ভর্তুকি আর না, বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম নির্ধারণ আন্তর্জাতিক দরে : নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘সরকার এ দুই সেক্টরে দীর্ঘ সময় ধরে যে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, সেখান থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’ গতকাল বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক ও পাওয়ার ডিভিশন যৌথভাবে ‘নিউ মেকানিজম টু সাপোর্ট সিস্টেমেটিক আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড একসেস টু ল্যান্ড ফর রিনিউএবল এনার্জি (ইউটিলিটি স্কেল সোলার) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করে।

ভোক্তাকে কমমূল্যে দেয়ার লক্ষ্যে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে আসছে সরকার। এখন এই তিন খাত থেকে ভর্তুকি তুলে নিলে দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করতে হবে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হবে। দাম নির্ধারণের নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। তার অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অকৃষি জমিতে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে আর। এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশের কৃষি জমির এক শতাংশ ব্যবহার করতে পারলে ৫০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু পর্যাপ্ত জমির অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্লিন এনার্জির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। এই বিদ্যুৎ আসতে পারে পরমাণু, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। সে লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মুনিরা সুলতানা, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় দেশের তিনটি এলাকা সোলার পাওয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে স্টাডি করেছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সৌরবিদ্যুতে বড় একটা পরিবর্তন আসবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

ভর্তুকি আর না, বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম নির্ধারণ আন্তর্জাতিক দরে : নসরুল হামিদ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘সরকার এ দুই সেক্টরে দীর্ঘ সময় ধরে যে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, সেখান থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’ গতকাল বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক ও পাওয়ার ডিভিশন যৌথভাবে ‘নিউ মেকানিজম টু সাপোর্ট সিস্টেমেটিক আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড একসেস টু ল্যান্ড ফর রিনিউএবল এনার্জি (ইউটিলিটি স্কেল সোলার) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই কর্মশালার আয়োজন করে।

ভোক্তাকে কমমূল্যে দেয়ার লক্ষ্যে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে আসছে সরকার। এখন এই তিন খাত থেকে ভর্তুকি তুলে নিলে দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করতে হবে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাস গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হবে। দাম নির্ধারণের নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। তার অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অকৃষি জমিতে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে আর। এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশের কৃষি জমির এক শতাংশ ব্যবহার করতে পারলে ৫০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু পর্যাপ্ত জমির অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্লিন এনার্জির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। এই বিদ্যুৎ আসতে পারে পরমাণু, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। সে লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মুনিরা সুলতানা, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় দেশের তিনটি এলাকা সোলার পাওয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে স্টাডি করেছে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সৌরবিদ্যুতে বড় একটা পরিবর্তন আসবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।