অভ্যুত্থানের পর ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনেছে মায়ানমার

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মায়ানমারের সেনাবাহিনী কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র আমদানি করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ। মায়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুস এ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, এর বেশির ভাগই রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করেছে মায়ানমার। এই অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির উপকরণগুলো নৃশংস অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মায়ানমার সামরিক বাহিনীর কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে ১২ হাজার ৫০০টিরও বেশি ক্রয় বা রেকর্ডকৃত চালানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরাসরি মায়ানমারেরসামরিক বাহিনী বা তাদের পক্ষে কাজ করা অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

টম বলেছেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করা পণ্যের বৈচিত্র্য ও পরিমাণ বিস্ময়কর। যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ড্রোন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, নৌবাহিনীর জাহাজের অস্ত্র ও নানা অত্যাধুনিক উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে তাদের।

জাতিসংঘ প্রতিনিধির প্রতিবেদনে গত মাসে সাগাইং অঞ্চলে শতাধিক বেসামরিক লোক হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওইদিন পাজিগ্যি গ্রামে অভ্যুত্থানবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) একটি নতুন কার্যালয় উদ্বোধনে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী। এ সময় তাদের উপর রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান থেকে ২৫০ কেজি ওজনের বোমা ফেলা হয়। এতে নারী, পুরুষসহ বহু শিশু প্রাণ হারায়, আহত হয় অনেকে। এরপরও থামেনি জান্তা বাহিনী। বোমার আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া এবং আহতদের সাহায্য করতে যাওয়া লোকদের ওপর দুটি এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করে সেনারা। এতে অন্তত ১৬০ জন প্রাণ হারায়, যার মধ্যে মাত্র ৫৯ জনের মরদেহ শনাক্তযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যায়।

‘এই হামলা মায়ানমার জান্তার মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধ এবং জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আরেকটি উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অস্ত্র ও সম্পর্কিত সরঞ্জাম কিনেছে মায়ানমার। চীন থেকে পেয়েছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অস্ত্র, সিঙ্গাপুরও দিয়েছে একই মূল্যের অস্ত্র-সরঞ্জাম। ভারত থেকে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এবং থাইল্যান্ড থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অস্ত্র কিনেছে মায়ানমার। জাতিসংঘ প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুসারে, মায়ানমারের কাছে অস্ত্রবিক্রেতাদের মধ্যে রাশিয়া, চীন এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাও রয়েছে।

টম অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, তিনি তার প্রতিবেদনের তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

অভ্যুত্থানের পর ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনেছে মায়ানমার

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মায়ানমারের সেনাবাহিনী কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র আমদানি করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ। মায়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুস এ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, এর বেশির ভাগই রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করেছে মায়ানমার। এই অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির উপকরণগুলো নৃশংস অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মায়ানমার সামরিক বাহিনীর কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে ১২ হাজার ৫০০টিরও বেশি ক্রয় বা রেকর্ডকৃত চালানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরাসরি মায়ানমারেরসামরিক বাহিনী বা তাদের পক্ষে কাজ করা অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

টম বলেছেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করা পণ্যের বৈচিত্র্য ও পরিমাণ বিস্ময়কর। যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ড্রোন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, নৌবাহিনীর জাহাজের অস্ত্র ও নানা অত্যাধুনিক উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে তাদের।

জাতিসংঘ প্রতিনিধির প্রতিবেদনে গত মাসে সাগাইং অঞ্চলে শতাধিক বেসামরিক লোক হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওইদিন পাজিগ্যি গ্রামে অভ্যুত্থানবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) একটি নতুন কার্যালয় উদ্বোধনে জড়ো হয়েছিল প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী। এ সময় তাদের উপর রাশিয়ার তৈরি ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান থেকে ২৫০ কেজি ওজনের বোমা ফেলা হয়। এতে নারী, পুরুষসহ বহু শিশু প্রাণ হারায়, আহত হয় অনেকে। এরপরও থামেনি জান্তা বাহিনী। বোমার আঘাত থেকে বেঁচে যাওয়া এবং আহতদের সাহায্য করতে যাওয়া লোকদের ওপর দুটি এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করে সেনারা। এতে অন্তত ১৬০ জন প্রাণ হারায়, যার মধ্যে মাত্র ৫৯ জনের মরদেহ শনাক্তযোগ্য অবস্থায় পাওয়া যায়।

‘এই হামলা মায়ানমার জান্তার মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধ এবং জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আরেকটি উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অস্ত্র ও সম্পর্কিত সরঞ্জাম কিনেছে মায়ানমার। চীন থেকে পেয়েছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অস্ত্র, সিঙ্গাপুরও দিয়েছে একই মূল্যের অস্ত্র-সরঞ্জাম। ভারত থেকে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এবং থাইল্যান্ড থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অস্ত্র কিনেছে মায়ানমার। জাতিসংঘ প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুসারে, মায়ানমারের কাছে অস্ত্রবিক্রেতাদের মধ্যে রাশিয়া, চীন এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাও রয়েছে।

টম অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, তিনি তার প্রতিবেদনের তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে জানিয়েছেন।