প্রযুক্তি ও মানব কল্যাণ

প্রযুক্তির দাপটে শিক্ষার্থীদের ভেতর বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। সিনেমা শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি। পত্রপত্রিকার অবস্থা নিবুনিবু। রেডিও কেউ শোনে না। কারো হাতে ঘড়িও দেখা যায় না আগের মতো। খেলাধুলার প্রতি উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের আগ্রহ নেই। সবাই মোবাইল নিয়ে বুঁদ।

মানুষের হাত থেকেই যখন বুদ্ধিমান যন্ত্র চলে এসেছে, তখন না জানি সেই যন্ত্র মানবসভ্যতাকে কোনদিকে টেনে নিয়ে যাবে। উন্নয়নের দিকে নাকি ধ্বংসের দিকে, সেটাই ভাবনার বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকার পাতায়-পাতায়।

কিন্তু সংবাদ ও প্রতিবেদনগুলো পড়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছে আগামী দিনের কথা ভেবে। যেমন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে আইন না হলে চাকরি খোয়াবেন বহু মানুষ।’

এই প্রযুক্তির গ্রষ্টা অল্টম্যান এমন কথা বলছেন। তিনি নিজেই এখন শঙ্কিত তারই আবিষ্কার করা প্রযুক্তি নিয়ে। এক সময় মানুষ স্বপ্ন দেখত, তাদের কাজ করে দেবে যন্ত্ররা। সেই ধারা শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই। একশো জন শ্রমিকের সারাদিনের কাজ একটি পোলোডার বা জেসিবি মেশিন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় করে দিচ্ছে। রোবটও মানুষের অনেক মানুষের কাজ করে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত হয়তো ঠিকই ছিল। কিন্তু যেভাবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ মানুষের বিকল্প যন্ত্র ক্রমে সমৃদ্ধ হয়ে চলেছে, তাতে ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা ধ্বংসেরই ইঙ্গিত মিলছে।

এখন মনে করা হচ্ছে- সৃষ্টি ছাপিয়ে যাবে স্রষ্টাকে! ‘বুদ্ধিমান’ যন্ত্রের ঝোপে চাকরি খোয়াবে ‘বোকা’ মানুষ। পৃথিবীতে শেষ হয়ে যাবে মানুষের আধিপত্য। ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নিয়ে এহেন আশঙ্কা বরাবরই ছিল। এবার ভয় আরও বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং আবিষ্কারক স্যাম অল্টম্যান।

যেসব প্রযুক্তি মানব সমাজ বা পৃথিবীর কল্যাণে কাজে লাগবে, কেবলমাত্র সেই প্রযুক্তির উন্নতি ব্যাতিরেকে ধ্বংসপ্রবণ প্রযুক্তিকে থামিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

বুধবার, ২৪ মে ২০২৩ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৪ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

প্রযুক্তি ও মানব কল্যাণ

প্রযুক্তির দাপটে শিক্ষার্থীদের ভেতর বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। সিনেমা শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি। পত্রপত্রিকার অবস্থা নিবুনিবু। রেডিও কেউ শোনে না। কারো হাতে ঘড়িও দেখা যায় না আগের মতো। খেলাধুলার প্রতি উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের আগ্রহ নেই। সবাই মোবাইল নিয়ে বুঁদ।

মানুষের হাত থেকেই যখন বুদ্ধিমান যন্ত্র চলে এসেছে, তখন না জানি সেই যন্ত্র মানবসভ্যতাকে কোনদিকে টেনে নিয়ে যাবে। উন্নয়নের দিকে নাকি ধ্বংসের দিকে, সেটাই ভাবনার বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকার পাতায়-পাতায়।

কিন্তু সংবাদ ও প্রতিবেদনগুলো পড়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছে আগামী দিনের কথা ভেবে। যেমন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে আইন না হলে চাকরি খোয়াবেন বহু মানুষ।’

এই প্রযুক্তির গ্রষ্টা অল্টম্যান এমন কথা বলছেন। তিনি নিজেই এখন শঙ্কিত তারই আবিষ্কার করা প্রযুক্তি নিয়ে। এক সময় মানুষ স্বপ্ন দেখত, তাদের কাজ করে দেবে যন্ত্ররা। সেই ধারা শুরু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই। একশো জন শ্রমিকের সারাদিনের কাজ একটি পোলোডার বা জেসিবি মেশিন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় করে দিচ্ছে। রোবটও মানুষের অনেক মানুষের কাজ করে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত হয়তো ঠিকই ছিল। কিন্তু যেভাবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ মানুষের বিকল্প যন্ত্র ক্রমে সমৃদ্ধ হয়ে চলেছে, তাতে ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা ধ্বংসেরই ইঙ্গিত মিলছে।

এখন মনে করা হচ্ছে- সৃষ্টি ছাপিয়ে যাবে স্রষ্টাকে! ‘বুদ্ধিমান’ যন্ত্রের ঝোপে চাকরি খোয়াবে ‘বোকা’ মানুষ। পৃথিবীতে শেষ হয়ে যাবে মানুষের আধিপত্য। ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ নিয়ে এহেন আশঙ্কা বরাবরই ছিল। এবার ভয় আরও বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং আবিষ্কারক স্যাম অল্টম্যান।

যেসব প্রযুক্তি মানব সমাজ বা পৃথিবীর কল্যাণে কাজে লাগবে, কেবলমাত্র সেই প্রযুক্তির উন্নতি ব্যাতিরেকে ধ্বংসপ্রবণ প্রযুক্তিকে থামিয়ে দেয়ার সময় এসেছে।

লিয়াকত হোসেন খোকন