ব্রাজিল ফুটবলে পাতানো ম্যাচ

পাতানো ম্যাচের অভিযোগ উঠেছে ব্রাজিল ফুটবলে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে, শুধু ব্রাজিলের লিগে নয়, ম্যাচ পাতানো ছড়িয়েছিল বিদেশের অনেক লিগেও। সেই সব লীগে খেলা ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের প্রস্তাব দেয়া হতো। অর্থ আসতো বিদেশ থেকে। টাকা নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে খুনের হুমকিও পেতেন ফুটবলাররা।

এই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ নিয়ে ব্রাজিলের এক অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্ত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের ম্যাচ পাতানোয় যুক্ত থাকার অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যে দেশে খেলেন সেখানকার ফুটবল সংস্থা প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবেন।

সংবাদ সংস্থা এপিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘জুয়াড়িদের সঙ্গে ফুটবলারদের কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগই হয়েছে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লীগগুলোতে। আমরা আমাদের তদন্তের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল সংস্থাকে পাঠিয়েছি। তারা চাইলে নিজেদের মতো করে তদন্ত করতে পারে।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লীগে কলোরাডো র‌্যাপিডসের হয়ে খেলা ম্যাক্স আলভেসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাকে নির্বাসিত করেছে ক্লাব।

গত নভেম্বর মাস থেকে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রথমে তিনটি ম্যাচে পাতানোর অভিযোগ উঠেছিল। পরে জানা যায়, ১১টি ম্যাচে পাতানো হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি ম্যাচ নীচের ডিভিশনের লীগে হয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচে ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে হয়েছে ।

তদন্তে জানা যায়, ফুটবলারদের ৮ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়া হতো। সেই টাকা নিয়ে ইচ্ছাকৃত হলুদ কার্ড দেখা, প্রতিপক্ষ দলকে পেনাল্টি পাইয়ে দেয়ার মতো কাজ করতেন ফুটবলাররা। কেউ যদি টাকা নিয়ে সেই কাজ করতে ব্যর্থ হতেন, তা হলে সেই ফুটবলারকে খুনের হুমকি দেয়া হত। গ্রিস, লিথুয়ানিয়ার মতো দেশ থেকে জুয়াড়িরা ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে জানা গিয়েছে তদন্তে। ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের দেশের কয়েকজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ উঠেছে। মেজর সকার লীগ, সিরি এ, সিরি বি-র মতো প্রতিযোগিতায় খেলেন তারা। ফুটবল সংস্থার তরফে সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩ , ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৪

ব্রাজিল ফুটবলে পাতানো ম্যাচ

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

image

কলরাডো র‌্যাপিডসের ম্যাক্স আলভেসের বিপক্ষে হলুদ কার্ড পেতে ১০ হাজার ডলারের বেশি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে

পাতানো ম্যাচের অভিযোগ উঠেছে ব্রাজিল ফুটবলে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে, শুধু ব্রাজিলের লিগে নয়, ম্যাচ পাতানো ছড়িয়েছিল বিদেশের অনেক লিগেও। সেই সব লীগে খেলা ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের প্রস্তাব দেয়া হতো। অর্থ আসতো বিদেশ থেকে। টাকা নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে খুনের হুমকিও পেতেন ফুটবলাররা।

এই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ নিয়ে ব্রাজিলের এক অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্ত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিলীয় ফুটবলারদের ম্যাচ পাতানোয় যুক্ত থাকার অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যে দেশে খেলেন সেখানকার ফুটবল সংস্থা প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবেন।

সংবাদ সংস্থা এপিকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘জুয়াড়িদের সঙ্গে ফুটবলারদের কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগই হয়েছে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লীগগুলোতে। আমরা আমাদের তদন্তের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল সংস্থাকে পাঠিয়েছি। তারা চাইলে নিজেদের মতো করে তদন্ত করতে পারে।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লীগে কলোরাডো র‌্যাপিডসের হয়ে খেলা ম্যাক্স আলভেসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাকে নির্বাসিত করেছে ক্লাব।

গত নভেম্বর মাস থেকে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রথমে তিনটি ম্যাচে পাতানোর অভিযোগ উঠেছিল। পরে জানা যায়, ১১টি ম্যাচে পাতানো হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি ম্যাচ নীচের ডিভিশনের লীগে হয়েছে। বেশিরভাগ ম্যাচে ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে হয়েছে ।

তদন্তে জানা যায়, ফুটবলারদের ৮ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়া হতো। সেই টাকা নিয়ে ইচ্ছাকৃত হলুদ কার্ড দেখা, প্রতিপক্ষ দলকে পেনাল্টি পাইয়ে দেয়ার মতো কাজ করতেন ফুটবলাররা। কেউ যদি টাকা নিয়ে সেই কাজ করতে ব্যর্থ হতেন, তা হলে সেই ফুটবলারকে খুনের হুমকি দেয়া হত। গ্রিস, লিথুয়ানিয়ার মতো দেশ থেকে জুয়াড়িরা ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে জানা গিয়েছে তদন্তে। ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের দেশের কয়েকজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ উঠেছে। মেজর সকার লীগ, সিরি এ, সিরি বি-র মতো প্রতিযোগিতায় খেলেন তারা। ফুটবল সংস্থার তরফে সরকারের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা।