বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ : বাসে আগুন

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে পণ্ড হয়ে গেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচিটি। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন ১২ জন পুলিশ সদস্য। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর আগে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

পুলিশ বলছে, পদযাত্রার পেছনের দিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে এটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিআরটিসির একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় ৮ জন, কলাবাগান থানায় ২ জন, ধানমন্ডি থানায় ১০/১২ জন ও শাহবাগ থানায় বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, গায়েবি মামলায় নির্বিচারে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা কর্মসূচিটি সাত মসজিদ রোড, রাইফেল স্কয়ার, ঢাকা সিটি কলেজ, সায়েন্সল্যাব, বাটা সিগন্যাল হয়ে কাঁটাবন মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বিকেল ৪টার বিএনপির মিছিল সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসলে কিছু নেতাকর্মী ওই স্থানে দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি গাড়ি ও একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ১০-১৫ হাজার নেতাকর্মী বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি অংশ নেয়। কর্মসূচির শুরুতে সবাই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু কর্মসূচির শেষের দিকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা চলে গেলে উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে লাঠি নিয়ে আতর্কিত হামলা চালায়। ভাঙচুর করে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসও। পরে জানমাল রক্ষায় পুলিশ টিয়ার নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ডিসি আরও বলেন, এই সংঘর্ষে আমাদের বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি তারা না ঘটালেও পারত। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিসি।

বুধবার, ২৪ মে ২০২৩ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৪ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ : বাসে আগুন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বিএনপির পদযাত্রা থেমে যায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে। সংঘর্ষ বাধে পুলিশের সঙ্গে, পদযাত্রা থেকে শুরু হয় হামলা-ভাঙচুর, বাসে আগুন -সংবাদ

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে পণ্ড হয়ে গেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচিটি। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন ১২ জন পুলিশ সদস্য। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর আগে সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

পুলিশ বলছে, পদযাত্রার পেছনের দিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে এটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিআরটিসির একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় ডিএমপির নিউমার্কেট থানায় ৮ জন, কলাবাগান থানায় ২ জন, ধানমন্ডি থানায় ১০/১২ জন ও শাহবাগ থানায় বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, গায়েবি মামলায় নির্বিচারে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রা শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পদযাত্রা কর্মসূচিটি সাত মসজিদ রোড, রাইফেল স্কয়ার, ঢাকা সিটি কলেজ, সায়েন্সল্যাব, বাটা সিগন্যাল হয়ে কাঁটাবন মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বিকেল ৪টার বিএনপির মিছিল সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসলে কিছু নেতাকর্মী ওই স্থানে দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি গাড়ি ও একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ১০-১৫ হাজার নেতাকর্মী বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি অংশ নেয়। কর্মসূচির শুরুতে সবাই শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু কর্মসূচির শেষের দিকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা চলে গেলে উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে লাঠি নিয়ে আতর্কিত হামলা চালায়। ভাঙচুর করে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসও। পরে জানমাল রক্ষায় পুলিশ টিয়ার নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ডিসি আরও বলেন, এই সংঘর্ষে আমাদের বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি তারা না ঘটালেও পারত। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিসি।