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে এই ৬ জনকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এছাড়া আমার বাসা-সংলগ্ন অফিসে রাখা সিসিকের লাখ লাখ টাকার মালামাল এখন অনিরাপদ। এটা অতিউৎসাহী হয়ে এই বাহিনীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রশাসনের অতিউৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড খোদ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। আমার বাসার নিরাপত্তা সদস্যদের কিন্তু সরকারের নির্দেশনায় প্রত্যাহার করা হয়নি।’

আগামী সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র আরিফুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি আমি মহানগরের যেখানে যাচ্ছি এবং আমার সঙ্গে ছবি পর্যন্ত তুলছেন, দেখা যাচ্ছে রাতের বেলা তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাউকে রিমান্ডে পর্যন্ত নিচ্ছে। আমি তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাকে প্রধানমন্ত্রী শপথ করিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের অতিউৎসাহী কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয় সেটিও সম্ভবত ভুলে গেছেন।’

মেয়র আরিফ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার বাসায় যদি এভাবে নিরাপত্তা দেয়া আইনসিদ্ধ না হয় তবে দীর্ঘ ৬ বছর তারা কোথায় ছিলেন? আমি দেখছি, আমার নগরবাসী থেকে আমাকে দূরে রাখার সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি নগরবাসীর কাছে দোয়া চাই।’

এর আগে, এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির সিলেট জেলার কমান্ড্যান্ট আলী রেজা রাব্বি জানান, ‘পাঁচ বছর আগে নগর কর্তৃপক্ষ নগর ভবনের নিরাপত্তা দিতে আনসার নিয়েছিল। বাসা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আনসার নেয়া যায় না। এর মধ্যে পাঁচজন আনসার সদস্য মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তার বাসভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, মেয়রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচজন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন এসব আনসার সদস্য শুধু নগর ভবনে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নগর ভবনে কাজ করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। নগর ভবনে নিরাপত্তা দিতে তারা কাজ করবেন, তবে কারও কোন ব্যক্তিগত কাজ করবেন না।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ , ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৪

সিলেট মেয়রের নিরাপত্তায় থাকা আনসার প্রত্যাহার

প্রতিনিধি, সিলেট

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করে নেয় জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়। এর একদিন পরই গতকাল বিকেলে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার নানা চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, নির্দিষ্ট মাসিক ফি’তে প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় থেকে ২৪ জন আনসার সদস্যকে নিয়োগ দেয় সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে পাঁচজন আনসার সদস্য দিন ও রাতে পালাক্রমে মেয়রের ব্যক্তিগত ও তার বাসার নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ মেয়র আরিফের বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়ান।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে আমাকে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে আমার বাসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা ৬ জন আনসার বাহিনীর সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সিলেটে নতুন যোগদান করা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার।’

মেয়র আরিফ বলেন, মৌখিক বা লিখিত, কোনভাবেই আমাকে বা সিসিকের কাউকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। অথচ গত ৬ বছর ধরে মাসিক বেতনের বিনিময়ে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নগর ভবন ও আমার (মেয়রের) বাসার অফিসসহ সিসিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে আমার (মেয়রের) বাসা ও বাসা সংলগ্ন অফিসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৬ জনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে আমার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।’

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন আমাকে সরকার থেকে দু’জন গানম্যান দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরের মেয়াদে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরপর নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় মাসিক চুক্তিতে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। শিডিউল করে সিসিকের পানি শোধনাগার ও যান্ত্রিক শাখাসহ (যেখানে সিসিকের বিভিন্ন গাড়ি ও মেশিন রাখা হয়) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন তারা। তাদের মধ্যে থেকে ৬ জনকে আমার বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে এই ৬ জনকে প্রত্যাহার করে নেয়ায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এছাড়া আমার বাসা-সংলগ্ন অফিসে রাখা সিসিকের লাখ লাখ টাকার মালামাল এখন অনিরাপদ। এটা অতিউৎসাহী হয়ে এই বাহিনীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রশাসনের অতিউৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড খোদ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে। আমার বাসার নিরাপত্তা সদস্যদের কিন্তু সরকারের নির্দেশনায় প্রত্যাহার করা হয়নি।’

আগামী সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র আরিফুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি আমি মহানগরের যেখানে যাচ্ছি এবং আমার সঙ্গে ছবি পর্যন্ত তুলছেন, দেখা যাচ্ছে রাতের বেলা তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাউকে রিমান্ডে পর্যন্ত নিচ্ছে। আমি তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাকে প্রধানমন্ত্রী শপথ করিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের অতিউৎসাহী কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয় সেটিও সম্ভবত ভুলে গেছেন।’

মেয়র আরিফ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার বাসায় যদি এভাবে নিরাপত্তা দেয়া আইনসিদ্ধ না হয় তবে দীর্ঘ ৬ বছর তারা কোথায় ছিলেন? আমি দেখছি, আমার নগরবাসী থেকে আমাকে দূরে রাখার সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি নগরবাসীর কাছে দোয়া চাই।’

এর আগে, এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির সিলেট জেলার কমান্ড্যান্ট আলী রেজা রাব্বি জানান, ‘পাঁচ বছর আগে নগর কর্তৃপক্ষ নগর ভবনের নিরাপত্তা দিতে আনসার নিয়েছিল। বাসা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আনসার নেয়া যায় না। এর মধ্যে পাঁচজন আনসার সদস্য মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তার বাসভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, মেয়রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচজন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন এসব আনসার সদস্য শুধু নগর ভবনে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের নগর ভবনে কাজ করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। নগর ভবনে নিরাপত্তা দিতে তারা কাজ করবেন, তবে কারও কোন ব্যক্তিগত কাজ করবেন না।