স্টেডিয়াম নির্মাণের অজুহাতে অবৈধ বালু ব্যবসা

ফরিদপুরে বেসরকারি উদ্যোগে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে এ অজুহাতে প্রশাসনের কোন অনুমনি ছাড়াই পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধ এ বালুর ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম হকের নাম। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এ ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়টি তারা (প্রশাসন) দেখেও দেখছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ওই এলাকার কাদের বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর ভিতরে আধা কিলোমিটার দূর থেকে রাতের আঁধারে খনন যন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে এ বালু কাটা হচ্ছে ।

ফরিদপুর সদরের শহরতলীর আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ভাজনডাঙ্গা, গদাধর ডাঙ্গী ও কাদেরের বাজার এলাকার গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়কের পূর্বপাশে অন্তত ৫টি জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে, নদী থেকে তোলা ওই বালু। ওই জায়গা থেকে প্রতিদিন বালু বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে ওই বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বালু ব্যবসার ফলে হুমকিতে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ। বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ফরিদপুর শহর। এলাকাবাসীও বালুঝড় ও মেশিনের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন সময়ে সরেজমিন বালু তোলা ও বালু বিক্রির প্রতিটি জায়গায় গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ফরিদপুর শহর থেকে টেপাখোলা হয়ে ভাজনডাঙ্গা, সাদীপুর, গদাধরডাঙ্গী, সাইন বোর্ড এলাকা হয়ে নদীর ধারা চলে গেছে পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ পর্যন্ত। তার পাশ দিয়েই রাজবাড়ী-তাড়াইল সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কটি চলে গেছে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া পর্যন্ত। সড়কটি পদ্মা নদী সংলগ্ন। এ নদীরপাড় দিয়ে চলে গেছে গজারিয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে চরভদ্রাসন সড়ক ও দক্ষিণে গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়ক নাম ধারণ করে সদরপুর উপজেলা যাওয়ার সড়ক। টেপাখোলা হয়ে তাড়াইল সড়ক ধরে ২ কিলোমিটার আগালেই পদ্মার সংযোগ খাল মান্দারতলা খাল। মান্দারতলা খালের উত্তর পাশেই রয়েছে ভাজনডাঙ্গা মামা-ভাগ্নে এন্টারপ্রাইজ। যার স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল হক। এখানে বালু বিক্রয় করা হয়। সঙ্গে তাদের পার্টনার রয়েছে মক্কা এন্টারপ্রাইজ এর মো. মুক্তার হোসেন ও মদিনা এন্টারপ্রাইজের মো. টিটু।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা সংলগ্ন প্রায় দুই একর জমিজুড়ে রয়েছে তাদের বালুর চাতাল। চাতালটি পেছনে পদ্মার শহর রক্ষা বাঁধের সীমানা। সেখানে প্রতি রাতে পদ্মার থেকে বালু কেটে বলগেটে ভরে এনে খালাস করা হয়। এ চাতালে ছোট টিলার আকারে স্তূপ করে রাখা প্রায় ১৫ ফুট উঁচু বালুর ঢিপি। চাতাল থেকে ভেকু মেশিন (এস্কেভেটর) দিয়ে ট্রাকে লোড দেয়া হয় বালু। এ চাতাল থেকে ২ টাকা দরে প্রতি ঘন ফুট বালু বিক্রি করা হয়। এই প্রতিবেদকদের দেখেই ভেকু মেশিন বন্ধ করে সটকে পড়েন চালক। বন্ধ হয়ে যায় বালু ট্রাকে লোড দেয়া।

মামা-ভাগ্নে অফিসে ছিলেন তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার মো. টিটু। তিনি বলেন, ২ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পদ্মায় ড্রেজিং করা হয় তখন ইউএনও মাধ্যমে বালু নিলামে বিক্রয় করা হয়। তারা সেই বালু কিনে এখানে রেখে ব্যবসা করে। ওই বালু শেষ হওয়ার পর এখন আলিয়াবাদের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বালু কিনে এনে তারা বিক্রি করছেন। মো. টিটু দাবি করে বলেন, সাইনবোর্ড এলাকায় শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য পদ্মা নদী থেকে থেকে ড্রেজিং করে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হয় নদীর পাড়ে। সেখানে থেকে তারা বালু কিনে আনেন এবং প্রতি ঘন ফুট বালু ৫০ পয়সা বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করেন। ওখানে সাগর, হেলাল ও তুহিন আছে তাদের মাধ্যমে কিনে আনি। ওরাই বালু জমা করতেছে সাইনবোর্ড এলাকায়। এলাকার বেকার যুবকরাই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একটি বলগেটে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ঘনফুট বালু ধরে। প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার ঘনফুট বালু বিক্রয় হয়।

এই মামা-ভাগ্নে চাতালের একশ গজ আগেই রয়েছে হিরুর চাতাল। যদিও সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। হিরুর চাতালের পাশে এক প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুন্নু ভূঁইয়া বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। রাতে যখন মেশিন চালায় ঘুমাতে পারি না। বিকট শব্দ আর মেশিনের কম্পনে নদীর পাড়সহ ঘর পর্যন্ত কাঁপতে থাকে। পদ্মা নদী থেকে বালু কেটে এনে এখানে স্তূপ করে রেখে ব্যবসা করে। আমাদের সব জায়গা জমি অবৈধভাবে বালু ব্যবসার ফলে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। বালুর পানি চুইয়ে নদীতে পড়ায় নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি জমা হচ্ছে আশপাশের বাড়ির আঙিনায়। কথা হয় প্রতীক হাসান প্রান্তর সঙ্গে। তারা দুই একর জমি বালু রাখার জন্য ইজারা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে জমিতে বালুর ব্যবসায় হচ্ছে সেটা তাদের বাবা ও চাচাদের। বার্ষিক চুক্তিতে বালু ব্যবসায়ী হিরুর কাছে জমি ইজারা দেয়া হয়েছে।

ওই বালুর চাতালের পাশে প্রতিবেশী জাহিদ মতুব্বরের স্ত্রী রোজি আক্তার বলেন, চলাচলের রাস্তা নাই। বালু যখন চাতালে ড্রেজার দিয়ে নামায় তখন বিকট শব্দে ঘুমাতে পারি না। ঘরের মধ্যে ঝন ঝন শব্দ হয়। স্তূপ করা বালুর পানিতে উঠানের মধ্যে বন্যা হয় হয়ে যায় চলাচল করতে পারি না। পদ্মার বাঁধ সংলগ্নই তাদের চাতাল। এই পানি গড়িয়ে আবার পদ্মায় নামে। পানি নামতে নামতে পদ্মার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। পদ্মার বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কখন যে আমাদের বাড়ি ভেঙে পদ্মায় নামে। ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়ক দিয়ে দক্ষিণে একটু এগুতেই সাদীপুর বাজার পার হয়েই কাদেরের বাজার সংলগ্ন মজিবর বিশ্বাসের বালুর চাতাল। তাদের ব্যবসায়ীক পার্টনার সরকারি বালু কা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

সরেজমিন মজিবর বিশ্বাসের চাতালে কথা বলতে গেলে প্রথমেই মো. জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এসে বলেন, এটা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম হকের চাতাল। পরে তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক রফিকুলকে ফোন করে আসতে বলেন ও আমাদের অপেক্ষ করতে বলেন। এর মধ্যেই চলছিল তাদের বালুর ব্যবসা। ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক লোড দিচ্ছিল তারা। একটা ট্রাক আসছে বালু ভরাট করে চলে যাচ্ছে আর একটি ট্রাকে বালু লোড দিচ্ছে। শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেলে করে এসেই ধমকের সুরে বলে উঠেন, ‘আপনারা এখানে কেন এসেছেন, কী লাগবে আপনাদের’। তাকে মোটরসাইকেল থেকে নেমে কথা বলতে বললে, তিনি নেমে জানান, এই চাতালটা আলিয়াবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাদীর। তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন সব। তিনি ও মজিবরসহ প্রায় ২০ জন আছেন এ চাতালের পার্টনার। তিনি শুধু আর্থিক হিসাবের ব্যাপারটা দেখেন বলে দাবি করেন ফরিদপুর সরকারি বালুকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

‘এটা ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের চাতাল এমনটা জানিয়েছে আপনার এখানকার কর্মচারী’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে বলেছে সে জানে না, না জেনেই একথা বলেছে। আর বাকি সব সম্রাট (তোফাজ্জেল হোসেন স¤্রাট, তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ) জানে। তিনি বলেন, শেখ কামাল স্টেডিয়াম হবে বায়তুল আমান টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে। তার জন্য আলিয়াবাদের চর গজারিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু স্তূপ করা হচ্ছে। আমরা সেখান থেকেই বালু এনে ব্যবসা করেছি। তিনি বলেন, এ জায়গাটি প্রতিবেশী এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে বার্ষিক দেড় লাখ টাকায় ইজারা নেয়া। এ মাসের ২৩ তারিখে মেয়াদ শেষ হবে। তার পর ছেড়ে দিব এ জায়গা।

সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মা সংলগ্ন সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে অট্টালিকার মতো পাহাড় করে বালু স্তূপ দিয়ে রাখা হয়েছে। যেটার কথা সব ব্যবসায়ীরা বলছিল যে, এটিই সেই শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য জমা করা বালু। সরেজমিন শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য জমা করা বালু রাখা চাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো রয়েছে পদ্মা নদীতে। ১২ ফিট পাইপ দিয়ে বালু তোলার জন্য সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। একটি ড্রেজার এর শ্রমিকরে সঙ্গে কথা হয়। তার নাম সজিব মিয়া, বাড়ি বরগুনা জেলায়। গত ২৮ মে এসেছেন তারা এখানে বালু কাটতে। তাদের সঙ্গে আছে আরও চারজন। সজিব জানান, ড্রেজার মেশিনটির মালিক চরভদ্রাসন উপজেলার দিপু খান। রাতে তারা মেশিন চালায়। ১৬০ হর্স পাওয়ারের একটি মেশিন। ৩ ঘণ্টা চালিয়ে ৫-৬ হাজার ঘন ফুট বালু তোলা যায়। তারা সরাসরি বালু পাইপের মাধ্যমে চাতালে স্তূপ করে। এছাড়া বালু বহনকারী জাহাজ বলগেট জাহাজেও বালু লোড দেয়া হয়। সরেজমিন পরিদর্শনকালের আরেকটি ড্রেজারের কোন লোকজন দেখা যায়নি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নদী থেকে এ বালু তোলা বিক্রি করার পেছনে রয়েছেন চার জন। এরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদীপুর এলাকার শেখ সাদী, সহ সভাপতি বিলমাহমুদপুর মুন্সীর ডাঙ্গী এলাকার তোফাজ্জেল হোসেন সম্রাট, সরকারি বালুকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গদাধরডাঙ্গী এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম ও বালু ব্যবসায়ী গদাধর ডাঙ্গী এলাকার মজিবর বিশ্বাস।

‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই’- দাবি করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদীপুর এলাকার শেখ সাদী বলেন, তবে আমার একটি জমি বালু রাখার জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। আগামী ২৩ মে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আমি আর ইজারা দেব না। তিনি বলেন, বালু বহু আগে থেকেই কাটা হচ্ছে। আগে আখতারুজ্জামান বিশ^াসের নেতৃত্বে কাটা হতো এখন যারা কাটছে তারা তার সঙ্গে ছিলেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা এ এলাকায় বালু তোলা ও বিক্রির ব্যবসা হতে পারে না। এলাকার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার লোকদের বালু খাওয়ায়ে টাকা কামাই করার এ পথ বন্ধ করার দরকার। আমি চাই ভাজনডাঙ্গা থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত বালু কাটা বিক্রি বন্ধ হোক। তিনিও বার বার বালু কাটা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন মন্তব্য করে শেখ সাদী বলেন, এ বেচাকেনার মধ্যে কী যেন একটা বিষয় আছে, চেষ্টা করেও বালু কাটাবিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। আকতারুজ্জামান বিশ^াস বলেন, আমি এ বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। দুই বছর আগে নদী খনন করেছিল বিআইডাব্লিউটিসি। ওই সময় আমি নদী থেকে তোলা বালু রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। সেই বালু পরে সরকার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন।

ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। জনস্বার্থে বালু তোলা হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে করতে হয়। এ ব্যাপারে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বলা হলেও বালু তুলে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শেখ কামালের নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি পাওয়া গেছে। বায়তুল আমান এলাকায় টিটিসির (টিসার্স ট্রেনিং কলেজ) পাশে জেলা পরিষদ থেকে আড়াই একর জমি ইজারা নেয়া হয়েছে। সেখানে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম করা হবে।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

স্টেডিয়াম নির্মাণের অজুহাতে অবৈধ বালু ব্যবসা

কাজী সবুজ, ফরিদপুর

image

ফরিদপুর : অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পাচার করা হয় বাণিজ্যের জন্য। প্রশাসন নীরব -সংবাদ

ফরিদপুরে বেসরকারি উদ্যোগে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে এ অজুহাতে প্রশাসনের কোন অনুমনি ছাড়াই পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধ এ বালুর ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামীম হকের নাম। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এ ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়টি তারা (প্রশাসন) দেখেও দেখছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ওই এলাকার কাদের বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর ভিতরে আধা কিলোমিটার দূর থেকে রাতের আঁধারে খনন যন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে এ বালু কাটা হচ্ছে ।

ফরিদপুর সদরের শহরতলীর আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ভাজনডাঙ্গা, গদাধর ডাঙ্গী ও কাদেরের বাজার এলাকার গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়কের পূর্বপাশে অন্তত ৫টি জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে, নদী থেকে তোলা ওই বালু। ওই জায়গা থেকে প্রতিদিন বালু বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। ট্রাকে করে ওই বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বালু ব্যবসার ফলে হুমকিতে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ। বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ফরিদপুর শহর। এলাকাবাসীও বালুঝড় ও মেশিনের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন সময়ে সরেজমিন বালু তোলা ও বালু বিক্রির প্রতিটি জায়গায় গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ফরিদপুর শহর থেকে টেপাখোলা হয়ে ভাজনডাঙ্গা, সাদীপুর, গদাধরডাঙ্গী, সাইন বোর্ড এলাকা হয়ে নদীর ধারা চলে গেছে পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার হাজীগঞ্জ পর্যন্ত। তার পাশ দিয়েই রাজবাড়ী-তাড়াইল সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কটি চলে গেছে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া পর্যন্ত। সড়কটি পদ্মা নদী সংলগ্ন। এ নদীরপাড় দিয়ে চলে গেছে গজারিয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে চরভদ্রাসন সড়ক ও দক্ষিণে গোয়ালন্দ-তাড়াইল সড়ক নাম ধারণ করে সদরপুর উপজেলা যাওয়ার সড়ক। টেপাখোলা হয়ে তাড়াইল সড়ক ধরে ২ কিলোমিটার আগালেই পদ্মার সংযোগ খাল মান্দারতলা খাল। মান্দারতলা খালের উত্তর পাশেই রয়েছে ভাজনডাঙ্গা মামা-ভাগ্নে এন্টারপ্রাইজ। যার স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল হক। এখানে বালু বিক্রয় করা হয়। সঙ্গে তাদের পার্টনার রয়েছে মক্কা এন্টারপ্রাইজ এর মো. মুক্তার হোসেন ও মদিনা এন্টারপ্রাইজের মো. টিটু।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা সংলগ্ন প্রায় দুই একর জমিজুড়ে রয়েছে তাদের বালুর চাতাল। চাতালটি পেছনে পদ্মার শহর রক্ষা বাঁধের সীমানা। সেখানে প্রতি রাতে পদ্মার থেকে বালু কেটে বলগেটে ভরে এনে খালাস করা হয়। এ চাতালে ছোট টিলার আকারে স্তূপ করে রাখা প্রায় ১৫ ফুট উঁচু বালুর ঢিপি। চাতাল থেকে ভেকু মেশিন (এস্কেভেটর) দিয়ে ট্রাকে লোড দেয়া হয় বালু। এ চাতাল থেকে ২ টাকা দরে প্রতি ঘন ফুট বালু বিক্রি করা হয়। এই প্রতিবেদকদের দেখেই ভেকু মেশিন বন্ধ করে সটকে পড়েন চালক। বন্ধ হয়ে যায় বালু ট্রাকে লোড দেয়া।

মামা-ভাগ্নে অফিসে ছিলেন তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার মো. টিটু। তিনি বলেন, ২ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পদ্মায় ড্রেজিং করা হয় তখন ইউএনও মাধ্যমে বালু নিলামে বিক্রয় করা হয়। তারা সেই বালু কিনে এখানে রেখে ব্যবসা করে। ওই বালু শেষ হওয়ার পর এখন আলিয়াবাদের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বালু কিনে এনে তারা বিক্রি করছেন। মো. টিটু দাবি করে বলেন, সাইনবোর্ড এলাকায় শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য পদ্মা নদী থেকে থেকে ড্রেজিং করে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হয় নদীর পাড়ে। সেখানে থেকে তারা বালু কিনে আনেন এবং প্রতি ঘন ফুট বালু ৫০ পয়সা বেশি দাম দিয়ে বিক্রি করেন। ওখানে সাগর, হেলাল ও তুহিন আছে তাদের মাধ্যমে কিনে আনি। ওরাই বালু জমা করতেছে সাইনবোর্ড এলাকায়। এলাকার বেকার যুবকরাই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একটি বলগেটে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ঘনফুট বালু ধরে। প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার ঘনফুট বালু বিক্রয় হয়।

এই মামা-ভাগ্নে চাতালের একশ গজ আগেই রয়েছে হিরুর চাতাল। যদিও সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। হিরুর চাতালের পাশে এক প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুন্নু ভূঁইয়া বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। রাতে যখন মেশিন চালায় ঘুমাতে পারি না। বিকট শব্দ আর মেশিনের কম্পনে নদীর পাড়সহ ঘর পর্যন্ত কাঁপতে থাকে। পদ্মা নদী থেকে বালু কেটে এনে এখানে স্তূপ করে রেখে ব্যবসা করে। আমাদের সব জায়গা জমি অবৈধভাবে বালু ব্যবসার ফলে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। বালুর পানি চুইয়ে নদীতে পড়ায় নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি জমা হচ্ছে আশপাশের বাড়ির আঙিনায়। কথা হয় প্রতীক হাসান প্রান্তর সঙ্গে। তারা দুই একর জমি বালু রাখার জন্য ইজারা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে জমিতে বালুর ব্যবসায় হচ্ছে সেটা তাদের বাবা ও চাচাদের। বার্ষিক চুক্তিতে বালু ব্যবসায়ী হিরুর কাছে জমি ইজারা দেয়া হয়েছে।

ওই বালুর চাতালের পাশে প্রতিবেশী জাহিদ মতুব্বরের স্ত্রী রোজি আক্তার বলেন, চলাচলের রাস্তা নাই। বালু যখন চাতালে ড্রেজার দিয়ে নামায় তখন বিকট শব্দে ঘুমাতে পারি না। ঘরের মধ্যে ঝন ঝন শব্দ হয়। স্তূপ করা বালুর পানিতে উঠানের মধ্যে বন্যা হয় হয়ে যায় চলাচল করতে পারি না। পদ্মার বাঁধ সংলগ্নই তাদের চাতাল। এই পানি গড়িয়ে আবার পদ্মায় নামে। পানি নামতে নামতে পদ্মার পাড় ভেঙে যাচ্ছে। পদ্মার বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কখন যে আমাদের বাড়ি ভেঙে পদ্মায় নামে। ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়ক দিয়ে দক্ষিণে একটু এগুতেই সাদীপুর বাজার পার হয়েই কাদেরের বাজার সংলগ্ন মজিবর বিশ্বাসের বালুর চাতাল। তাদের ব্যবসায়ীক পার্টনার সরকারি বালু কা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

সরেজমিন মজিবর বিশ্বাসের চাতালে কথা বলতে গেলে প্রথমেই মো. জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এসে বলেন, এটা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম হকের চাতাল। পরে তার কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি শিক্ষক রফিকুলকে ফোন করে আসতে বলেন ও আমাদের অপেক্ষ করতে বলেন। এর মধ্যেই চলছিল তাদের বালুর ব্যবসা। ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক লোড দিচ্ছিল তারা। একটা ট্রাক আসছে বালু ভরাট করে চলে যাচ্ছে আর একটি ট্রাকে বালু লোড দিচ্ছে। শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেলে করে এসেই ধমকের সুরে বলে উঠেন, ‘আপনারা এখানে কেন এসেছেন, কী লাগবে আপনাদের’। তাকে মোটরসাইকেল থেকে নেমে কথা বলতে বললে, তিনি নেমে জানান, এই চাতালটা আলিয়াবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাদীর। তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন সব। তিনি ও মজিবরসহ প্রায় ২০ জন আছেন এ চাতালের পার্টনার। তিনি শুধু আর্থিক হিসাবের ব্যাপারটা দেখেন বলে দাবি করেন ফরিদপুর সরকারি বালুকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক রফিকুল ইসলাম।

‘এটা ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের চাতাল এমনটা জানিয়েছে আপনার এখানকার কর্মচারী’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে বলেছে সে জানে না, না জেনেই একথা বলেছে। আর বাকি সব সম্রাট (তোফাজ্জেল হোসেন স¤্রাট, তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ) জানে। তিনি বলেন, শেখ কামাল স্টেডিয়াম হবে বায়তুল আমান টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে। তার জন্য আলিয়াবাদের চর গজারিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু স্তূপ করা হচ্ছে। আমরা সেখান থেকেই বালু এনে ব্যবসা করেছি। তিনি বলেন, এ জায়গাটি প্রতিবেশী এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে বার্ষিক দেড় লাখ টাকায় ইজারা নেয়া। এ মাসের ২৩ তারিখে মেয়াদ শেষ হবে। তার পর ছেড়ে দিব এ জায়গা।

সেখান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মা সংলগ্ন সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে অট্টালিকার মতো পাহাড় করে বালু স্তূপ দিয়ে রাখা হয়েছে। যেটার কথা সব ব্যবসায়ীরা বলছিল যে, এটিই সেই শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য জমা করা বালু। সরেজমিন শেখ কামাল স্টেডিয়ামের জন্য জমা করা বালু রাখা চাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো রয়েছে পদ্মা নদীতে। ১২ ফিট পাইপ দিয়ে বালু তোলার জন্য সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। একটি ড্রেজার এর শ্রমিকরে সঙ্গে কথা হয়। তার নাম সজিব মিয়া, বাড়ি বরগুনা জেলায়। গত ২৮ মে এসেছেন তারা এখানে বালু কাটতে। তাদের সঙ্গে আছে আরও চারজন। সজিব জানান, ড্রেজার মেশিনটির মালিক চরভদ্রাসন উপজেলার দিপু খান। রাতে তারা মেশিন চালায়। ১৬০ হর্স পাওয়ারের একটি মেশিন। ৩ ঘণ্টা চালিয়ে ৫-৬ হাজার ঘন ফুট বালু তোলা যায়। তারা সরাসরি বালু পাইপের মাধ্যমে চাতালে স্তূপ করে। এছাড়া বালু বহনকারী জাহাজ বলগেট জাহাজেও বালু লোড দেয়া হয়। সরেজমিন পরিদর্শনকালের আরেকটি ড্রেজারের কোন লোকজন দেখা যায়নি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নদী থেকে এ বালু তোলা বিক্রি করার পেছনে রয়েছেন চার জন। এরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদীপুর এলাকার শেখ সাদী, সহ সভাপতি বিলমাহমুদপুর মুন্সীর ডাঙ্গী এলাকার তোফাজ্জেল হোসেন সম্রাট, সরকারি বালুকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক গদাধরডাঙ্গী এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম ও বালু ব্যবসায়ী গদাধর ডাঙ্গী এলাকার মজিবর বিশ্বাস।

‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই’- দাবি করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদীপুর এলাকার শেখ সাদী বলেন, তবে আমার একটি জমি বালু রাখার জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। আগামী ২৩ মে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে আমি আর ইজারা দেব না। তিনি বলেন, বালু বহু আগে থেকেই কাটা হচ্ছে। আগে আখতারুজ্জামান বিশ^াসের নেতৃত্বে কাটা হতো এখন যারা কাটছে তারা তার সঙ্গে ছিলেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা এ এলাকায় বালু তোলা ও বিক্রির ব্যবসা হতে পারে না। এলাকার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার লোকদের বালু খাওয়ায়ে টাকা কামাই করার এ পথ বন্ধ করার দরকার। আমি চাই ভাজনডাঙ্গা থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড এলাকা পর্যন্ত বালু কাটা বিক্রি বন্ধ হোক। তিনিও বার বার বালু কাটা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন মন্তব্য করে শেখ সাদী বলেন, এ বেচাকেনার মধ্যে কী যেন একটা বিষয় আছে, চেষ্টা করেও বালু কাটাবিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। আকতারুজ্জামান বিশ^াস বলেন, আমি এ বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। দুই বছর আগে নদী খনন করেছিল বিআইডাব্লিউটিসি। ওই সময় আমি নদী থেকে তোলা বালু রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। সেই বালু পরে সরকার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন।

ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন ঢালী বলেন, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। জনস্বার্থে বালু তোলা হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে করতে হয়। এ ব্যাপারে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বলা হলেও বালু তুলে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শেখ কামালের নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি পাওয়া গেছে। বায়তুল আমান এলাকায় টিটিসির (টিসার্স ট্রেনিং কলেজ) পাশে জেলা পরিষদ থেকে আড়াই একর জমি ইজারা নেয়া হয়েছে। সেখানে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম করা হবে।