অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তার ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশ। এ বিশাল সফলতার মাধ্যমে কল কারখানা, অফিস আদালত, বাসাবাড়িসহ সব কাজেই বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার বিপরীতে অসাবধানতাবশত ও অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংযোগে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

সরকার দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করেছে; কিন্তু চলাচলের রাস্তার পাশ দিয়ে কিংবা রাস্তার উপরেও বৈদ্যুতিক খুুঁটি দেখা যায়। এসব বিদ্যুতের তার নিরাপদ অবস্থান না থাকায় জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি হয়; কিন্তু সরকার এখনো নিরাপদ বৈদ্যুতিক তার নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে বহুমানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের ফলেই মৃত্যু ঘটায় রিকশাচালকের পরিবার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে- এমন সংবাদ শুনিনি। অথচ এটি আপাতদৃষ্টিতে দুর্ঘটনা মনে হলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শহরের ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে অরক্ষিত অর্থাৎ তারের নিচে লোহার জাল ব্যবহার না করার ফলে প্রবল ঝড়-বাতাসে তার ছিঁড়ে রাস্তায় চলাচল করা ব্যক্তির ক্ষতিসাধন হয়েছে বিধায় এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়।

প্রকৃত দুর্ঘটনায় কারো হাত থাকে না; কিন্তু দুর্ঘটনা যখন দায়িত্ববানদের অবহেলাজনিত কারণে হয়, তখন সেটা হয় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। শুধু রাস্তার উপরে থাকা তারের নিচেই জাল নয়, রাস্তার পাশে অর্থাৎ ফুটপাতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতেও তারের নিচে নিরাপত্তা জাল ব্যবহার জরুরি। কেননা ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য।

দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সরকারের জন্য স্বস্তি ও আনন্দের। আবার অরক্ষিত বিদ্যুৎ তারে মৃত্যুবরণও সরকারের জন্য অস্বস্তিকর ও জনকল্যাণ বিরোধী। তাই সব রাস্তার পাশে কিংবা রাস্তার ওপরে থাকা বিদ্যুৎ খুঁটির তারের নিচে নিরাপত্তা জালের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভাব্য সবাই দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জুবায়ের আহমেদ

বুধবার, ২৪ মে ২০২৩ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৪ জিলক্বদ শাওয়াল ১৪৪৪

অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তার ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশ। এ বিশাল সফলতার মাধ্যমে কল কারখানা, অফিস আদালত, বাসাবাড়িসহ সব কাজেই বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার বিপরীতে অসাবধানতাবশত ও অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংযোগে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।

সরকার দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করেছে; কিন্তু চলাচলের রাস্তার পাশ দিয়ে কিংবা রাস্তার উপরেও বৈদ্যুতিক খুুঁটি দেখা যায়। এসব বিদ্যুতের তার নিরাপদ অবস্থান না থাকায় জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি হয়; কিন্তু সরকার এখনো নিরাপদ বৈদ্যুতিক তার নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে বহুমানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের ফলেই মৃত্যু ঘটায় রিকশাচালকের পরিবার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে- এমন সংবাদ শুনিনি। অথচ এটি আপাতদৃষ্টিতে দুর্ঘটনা মনে হলেও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শহরের ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে অরক্ষিত অর্থাৎ তারের নিচে লোহার জাল ব্যবহার না করার ফলে প্রবল ঝড়-বাতাসে তার ছিঁড়ে রাস্তায় চলাচল করা ব্যক্তির ক্ষতিসাধন হয়েছে বিধায় এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়।

প্রকৃত দুর্ঘটনায় কারো হাত থাকে না; কিন্তু দুর্ঘটনা যখন দায়িত্ববানদের অবহেলাজনিত কারণে হয়, তখন সেটা হয় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। শুধু রাস্তার উপরে থাকা তারের নিচেই জাল নয়, রাস্তার পাশে অর্থাৎ ফুটপাতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিতেও তারের নিচে নিরাপত্তা জাল ব্যবহার জরুরি। কেননা ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য।

দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সরকারের জন্য স্বস্তি ও আনন্দের। আবার অরক্ষিত বিদ্যুৎ তারে মৃত্যুবরণও সরকারের জন্য অস্বস্তিকর ও জনকল্যাণ বিরোধী। তাই সব রাস্তার পাশে কিংবা রাস্তার ওপরে থাকা বিদ্যুৎ খুঁটির তারের নিচে নিরাপত্তা জালের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভাব্য সবাই দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জুবায়ের আহমেদ