শ্রীঘ্রই রুশ বাহিনীর কাছে বাখমুত হস্তান্তর : ভাগনারপ্রধান

পনেরো মাস ধরে চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এ সময়ের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বেশকিছু এলাকা দখল করে নিলেও বাখমুত নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে রাশিয়াকে। অবশেষে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ভাগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিন গত শনিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুত দখলের দাবি করেন।

দখলকৃদ শহরের নিয়ন্ত্রণ আগামী ১ লা জুনের মধ্যে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভাগনারপ্রধান। তবে কিয়েভ বলছে, ইউক্রেনের সেনারা এখনো শহরটির অংশবিশেষ নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশটির সেনারা শহরের উপকণ্ঠের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

কিন্তু ভাগনারপ্রধান বলেছেন, তাঁর সেনারা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর শুরু করবেন। টেলিগ্রামে দেওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে ইয়েভজেনি প্রিগোশিন বলেন, ভাগনার ২৫ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে আর্টেমোভস্ক (বাখমুত) ত্যাগ করবে।

বাখমুত আগে আর্টেমোভস্ক নামে পরিচিত ছিল। এক সোভিয়েত বিপ্লবীর সম্মানে শহরটির এ নাম রাখা হয়েছিল। তবে পরে ইউক্রেন শহরটির নাম বাখমুত রাখে। ইয়েভজেনি প্রিগোশিন বলেছেন, বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের আগে শহরটির পশ্চিম দিকে প্রতিরক্ষাব্যূহ স্থাপন করেছে ভাগনার।

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার কাছে ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বাধীন ভাগনার গ্রুপের গুরুত্ব বেড়েছে। ইউক্রেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার ভাষ্য, শহরটির ভেতরে এখনো তাঁর দেশের বাহিনীর ছোট অবস্থান রয়েছে। পরে হান্না মালিয়ার এক টেলিগ্রাম পোস্টে লেখেন, ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো শহরটির কিছু বেসরকারি স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মস্কোর কাছে বাখমুতের খুব কমই কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে শহরটি দখল করা রাশিয়ার জন্য একটি প্রতীকী বিজয় হবে।

এ পর্যন্ত লড়াইয়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি একটা দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে দখল করা এসব এলাকা নিজেদের ভূখ-ের সঙ্গে একীভূত করেছে মস্কো। ইউক্রেন হারানো এলাকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা বরাবরই চালিয়ে যাচ্ছে।

ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে কারা: যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ওয়াগনার প্রায় নিশ্চিতভাবেই এখন ইউক্রেনে ৫০,০০০ যোদ্ধার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ইউক্রেন অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছেন। এটি বলেছে যে সংস্থাটি গত বছর প্রচুর পরিমাণে নিয়োগ শুরু করেছিল কারণ রাশিয়ার নিয়মিত সেনাবাহিনীর জন্য লোক খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছিল।

দ্য ওয়াগনার গ্রুপ একটি রাশিয়ান আধাসামরিক সংস্থা। একে বিভিন্নভাবে একটি প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানি বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের একটি ডি ফ্যাক্টো প্রাইভেট আর্মি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গ্রুপটি রাশিয়ায় আইনের বাইরে কাজ করে, যেখানে বেসরকারী সামরিক কোম্পানিগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। যেহেতু এটি রাশিয়ান স্বার্থের সমর্থনে কাজ করে, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরঞ্জাম গ্রহণ করে এবং প্রশিক্ষণের জন্য দেশটির ইনস্টলেশন ব্যবহার করে। রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি ডি ফ্যাক্টো ইউনিট বলা হয়। ওয়াগনারের বিভিন্ন কাজকে নব্য-নাৎসিবাদ এবং অতি-ডানপন্থী উগ্রবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধ মানেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। ইউক্রেন সংঘাতেও তার ব্যতিক্রম নয়। উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সংঘাতে রাশিয়ার প্রায় ২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে।

ইউক্রেনের সরকারি হিসাবমতে, সংঘাতে নিহত রুশ সেনাসংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাদের ৫ হাজার ৯৩৭ জন সেনা নিহত হয়েছে।

সংঘাতের কারণে রাশিয়ার একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ দেশত্যাগ করেছে। সংখ্যাটা অন্তত ৫ লাখ। প্রধানত গত বছরের শেষ দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর দেশ থেকে পালায় তারা। রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ২.১ শতাংশ। রাশিয়ার ক্ষতি কম হওয়ার কারণ চীন, ভারতসহ কয়েকটি দেশকে বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে পেয়েছেন পুতিন।

বুধবার, ২৪ মে ২০২৩ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৪ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

শ্রীঘ্রই রুশ বাহিনীর কাছে বাখমুত হস্তান্তর : ভাগনারপ্রধান

image

পনেরো মাস ধরে চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এ সময়ের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বেশকিছু এলাকা দখল করে নিলেও বাখমুত নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে রাশিয়াকে। অবশেষে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ভাগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিন গত শনিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুত দখলের দাবি করেন।

দখলকৃদ শহরের নিয়ন্ত্রণ আগামী ১ লা জুনের মধ্যে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভাগনারপ্রধান। তবে কিয়েভ বলছে, ইউক্রেনের সেনারা এখনো শহরটির অংশবিশেষ নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশটির সেনারা শহরের উপকণ্ঠের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

কিন্তু ভাগনারপ্রধান বলেছেন, তাঁর সেনারা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর শুরু করবেন। টেলিগ্রামে দেওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে ইয়েভজেনি প্রিগোশিন বলেন, ভাগনার ২৫ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে আর্টেমোভস্ক (বাখমুত) ত্যাগ করবে।

বাখমুত আগে আর্টেমোভস্ক নামে পরিচিত ছিল। এক সোভিয়েত বিপ্লবীর সম্মানে শহরটির এ নাম রাখা হয়েছিল। তবে পরে ইউক্রেন শহরটির নাম বাখমুত রাখে। ইয়েভজেনি প্রিগোশিন বলেছেন, বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের আগে শহরটির পশ্চিম দিকে প্রতিরক্ষাব্যূহ স্থাপন করেছে ভাগনার।

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার কাছে ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বাধীন ভাগনার গ্রুপের গুরুত্ব বেড়েছে। ইউক্রেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার ভাষ্য, শহরটির ভেতরে এখনো তাঁর দেশের বাহিনীর ছোট অবস্থান রয়েছে। পরে হান্না মালিয়ার এক টেলিগ্রাম পোস্টে লেখেন, ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো শহরটির কিছু বেসরকারি স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মস্কোর কাছে বাখমুতের খুব কমই কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে শহরটি দখল করা রাশিয়ার জন্য একটি প্রতীকী বিজয় হবে।

এ পর্যন্ত লড়াইয়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি একটা দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে দখল করা এসব এলাকা নিজেদের ভূখ-ের সঙ্গে একীভূত করেছে মস্কো। ইউক্রেন হারানো এলাকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা বরাবরই চালিয়ে যাচ্ছে।

ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে কারা: যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ওয়াগনার প্রায় নিশ্চিতভাবেই এখন ইউক্রেনে ৫০,০০০ যোদ্ধার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ইউক্রেন অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছেন। এটি বলেছে যে সংস্থাটি গত বছর প্রচুর পরিমাণে নিয়োগ শুরু করেছিল কারণ রাশিয়ার নিয়মিত সেনাবাহিনীর জন্য লোক খুঁজে পেতে সমস্যা হয়েছিল।

দ্য ওয়াগনার গ্রুপ একটি রাশিয়ান আধাসামরিক সংস্থা। একে বিভিন্নভাবে একটি প্রাইভেট মিলিটারি কোম্পানি বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের একটি ডি ফ্যাক্টো প্রাইভেট আর্মি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গ্রুপটি রাশিয়ায় আইনের বাইরে কাজ করে, যেখানে বেসরকারী সামরিক কোম্পানিগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। যেহেতু এটি রাশিয়ান স্বার্থের সমর্থনে কাজ করে, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরঞ্জাম গ্রহণ করে এবং প্রশিক্ষণের জন্য দেশটির ইনস্টলেশন ব্যবহার করে। রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি ডি ফ্যাক্টো ইউনিট বলা হয়। ওয়াগনারের বিভিন্ন কাজকে নব্য-নাৎসিবাদ এবং অতি-ডানপন্থী উগ্রবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি: যুদ্ধ মানেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। ইউক্রেন সংঘাতেও তার ব্যতিক্রম নয়। উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সংঘাতে রাশিয়ার প্রায় ২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে।

ইউক্রেনের সরকারি হিসাবমতে, সংঘাতে নিহত রুশ সেনাসংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাদের ৫ হাজার ৯৩৭ জন সেনা নিহত হয়েছে।

সংঘাতের কারণে রাশিয়ার একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ দেশত্যাগ করেছে। সংখ্যাটা অন্তত ৫ লাখ। প্রধানত গত বছরের শেষ দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর দেশ থেকে পালায় তারা। রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ২.১ শতাংশ। রাশিয়ার ক্ষতি কম হওয়ার কারণ চীন, ভারতসহ কয়েকটি দেশকে বাণিজ্য সহযোগী হিসেবে পেয়েছেন পুতিন।