যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির মধ্যস্থতায় সুদানে ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি

সুদানে লড়াইরত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দায় এক আলোচনাসভার পর উভয়পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য এর আগে বহুবার যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে এবারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে জারি করা হয়েছে।

চুক্তির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, এখন বন্দুক নামিয়ে নিয়ে মানবতা দেখানোর সময়। আমি উভয়পক্ষকে এ চুক্তি বহাল রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের লড়াই পুরো দেশকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার, টাকা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে। এমনকি, এ সংঘাতের মধ্যেই দেশটির ব্যাংক, অ্যাম্বাসিসহ চার্চে পর্যন্ত ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়েছে। সুদান সংঘাতে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে সুদানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এই চুক্তিতে মানবিক সহায়তা বিতরণ, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু এবং হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় সরকারি অবকাঠামোগুলো থেকে বাহিনী প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সহায়তা সংস্থাগুলো বলেছে, তারা রাজধানী খার্তুমে কর্মীদের জন্য নিরাপদ পথ এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টির অভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে অক্ষম।

দক্ষিণ ওমদুরমান এবং উত্তর বাহরিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই দুটি শহর খার্তুম থেকে নীল নদের ওপারে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওমদুরমানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার কাছেও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ওমদুরমানের আল-সালহা পাড়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী সানা হাসান ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আজ সকালে আমরা ভারী কামানের গোলাবর্ষণের সম্মুখীন হয়েছিলাম, পুরো বাড়িটি কাঁপছিল।

সোমবার, ২২ মে ২০২৩ , ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০২ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির মধ্যস্থতায় সুদানে ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি

image

সুদানে লড়াইরত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দায় এক আলোচনাসভার পর উভয়পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য এর আগে বহুবার যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে এবারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে জারি করা হয়েছে।

চুক্তির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, এখন বন্দুক নামিয়ে নিয়ে মানবতা দেখানোর সময়। আমি উভয়পক্ষকে এ চুক্তি বহাল রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের লড়াই পুরো দেশকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবার, টাকা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে। এমনকি, এ সংঘাতের মধ্যেই দেশটির ব্যাংক, অ্যাম্বাসিসহ চার্চে পর্যন্ত ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়েছে। সুদান সংঘাতে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। টানা ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে সুদানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এই চুক্তিতে মানবিক সহায়তা বিতরণ, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু এবং হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় সরকারি অবকাঠামোগুলো থেকে বাহিনী প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সহায়তা সংস্থাগুলো বলেছে, তারা রাজধানী খার্তুমে কর্মীদের জন্য নিরাপদ পথ এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টির অভাবে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে অক্ষম।

দক্ষিণ ওমদুরমান এবং উত্তর বাহরিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই দুটি শহর খার্তুম থেকে নীল নদের ওপারে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওমদুরমানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার কাছেও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ওমদুরমানের আল-সালহা পাড়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী সানা হাসান ফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আজ সকালে আমরা ভারী কামানের গোলাবর্ষণের সম্মুখীন হয়েছিলাম, পুরো বাড়িটি কাঁপছিল।