মোখার তাণ্ডব : সেন্টমার্টিনে হাহাকার

ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্টমার্টিন পুরোটাজুড়ে। দ্বীপবাসীরা এখন খাবার, সুপেয় পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের উপকরনের জন্য হাহাকার করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী থেকে কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এখন পর্যন্ত রান্না করা কোন খাবার সরবরাহ করা হয়নি।

সেন্টমার্টিনে অবস্থানরত পর্যটন ব্যবসায়ী তকি উসমানি বলেন, বিজিপির পক্ষ থেকে একটি হেলিকপ্টার এসে ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে ১ লিটার করে তেল, ২ কেজি চাল, আধা কেজি চিনি, আধা কেজি লবণ ও আধা কেজি ডাল দিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এখনও কিছু দেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে ৪টি করে স্যালাইন, ২ লিটার পানি, আধা কেজি মুড়ি, আধা কেজি চিনি ও ১ কেজি চিড়া দেয়া হয়েছে। তবে যাদেরকে চিড়া দেয়া হয়েছে, তাদেরকে মুড়ি দেয়া হয়নি। আর যাদেরকে মুড়ি দেয়া হয়েছে তাদেরকে চিড়া দেয়া হয়নি।

এই পর্যটন ব্যবসায়ীর মতে, স্থানীয়রা দাবি জানাচ্ছেন যে এসব না দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ১ থেকে ২ কেজি পলিথিন দেয়া হলে তাদের বেশি উপকার হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কোন নিত্যপণ্য আনা যাচ্ছে না এবং স্থানীয় দোকানে যা ছিল তার প্রায় শেষ। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুর শুক্কুর বলেন, সমুদ্রের পানি প্রবেশ করায় মিঠা পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে গেছে। ফলে, আমরা খাবার পানির সংকটে আছি। কয়েকটি জায়গায় পুকুর ও টিউবওয়েলের পানি লবণাক্ত হয়নি। সবাই সেসব জায়গায় ছুটছেন পানির জন্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা রোজিনা আক্তার জানান, তিনি এখনও সরকারিভাবে কোন অনুদান বা সহযোগিতা পাননি। তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বসতঘরটি ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে। তিনি এখন সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। তার ঘরটি মেরামত করার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। একই কথা জানিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনও।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার কামাল বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে মানুষ কোন রকম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। যে খাবার দেয়া হচ্ছে সেগুলো দিয়ে একটি পরিবারের একবেলাও হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতে কোন সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এর জন্য দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ৭০০টির মতো বাড়ি ভেঙে গেছে। ২৫০ থেকে ৩০০ সেমিপাকা বাড়ির টিন উড়ে গেছে।

এদিকে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামত করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। অপরদিকে ৫ দিন ধরে নিত্যপণ্য সরবরাহ না থাকায় এবং জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল সকাল থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বীপের পূর্ব পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদ (৫৮) জানান, সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে তার কুঁড়েঘর।

তিনি বলেন, গেল ৫ দিন ধরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে উপোস থাকার উপক্রম হয়েছে। চাল-ডাল কিছুই ঘরে নেই। তবুও ঘর ও ঘেরাবেড়া মেরামত করার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। শুধু ছৈয়দ হোসেন নন, ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দ্বীপের ১২০০ শত বেশি বাড়িঘর। ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে যতদূর চোখ যায় শুধুই ধ্বংসস্তূপ। বিধ্বস্ত বাড়িঘর, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপের রক্ষা দেয়াল কেয়াবন। যাদের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে তারা এখন এখন বাঁশ ও ত্রিপল সংগ্রহ করে মেরামত করার চেষ্টা করছেন। আর আশায় আছেন সরকারি সহায়তার। আরও অনেকের মতো মোখার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পূর্ব পাড়া গ্রামের আরেক বাসিন্দা আব্বাস আলীর ঘর। তিনি বলেন, ঘর হারালাম। আমার একটি মুদির দোকান ছিল, সেটিও ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। কোন জিনিসপত্র বাঁচেনি। সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে রান্না করার মতো অবস্থা নেই। টেকনাফ থেকে গত ৫ দিন ধরে মালামাল আসছে না। তাই জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে। আর কয়েকদিন নিত্যপণ্য না এলে সেন্টমার্টিনজুড়ে খাবার সংকট তীব্র হবে।

সেন্টমার্টিন ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইলিয়াস খোকন বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার জন্য সাগর পথে খাবার ও নিত্যপণ্যের জোগান আসে টেকনাফ থেকে। কিন্তু ৫ দিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপণ্য ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। আর মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল সকাল থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘যার নগদ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন তাকে নগদ অর্থ সহায়তা, যার গৃহ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন তাকে ঢেউটিন দেবো। আর যার ত্রাণ সামগ্রী প্রয়োজন তাকে ত্রাণ সামগ্রী দেবো। আমি সেন্টমার্টিনবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই ঘূর্ণিঝড়ে একজন মানুষও সরকারের ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না।

উল্লেখ্য গত রোববার সকালে এ ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ যখন উপকূল অতিক্রম শুরু করে, তখন এর কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

মোখার তাণ্ডব : সেন্টমার্টিনে হাহাকার

জসিম সিদ্দিকী কক্সবাজার

image

ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্টমার্টিন পুরোটাজুড়ে। দ্বীপবাসীরা এখন খাবার, সুপেয় পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের উপকরনের জন্য হাহাকার করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী থেকে কিছু শুকনো খাবার সরবরাহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এখন পর্যন্ত রান্না করা কোন খাবার সরবরাহ করা হয়নি।

সেন্টমার্টিনে অবস্থানরত পর্যটন ব্যবসায়ী তকি উসমানি বলেন, বিজিপির পক্ষ থেকে একটি হেলিকপ্টার এসে ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে ১ লিটার করে তেল, ২ কেজি চাল, আধা কেজি চিনি, আধা কেজি লবণ ও আধা কেজি ডাল দিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এখনও কিছু দেয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে ৪টি করে স্যালাইন, ২ লিটার পানি, আধা কেজি মুড়ি, আধা কেজি চিনি ও ১ কেজি চিড়া দেয়া হয়েছে। তবে যাদেরকে চিড়া দেয়া হয়েছে, তাদেরকে মুড়ি দেয়া হয়নি। আর যাদেরকে মুড়ি দেয়া হয়েছে তাদেরকে চিড়া দেয়া হয়নি।

এই পর্যটন ব্যবসায়ীর মতে, স্থানীয়রা দাবি জানাচ্ছেন যে এসব না দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ১ থেকে ২ কেজি পলিথিন দেয়া হলে তাদের বেশি উপকার হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কোন নিত্যপণ্য আনা যাচ্ছে না এবং স্থানীয় দোকানে যা ছিল তার প্রায় শেষ। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুর শুক্কুর বলেন, সমুদ্রের পানি প্রবেশ করায় মিঠা পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে গেছে। ফলে, আমরা খাবার পানির সংকটে আছি। কয়েকটি জায়গায় পুকুর ও টিউবওয়েলের পানি লবণাক্ত হয়নি। সবাই সেসব জায়গায় ছুটছেন পানির জন্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা রোজিনা আক্তার জানান, তিনি এখনও সরকারিভাবে কোন অনুদান বা সহযোগিতা পাননি। তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বসতঘরটি ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে। তিনি এখন সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। তার ঘরটি মেরামত করার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। একই কথা জানিয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনও।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার কামাল বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে মানুষ কোন রকম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। যে খাবার দেয়া হচ্ছে সেগুলো দিয়ে একটি পরিবারের একবেলাও হবে না। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতে কোন সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এর জন্য দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ৭০০টির মতো বাড়ি ভেঙে গেছে। ২৫০ থেকে ৩০০ সেমিপাকা বাড়ির টিন উড়ে গেছে।

এদিকে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামত করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। অপরদিকে ৫ দিন ধরে নিত্যপণ্য সরবরাহ না থাকায় এবং জেলেরা মাছ ধরতে না পারায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল সকাল থেকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বীপের পূর্ব পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদ (৫৮) জানান, সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে তার কুঁড়েঘর।

তিনি বলেন, গেল ৫ দিন ধরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে উপোস থাকার উপক্রম হয়েছে। চাল-ডাল কিছুই ঘরে নেই। তবুও ঘর ও ঘেরাবেড়া মেরামত করার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। শুধু ছৈয়দ হোসেন নন, ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দ্বীপের ১২০০ শত বেশি বাড়িঘর। ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে যতদূর চোখ যায় শুধুই ধ্বংসস্তূপ। বিধ্বস্ত বাড়িঘর, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপের রক্ষা দেয়াল কেয়াবন। যাদের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে তারা এখন এখন বাঁশ ও ত্রিপল সংগ্রহ করে মেরামত করার চেষ্টা করছেন। আর আশায় আছেন সরকারি সহায়তার। আরও অনেকের মতো মোখার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পূর্ব পাড়া গ্রামের আরেক বাসিন্দা আব্বাস আলীর ঘর। তিনি বলেন, ঘর হারালাম। আমার একটি মুদির দোকান ছিল, সেটিও ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। কোন জিনিসপত্র বাঁচেনি। সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে রান্না করার মতো অবস্থা নেই। টেকনাফ থেকে গত ৫ দিন ধরে মালামাল আসছে না। তাই জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে। আর কয়েকদিন নিত্যপণ্য না এলে সেন্টমার্টিনজুড়ে খাবার সংকট তীব্র হবে।

সেন্টমার্টিন ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইলিয়াস খোকন বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার জন্য সাগর পথে খাবার ও নিত্যপণ্যের জোগান আসে টেকনাফ থেকে। কিন্তু ৫ দিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপণ্য ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। আর মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল সকাল থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘যার নগদ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন তাকে নগদ অর্থ সহায়তা, যার গৃহ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন তাকে ঢেউটিন দেবো। আর যার ত্রাণ সামগ্রী প্রয়োজন তাকে ত্রাণ সামগ্রী দেবো। আমি সেন্টমার্টিনবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই ঘূর্ণিঝড়ে একজন মানুষও সরকারের ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না।

উল্লেখ্য গত রোববার সকালে এ ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ যখন উপকূল অতিক্রম শুরু করে, তখন এর কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।