পথশিশুদের অধিকার

উন্নত দেশ গড়তে হলে সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে না পথশিশুরাও।

যখন নিজের ছোটো ভাইয়ের সমবয়সি ক্ষুধার্ত ও জীর্ণশীর্ণ চেহারাগুলো আমরা দেখতে পাই, তখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের পরিসংখ্যানটা শুধু পরিসংখ্যানই মনে হয়। ক্ষুধার্ত হয়ে যখন খাবারের জন্য একটা মলিন আধাছেঁড়া প্যান্ট পরিহিত বালক কোনো ভদ্রলোকের কাছে খাবার চায়, তখন বিরক্ত হয়ে চড়-লাথি মারতেও দ্বিধা করে না তার।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী- বাংলাদেশে ৪ লাখ পথশিশু আছে, যেখানে ইউনিসেফের তথ্যমতে সংখ্যাটা ১০ লাখ। একটু চিন্তা করেন, একটা দেশের ১০ লাখের বেশি মানুষের তথা শুধু শিশুদের থাকার জায়গা নেই। তার ওপর পুষ্টি, শিক্ষা, স্যানিটেশনের বঞ্চনা তো রয়েছেই। রয়েছে মাদকাসক্তির সমস্যাও।

পথশিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশ মাদকাসক্ত। এখন প্রশ্ন হলো- একটা জাতির প্রত্যেকটা মানুষ যদি জাতির অংশ হয়, তাহলে এই ১০ লাখ মানুষ যারা শুধু শিশু, তারা কি জাতির অংশ নয়? বাহাদুর শাহ পার্কে প্রতিনিয়তই প্রকাশ্যে পথশিশুরা নেশায় লিপ্ত। আর সেটা চলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। পথশিশুরা একে অন্যকে গালাগালি করে নোংরা ভাষায়। মাঝে মাঝে খাবারের জন্য পথচারীর হাত ধরে টানাটানি করে মাদকাসক্ত থাকায়- এগুলো স্বাভাবিক।

এ দেশটা পথশিশুদেরও। তারাও জাতির অংশ। যতদিন এসব পথশিশুদের উন্নয়ন করা না হবে, ততদিন পর্যন্ত জাতি পেছনেই থেকে যাবে। একটা দেহের প্রত্যেকটা অংশেরই যেমন গুরুত্ব রয়েছে, দেশের প্রত্যেকটা স্তরের মানুষের গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের উচিত জাতির এই মানুষগুলোর জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা- যাতে তারা সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হয়। জাতির উন্নয়নে তাদেরও অংশীদার করতে হবে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পথশিশুদের উন্নয়নের চেষ্টা করতে হবে। জাতির অংশ হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।

জুনায়েদ মাসুদ

বুধবার, ২৪ মে ২০২৩ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৪ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

পথশিশুদের অধিকার

image

উন্নত দেশ গড়তে হলে সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে না পথশিশুরাও।

যখন নিজের ছোটো ভাইয়ের সমবয়সি ক্ষুধার্ত ও জীর্ণশীর্ণ চেহারাগুলো আমরা দেখতে পাই, তখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের পরিসংখ্যানটা শুধু পরিসংখ্যানই মনে হয়। ক্ষুধার্ত হয়ে যখন খাবারের জন্য একটা মলিন আধাছেঁড়া প্যান্ট পরিহিত বালক কোনো ভদ্রলোকের কাছে খাবার চায়, তখন বিরক্ত হয়ে চড়-লাথি মারতেও দ্বিধা করে না তার।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী- বাংলাদেশে ৪ লাখ পথশিশু আছে, যেখানে ইউনিসেফের তথ্যমতে সংখ্যাটা ১০ লাখ। একটু চিন্তা করেন, একটা দেশের ১০ লাখের বেশি মানুষের তথা শুধু শিশুদের থাকার জায়গা নেই। তার ওপর পুষ্টি, শিক্ষা, স্যানিটেশনের বঞ্চনা তো রয়েছেই। রয়েছে মাদকাসক্তির সমস্যাও।

পথশিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশ মাদকাসক্ত। এখন প্রশ্ন হলো- একটা জাতির প্রত্যেকটা মানুষ যদি জাতির অংশ হয়, তাহলে এই ১০ লাখ মানুষ যারা শুধু শিশু, তারা কি জাতির অংশ নয়? বাহাদুর শাহ পার্কে প্রতিনিয়তই প্রকাশ্যে পথশিশুরা নেশায় লিপ্ত। আর সেটা চলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। পথশিশুরা একে অন্যকে গালাগালি করে নোংরা ভাষায়। মাঝে মাঝে খাবারের জন্য পথচারীর হাত ধরে টানাটানি করে মাদকাসক্ত থাকায়- এগুলো স্বাভাবিক।

এ দেশটা পথশিশুদেরও। তারাও জাতির অংশ। যতদিন এসব পথশিশুদের উন্নয়ন করা না হবে, ততদিন পর্যন্ত জাতি পেছনেই থেকে যাবে। একটা দেহের প্রত্যেকটা অংশেরই যেমন গুরুত্ব রয়েছে, দেশের প্রত্যেকটা স্তরের মানুষের গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের উচিত জাতির এই মানুষগুলোর জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা- যাতে তারা সমাজের বোঝা না হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হয়। জাতির উন্নয়নে তাদেরও অংশীদার করতে হবে। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে পথশিশুদের উন্নয়নের চেষ্টা করতে হবে। জাতির অংশ হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।

জুনায়েদ মাসুদ