বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে বিসিবি প্রধান

আফিফ-রিয়াদ-সৈকত যেকোন সময় দলে আসতে পারে

ভারতে হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের এখনও বাকি আছে সাড়ে চারমাসের বেশি সময়। কিন্তু বাংলাদেশ স্কোয়াডে কে থাকবেন তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। এই আলোচনার বড় অংশ জুড়েই আছেন ঘরের মাঠে গত আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাদ পড়া মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন। তাদের নিয়ে নিয়মিতই নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে বিসিবি সংশ্লিষ্টদের।

গতকাল বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী শেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তখনও মাহমুদউল্লাহকে সাত নম্বরে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাংবাদিকদের কাছে একাদশ চান তিনি, ‘এখন ক্রিকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হচ্ছে মিডিয়া। এটাতে আমরা খুশি। আপনারা এত বেশি সম্পৃক্ত এটা আমাদেরও সাহায্য করে। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েও আমরা খুশি, কিন্তু সেখানে মনে হয়েছে অনেকেরই ক্রিকেট নিয়ে কোন ধারণা নেই, কিন্তু মন্তব্য করে যাচ্ছে। আপনারা এখানে যারা আছেন তারা ক্রিকেট সম্পর্কে প্রত্যেকেই অনেক জানেন, আমার চেয়ে বেশি জানেন এমন বহু লোক আছে। আমি চিন্তা করছি আপনাদের কাছে নাম চাইব যে সেরা একাদশ তৈরি করে দেন। তারপর দেখি আপনারা কী বলেন। এটা হলে ভালো হয় না? জানতে তো পারলাম। আপনারা কী মনে করেন কাকে খেলানো উচিত। ’

পরে তার নিজের বিচারে একাদশ নিয়ে একটা ধারণা দেন বোর্ড প্রধান, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন তামিম, লিটন, শান্ত, হৃদয়, মুশফিক, সাকিব। এই ছয়জনের মধ্যে কাউকে তো আপনারা বাদ দিবেন বলে মনে হয় না। ওপেনিংয়ে নাঈম শেখ ও বিজয় তারাও ভালো পারফর্ম করছে, তারাও আসতে পারে। কে আসবে আমি জানি না। আমার পর্যবেক্ষণ বলছিলাম। আমার ধারণা ওপেনিংয়ে বাড়তি একজনকে তারা নিবে। ইনজুরির কথা ভেবে ব্যাকআপ লাগবে।’

ছয় বোলার নিয়ে খেললে মাহমুদউল্লাহ বা আফিফের কারো জায়গা দেখেন না তিনি, ‘আমার ধারণা তিনটা পেসার খেলবে নিশ্চিত। সাকিব যদি খেলে একটা স্পিনার খেলবে। পাঁচটা বোলার ছাড়া তো বিশ্বকাপের খেলবেন না। হাসান আছে, তাসকিন, শরিফুল, ইবাদত, মোস্তাফিজ আছে। যে কেউ খেলতে পারে। চারজন পেসারও খেলতে পারে। যদি তিনজন স্পিনার নিয়ে খেলার অর্থ ছয়টা বোলার নিয়ে খেলতে চায় তাহলে বাড়তি স্পিনার লাগবে। বাড়তি থাকে একটা জায়গা সেখানে আছে মেহেদী হাসান মিরাজ। আমার মনে হয় না কেউ বলবে মিরাজকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া উচিত।’

বোলার একজন কম নিয়ে খেলেলে বিবেচনায় আসতে পারেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ, তরুণ আফিফ। তবে এই বোলিং স্কিল বিবেচনায় মোসাদ্দেককেও এগিয়ে রাখছেন তিনি, ‘কোন কারণে পাঁচ বোলার নিয়ে খেললে একটা সুযোগ আসে একজন বাড়তি ব্যাটার খেলানোর। ওখানে এখন স্কোয়াডে আছে রাব্বি। স্কোয়াডে নাই কিন্তু যেকোন সময় ঢুকতে পারে আফিফ, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক। যদি আমি পাঁচ বোলার নিয়ে খেলি কোন কারণে একটা বোলার চোটে পড়লে ম্যাচে মধ্যে তাহলে বলটা করবে কে। এজন্য অলরাউন্ডার পেলে ভালো হয়। আলটিমেটলি (প্রধান নির্বাচক) নান্নু কী করবে আমি জানি না, আমার কথা বলছি।’

‘ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আফিফ, মাহমুদউল্লাহ দুজনেরই ব্যাটিং (সামর্থ্য অনুযায়ী থাকতে পারে। রাব্বি চোট থেকে আসার পর তেমন কোন পারফর্মেন্স করেনি। আপনি যদি বোলিংয়ে চিন্তা করে এখানে এগিয়ে থাকবে আফিফ, মোসাদ্দেক। মাহমুদউল্লাহও করতে পারে। ফিল্ডিংও যদি চান তাহলে আমার মনে হয় আফিফ ওদের উপরে। তারপরও মোসাদ্দেকও রিয়াদের চেয়ে ভালো হতে পারে। কী চান আমার মনে হয় একদিন আপনাদের ডেকে নাম চাইব।’

এশিয়া কাপ আয়োজন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘এশিয়া কাপের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত এসিসি থেকে আমাদের জানানো হয়নি । কোথায় হবে সেটা বলা মুশকিল। আমার জানা মতে, দুটি অপশন আছে। একটা হলো হাইব্রিড মডেল। আরেকটা হলো একটি দেশেই। হাইব্রিড মডেল হলে সেটা হবে পাকিস্তান ও আরব আমিরাতে। আর সিঙ্গেল দেশ হলে এটা যে কোনো দেশই হতে পারে। তবে খুব সম্ভব, সুযোগ বেশি শ্রীলঙ্কার। বাংলাদেশকেও প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ওই সময় যেহেতু বৃষ্টি থাকবে।

আর খেলা হবে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি হলে আমরা একটা সুযোগ নিতে পারতাম। ওয়ানডেতে আমার মনে হয়, ওই সময়টায় খেলানো সম্ভব হবে না। সেজন্য আমাদেরকে যখন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমরা বলেছি, ওই সময়টায় সম্ভব না।

শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ , ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ২৮ শাওয়াল ১৪৪৪

বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে বিসিবি প্রধান

আফিফ-রিয়াদ-সৈকত যেকোন সময় দলে আসতে পারে

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

image

ভারতে হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের এখনও বাকি আছে সাড়ে চারমাসের বেশি সময়। কিন্তু বাংলাদেশ স্কোয়াডে কে থাকবেন তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। এই আলোচনার বড় অংশ জুড়েই আছেন ঘরের মাঠে গত আয়ারল্যান্ড সিরিজে বাদ পড়া মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন। তাদের নিয়ে নিয়মিতই নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে বিসিবি সংশ্লিষ্টদের।

গতকাল বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী শেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তখনও মাহমুদউল্লাহকে সাত নম্বরে খেলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাংবাদিকদের কাছে একাদশ চান তিনি, ‘এখন ক্রিকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হচ্ছে মিডিয়া। এটাতে আমরা খুশি। আপনারা এত বেশি সম্পৃক্ত এটা আমাদেরও সাহায্য করে। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েও আমরা খুশি, কিন্তু সেখানে মনে হয়েছে অনেকেরই ক্রিকেট নিয়ে কোন ধারণা নেই, কিন্তু মন্তব্য করে যাচ্ছে। আপনারা এখানে যারা আছেন তারা ক্রিকেট সম্পর্কে প্রত্যেকেই অনেক জানেন, আমার চেয়ে বেশি জানেন এমন বহু লোক আছে। আমি চিন্তা করছি আপনাদের কাছে নাম চাইব যে সেরা একাদশ তৈরি করে দেন। তারপর দেখি আপনারা কী বলেন। এটা হলে ভালো হয় না? জানতে তো পারলাম। আপনারা কী মনে করেন কাকে খেলানো উচিত। ’

পরে তার নিজের বিচারে একাদশ নিয়ে একটা ধারণা দেন বোর্ড প্রধান, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন তামিম, লিটন, শান্ত, হৃদয়, মুশফিক, সাকিব। এই ছয়জনের মধ্যে কাউকে তো আপনারা বাদ দিবেন বলে মনে হয় না। ওপেনিংয়ে নাঈম শেখ ও বিজয় তারাও ভালো পারফর্ম করছে, তারাও আসতে পারে। কে আসবে আমি জানি না। আমার পর্যবেক্ষণ বলছিলাম। আমার ধারণা ওপেনিংয়ে বাড়তি একজনকে তারা নিবে। ইনজুরির কথা ভেবে ব্যাকআপ লাগবে।’

ছয় বোলার নিয়ে খেললে মাহমুদউল্লাহ বা আফিফের কারো জায়গা দেখেন না তিনি, ‘আমার ধারণা তিনটা পেসার খেলবে নিশ্চিত। সাকিব যদি খেলে একটা স্পিনার খেলবে। পাঁচটা বোলার ছাড়া তো বিশ্বকাপের খেলবেন না। হাসান আছে, তাসকিন, শরিফুল, ইবাদত, মোস্তাফিজ আছে। যে কেউ খেলতে পারে। চারজন পেসারও খেলতে পারে। যদি তিনজন স্পিনার নিয়ে খেলার অর্থ ছয়টা বোলার নিয়ে খেলতে চায় তাহলে বাড়তি স্পিনার লাগবে। বাড়তি থাকে একটা জায়গা সেখানে আছে মেহেদী হাসান মিরাজ। আমার মনে হয় না কেউ বলবে মিরাজকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া উচিত।’

বোলার একজন কম নিয়ে খেলেলে বিবেচনায় আসতে পারেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ, তরুণ আফিফ। তবে এই বোলিং স্কিল বিবেচনায় মোসাদ্দেককেও এগিয়ে রাখছেন তিনি, ‘কোন কারণে পাঁচ বোলার নিয়ে খেললে একটা সুযোগ আসে একজন বাড়তি ব্যাটার খেলানোর। ওখানে এখন স্কোয়াডে আছে রাব্বি। স্কোয়াডে নাই কিন্তু যেকোন সময় ঢুকতে পারে আফিফ, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক। যদি আমি পাঁচ বোলার নিয়ে খেলি কোন কারণে একটা বোলার চোটে পড়লে ম্যাচে মধ্যে তাহলে বলটা করবে কে। এজন্য অলরাউন্ডার পেলে ভালো হয়। আলটিমেটলি (প্রধান নির্বাচক) নান্নু কী করবে আমি জানি না, আমার কথা বলছি।’

‘ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আফিফ, মাহমুদউল্লাহ দুজনেরই ব্যাটিং (সামর্থ্য অনুযায়ী থাকতে পারে। রাব্বি চোট থেকে আসার পর তেমন কোন পারফর্মেন্স করেনি। আপনি যদি বোলিংয়ে চিন্তা করে এখানে এগিয়ে থাকবে আফিফ, মোসাদ্দেক। মাহমুদউল্লাহও করতে পারে। ফিল্ডিংও যদি চান তাহলে আমার মনে হয় আফিফ ওদের উপরে। তারপরও মোসাদ্দেকও রিয়াদের চেয়ে ভালো হতে পারে। কী চান আমার মনে হয় একদিন আপনাদের ডেকে নাম চাইব।’

এশিয়া কাপ আয়োজন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘এশিয়া কাপের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত এসিসি থেকে আমাদের জানানো হয়নি । কোথায় হবে সেটা বলা মুশকিল। আমার জানা মতে, দুটি অপশন আছে। একটা হলো হাইব্রিড মডেল। আরেকটা হলো একটি দেশেই। হাইব্রিড মডেল হলে সেটা হবে পাকিস্তান ও আরব আমিরাতে। আর সিঙ্গেল দেশ হলে এটা যে কোনো দেশই হতে পারে। তবে খুব সম্ভব, সুযোগ বেশি শ্রীলঙ্কার। বাংলাদেশকেও প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ওই সময় যেহেতু বৃষ্টি থাকবে।

আর খেলা হবে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি হলে আমরা একটা সুযোগ নিতে পারতাম। ওয়ানডেতে আমার মনে হয়, ওই সময়টায় খেলানো সম্ভব হবে না। সেজন্য আমাদেরকে যখন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আমরা বলেছি, ওই সময়টায় সম্ভব না।