গাজীপুর : নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও সবার মাঝেই সংশয়াচ্ছন্ন-দ্বিধাভাব

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচন আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই। নির্বাচনী মাঠে আটজনের মধ্যে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় থাকলেও জমজমাট ভাব মূলতঃ দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। অন্য দিকে ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও কোমড় বেঁধে নির্বাচনী মাঠ কাঁপিয়ে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তারা সিটির সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের মন জয় করে তাদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। পুরো সিটিজুড়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে সবার মধ্যেই একধরনের সংশয়াচ্ছন্ন-দ্বিধাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিন্তাভাবনা, আলাপ-আলোচনা পর্যালোচনার পাশাপাশি কোন দিকে মোড় নিবে নির্বাচন, নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি কেমন হবে, কার ভূমিকাই বা কি দাঁড়ায়, প্রার্থীদের বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ কেমন হবে, আর নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পরিবেশ-পরিস্থিতিই বা কীরূপ ধারণ করবে। এত সব নানাবিধ বিষয়াবলি ও ঘটনা পিছু ছাড়ছে না ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের এমনকি

সাধারণ নাগরিকদের। লক্ষণীয় বিষয় যেটি প্রবলতর হচ্ছে তা হলো

নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্যে জয়-পরাজয় কি জোটে সেটা ছাপিয়ে

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে ‘নির্বাচন নিয়ে

ভাবনা’। বেশ কিছু ঘটনা বা পরিস্থিতি এবং আগাম শঙ্কা এ

ভাবনাকে আরও উসকেদিচ্ছে। তাই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যেমন

ভোটারদের আগ্রহ আছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে

পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে তেমনি

নির্বাচন কেমনতরো হয় বা কী বার্তাই বা দেয় সর্বত্র এ নিয়ে

সতর্ক চিন্তাভাবনার রেশও কিন্তু ক্রমশঃ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে, আগাম

শঙ্কা তাড়িত করছে ভোটার ও সাধারণ নাগরিকদের যা উড়িয়ে দেওয়া যায়

না-এমন অভিমত নির্বাচন-পর্যবেক্ষকদের।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিয়াজ উদ্দিনের

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল

প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন তার

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল সকালে গাজীপুর

মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় গাজীপুর সেন্ট্রাল কলেজ

মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেরহার ঘোষণাকালে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে শুধু

নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এখানে সরকারের

সদিচ্ছার প্রয়োজন আছে। সরকার ও প্রশাসন যদি সহযোগিতা করে

তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন আমি

নির্বাচিত হলে গাজীপুর সিটিকে আধুনিক স্থাপত্যবিদ ও নগর

পরিকল্পনাকারীদের সহযোগিতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর

হিসেবে গড়ে তুলবো। এছাড়া নাগরিকদের সহযোগিতায় সিটি

করপোরেশনকে পেশীশক্তি, মাস্তানি, টেন্ডারবাজি ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত

একটি নগর তৈরি করবো।

ইশতেহার ঘোষণাকালে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা

আবদুস সাত্তার মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য হারুন অর রশিদ, অ্যাড. মনোয়ার

হোসেন, শেখ মাসুদুল আলম টিটু, জাকির হোসেন প্রমুখ

নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রচারণায় মেয়র প্রার্থী

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমত উল্লা খান

গতকাল নগরীর টঙ্গীর তার বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের

সহিত মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি টঙ্গী বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী

ভোটার ক্রেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নৌকার পক্ষে ভোট চান। এ

সময় তিনি বলেন দীর্ঘ আঠারো বছর টঙ্গী পৌরসভার মেয়র হিসেবে

আমি জনগণের সঙ্গে ছিলাম। নির্বাচিত হলে আমি জনগণের সঙ্গে

থেকে গাজীপুর সিটির উন্নয়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করে

দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক আধুনিক সিটি গড়ে তুলবো।

এদিকে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলের

নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে বাসন মেট্রো থানার

চান্দনা-চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারপত্র বিলি করে ভোটারদের

কাছে ভোট চান।

অন্যদিকে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন

তার ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল

সকাল থেকেই নগরীর কোনাবাড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট

বিতরণ ও গণসংযোগ করেন। তিনি সকাল ১১টার দিকে কোনাবাড়ি

বাজার ফ্লাইওভার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালান। এছাড়া

খোলা জিপগাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় হাত নেড়ে তিনি পথচারী-

ভোটারদের শুভেচ্ছা জানান। পথিমধ্যে বিভিন্ন পথসভায় জায়েদা খাতুন

বলেন, আমরা কারো নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছি না অথচ

প্রচারণা করতে গিয়েই আমরা বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। আমরা সুষ্ঠু ও

নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, ভোটারদের

কাছে ভোট চাই। আগামী ২৫ তারিখে টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট

দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন বলে আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।

পথ সভায় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমরা

নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বারে বারে বাধা পাচ্ছি।

আমাদের পোস্টার লাগাতে ও মাইকিং করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের

প্রচারণায় যাতে কোন বাধা বা আমাদের কাউকে যাতে হয়রানি করা না

হয় তার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ

জানাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন একই

দিনদুপুরে নগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি

দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারপত্র

বিলি করে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চান। বিকেলে তিনি টঙ্গীর এরশাদনগরসহ

বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালান।

হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি টঙ্গীর ৫৪

নম্বর ওয়ার্ডের চেরাগআলী ট্রাকস্ট্যান্ড ও স্কুইব রোড থেকে

গণসংযোগ শুরু করেন। পরে তিনি ৫১, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের

কাঁঠালদিয়া, ভাদাম, বাকরাল, তিলারগাতি, গুটিয়া বটতলা, সাতাইশ

গাজীপুরা এলাকায় কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য রেখে হাতি মার্কায় ভোট

চান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান বিকেলে

নগরীর চান্দনা-চৌরাস্তাসহ আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট ও

দোকানপাটে গিয়ে ভোটারদের কাছে হাতপাখা মার্কায় ভোট চান।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

নগর নির্বাচন

গাজীপুর : নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও সবার মাঝেই সংশয়াচ্ছন্ন-দ্বিধাভাব

প্রতিনিধি, গাজীপুর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচন আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই। নির্বাচনী মাঠে আটজনের মধ্যে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় থাকলেও জমজমাট ভাব মূলতঃ দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। অন্য দিকে ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও কোমড় বেঁধে নির্বাচনী মাঠ কাঁপিয়ে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তারা সিটির সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন, ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের মন জয় করে তাদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। পুরো সিটিজুড়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে সবার মধ্যেই একধরনের সংশয়াচ্ছন্ন-দ্বিধাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিন্তাভাবনা, আলাপ-আলোচনা পর্যালোচনার পাশাপাশি কোন দিকে মোড় নিবে নির্বাচন, নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি কেমন হবে, কার ভূমিকাই বা কি দাঁড়ায়, প্রার্থীদের বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ কেমন হবে, আর নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পরিবেশ-পরিস্থিতিই বা কীরূপ ধারণ করবে। এত সব নানাবিধ বিষয়াবলি ও ঘটনা পিছু ছাড়ছে না ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের এমনকি

সাধারণ নাগরিকদের। লক্ষণীয় বিষয় যেটি প্রবলতর হচ্ছে তা হলো

নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্যে জয়-পরাজয় কি জোটে সেটা ছাপিয়ে

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে ‘নির্বাচন নিয়ে

ভাবনা’। বেশ কিছু ঘটনা বা পরিস্থিতি এবং আগাম শঙ্কা এ

ভাবনাকে আরও উসকেদিচ্ছে। তাই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যেমন

ভোটারদের আগ্রহ আছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে

পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে তেমনি

নির্বাচন কেমনতরো হয় বা কী বার্তাই বা দেয় সর্বত্র এ নিয়ে

সতর্ক চিন্তাভাবনার রেশও কিন্তু ক্রমশঃ স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে, আগাম

শঙ্কা তাড়িত করছে ভোটার ও সাধারণ নাগরিকদের যা উড়িয়ে দেওয়া যায়

না-এমন অভিমত নির্বাচন-পর্যবেক্ষকদের।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিয়াজ উদ্দিনের

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল

প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন তার

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল সকালে গাজীপুর

মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় গাজীপুর সেন্ট্রাল কলেজ

মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেরহার ঘোষণাকালে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে শুধু

নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এখানে সরকারের

সদিচ্ছার প্রয়োজন আছে। সরকার ও প্রশাসন যদি সহযোগিতা করে

তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন আমি

নির্বাচিত হলে গাজীপুর সিটিকে আধুনিক স্থাপত্যবিদ ও নগর

পরিকল্পনাকারীদের সহযোগিতায় একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর

হিসেবে গড়ে তুলবো। এছাড়া নাগরিকদের সহযোগিতায় সিটি

করপোরেশনকে পেশীশক্তি, মাস্তানি, টেন্ডারবাজি ও অনৈতিক প্রভাবমুক্ত

একটি নগর তৈরি করবো।

ইশতেহার ঘোষণাকালে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা

আবদুস সাত্তার মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য হারুন অর রশিদ, অ্যাড. মনোয়ার

হোসেন, শেখ মাসুদুল আলম টিটু, জাকির হোসেন প্রমুখ

নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রচারণায় মেয়র প্রার্থী

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমত উল্লা খান

গতকাল নগরীর টঙ্গীর তার বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের

সহিত মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি টঙ্গী বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী

ভোটার ক্রেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নৌকার পক্ষে ভোট চান। এ

সময় তিনি বলেন দীর্ঘ আঠারো বছর টঙ্গী পৌরসভার মেয়র হিসেবে

আমি জনগণের সঙ্গে ছিলাম। নির্বাচিত হলে আমি জনগণের সঙ্গে

থেকে গাজীপুর সিটির উন্নয়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করে

দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক আধুনিক সিটি গড়ে তুলবো।

এদিকে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলের

নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে বাসন মেট্রো থানার

চান্দনা-চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারপত্র বিলি করে ভোটারদের

কাছে ভোট চান।

অন্যদিকে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন

তার ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল

সকাল থেকেই নগরীর কোনাবাড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট

বিতরণ ও গণসংযোগ করেন। তিনি সকাল ১১টার দিকে কোনাবাড়ি

বাজার ফ্লাইওভার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালান। এছাড়া

খোলা জিপগাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় হাত নেড়ে তিনি পথচারী-

ভোটারদের শুভেচ্ছা জানান। পথিমধ্যে বিভিন্ন পথসভায় জায়েদা খাতুন

বলেন, আমরা কারো নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছি না অথচ

প্রচারণা করতে গিয়েই আমরা বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। আমরা সুষ্ঠু ও

নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, ভোটারদের

কাছে ভোট চাই। আগামী ২৫ তারিখে টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট

দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন বলে আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।

পথ সভায় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমরা

নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বারে বারে বাধা পাচ্ছি।

আমাদের পোস্টার লাগাতে ও মাইকিং করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের

প্রচারণায় যাতে কোন বাধা বা আমাদের কাউকে যাতে হয়রানি করা না

হয় তার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ

জানাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন একই

দিনদুপুরে নগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি

দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারপত্র

বিলি করে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চান। বিকেলে তিনি টঙ্গীর এরশাদনগরসহ

বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালান।

হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি টঙ্গীর ৫৪

নম্বর ওয়ার্ডের চেরাগআলী ট্রাকস্ট্যান্ড ও স্কুইব রোড থেকে

গণসংযোগ শুরু করেন। পরে তিনি ৫১, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের

কাঁঠালদিয়া, ভাদাম, বাকরাল, তিলারগাতি, গুটিয়া বটতলা, সাতাইশ

গাজীপুরা এলাকায় কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য রেখে হাতি মার্কায় ভোট

চান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান বিকেলে

নগরীর চান্দনা-চৌরাস্তাসহ আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট ও

দোকানপাটে গিয়ে ভোটারদের কাছে হাতপাখা মার্কায় ভোট চান।