চট্টগ্রাম বন্দরে বসছে আরও দুই’টি স্ক্যানার

আরও দুইটি স্ক্যানার চট্টগ্রাম বন্দরে বসছে। রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার স্ক্যান হবে। স্ক্যানার মেশিন দুটি বহনকারী নয়টি কনটেইনার ‘এসআইটিসি হুইমিং’ নামের জাহাজে করে গত ৪ সেপ্টেম্বর চীনের ‘তিয়ানজিন জিঙ্গাং’ বন্দর থেকে রওনা দিয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাংয়ের পথে রয়েছে। মেশিন দুটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর পোর্ট কেলাং থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে কেনা কনটেইনার স্ক্যানার দুটি চীন থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা দুটি কনটেইনার স্ক্যানার আনছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনী তারিখ অনুযায়ী দরপত্র ক্রয়ের শেষ তারিখ ছিল ২০ জুন। জমা দেয়ার শেষদিন ছিল পরদিন ২১ জুন দুপুর ১২টা। এর আধঘণ্টা পর দরপত্র খোলা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী টেন্ডারে এসজিএস, আরকম এন্টারপ্রাইজ, ফাইভ আর এসোসিয়েট ও প্যান এশিয়াটিক নামে মোট চারটি প্রতিষ্ঠান দর জমা দেয়। তাদের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফাইভ আর এসোসিয়েট চীন থেকে ৯০ কোটি টাকার বিনিময়ে কনটেইনার স্ক্যানার দুটি সরবরাহ করছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে সাতটি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে এফএস ৬০০০ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে এফএস ৩০০০ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এ ছাড়া সিসিটি-২ ও জিসিবি-২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীনের কনটেইনার স্ক্যানার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাকটেক কোম্পানি লিমিটেড স্ক্যানার দুটি বাংলাদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফাইভ আর অ্যাসোসিয়েটের বরাবর শিপমেন্ট করেছে। পণ্যটির ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার হিসেবে কাজ করছে ফামফা সল্যুয়শন লিমিটেড। ইতোমধ্যে স্ক্যানার দুটি স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস মোড় সংলগ্ন ৪ নম্বর গেট ও সিপিএআর গেটে প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বোথ ওয়ে স্ক্যানেবল অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি উভয় কনটেইনার স্ক্যান করতে সক্ষম হলেও স্ক্যানার দুটি রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান করতেই ব্যবহার করা হবে। মূলত রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান করে শিপমেন্টের প্রথা চালু হওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক আইএসপিএস কোডের শর্ত পালনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, গত আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দরের পাঁচ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ টিম চীন গিয়ে স্ক্যানার দুটির পিএসআই ইন্সপেকশন করে এসেছেন। মূলত দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী স্ক্যানার দুটি ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য তাদেকে স্ক্যানার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চীন নিয়ে গেছেন। শর্ত অনুযায়ী স্ক্যানার মেশিন প্রস্তুত হওয়ায় সেগুলো শিপমেন্টের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। ইতোমধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর চীন থেকে স্ক্যানারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আমরা আশা রাখি সাগরে আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর স্ক্যানারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

বন্দর সচিব আরও বলেন, ইতোমধ্যে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান করার জন্য দুটি গেটে নতুন দুটি স্ক্যানার স্থাপনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে। স্ক্যানার দুটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ আন্তর্জাতিক শর্ত থাকলেও এতোদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান না হয়েই শিপমেন্ট হতো। তবে এখন থেকে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান হয়ে তারপর জাহাজে উঠবে।

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ৩ আশ্বিন ১৪৩০, ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

চট্টগ্রাম বন্দরে বসছে আরও দুই’টি স্ক্যানার

নিরুপম দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো

আরও দুইটি স্ক্যানার চট্টগ্রাম বন্দরে বসছে। রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার স্ক্যান হবে। স্ক্যানার মেশিন দুটি বহনকারী নয়টি কনটেইনার ‘এসআইটিসি হুইমিং’ নামের জাহাজে করে গত ৪ সেপ্টেম্বর চীনের ‘তিয়ানজিন জিঙ্গাং’ বন্দর থেকে রওনা দিয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাংয়ের পথে রয়েছে। মেশিন দুটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর পোর্ট কেলাং থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে কেনা কনটেইনার স্ক্যানার দুটি চীন থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা দুটি কনটেইনার স্ক্যানার আনছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনী তারিখ অনুযায়ী দরপত্র ক্রয়ের শেষ তারিখ ছিল ২০ জুন। জমা দেয়ার শেষদিন ছিল পরদিন ২১ জুন দুপুর ১২টা। এর আধঘণ্টা পর দরপত্র খোলা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী টেন্ডারে এসজিএস, আরকম এন্টারপ্রাইজ, ফাইভ আর এসোসিয়েট ও প্যান এশিয়াটিক নামে মোট চারটি প্রতিষ্ঠান দর জমা দেয়। তাদের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফাইভ আর এসোসিয়েট চীন থেকে ৯০ কোটি টাকার বিনিময়ে কনটেইনার স্ক্যানার দুটি সরবরাহ করছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে সাতটি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে এফএস ৬০০০ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে এফএস ৩০০০ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এ ছাড়া সিসিটি-২ ও জিসিবি-২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীনের কনটেইনার স্ক্যানার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাকটেক কোম্পানি লিমিটেড স্ক্যানার দুটি বাংলাদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফাইভ আর অ্যাসোসিয়েটের বরাবর শিপমেন্ট করেছে। পণ্যটির ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার হিসেবে কাজ করছে ফামফা সল্যুয়শন লিমিটেড। ইতোমধ্যে স্ক্যানার দুটি স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস মোড় সংলগ্ন ৪ নম্বর গেট ও সিপিএআর গেটে প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বোথ ওয়ে স্ক্যানেবল অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি উভয় কনটেইনার স্ক্যান করতে সক্ষম হলেও স্ক্যানার দুটি রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান করতেই ব্যবহার করা হবে। মূলত রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান করে শিপমেন্টের প্রথা চালু হওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক আইএসপিএস কোডের শর্ত পালনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, গত আগস্টে চট্টগ্রাম বন্দরের পাঁচ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ টিম চীন গিয়ে স্ক্যানার দুটির পিএসআই ইন্সপেকশন করে এসেছেন। মূলত দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী স্ক্যানার দুটি ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য তাদেকে স্ক্যানার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চীন নিয়ে গেছেন। শর্ত অনুযায়ী স্ক্যানার মেশিন প্রস্তুত হওয়ায় সেগুলো শিপমেন্টের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। ইতোমধ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর চীন থেকে স্ক্যানারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আমরা আশা রাখি সাগরে আবহাওয়া ঠিক থাকলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর স্ক্যানারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

বন্দর সচিব আরও বলেন, ইতোমধ্যে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান করার জন্য দুটি গেটে নতুন দুটি স্ক্যানার স্থাপনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে। স্ক্যানার দুটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ আন্তর্জাতিক শর্ত থাকলেও এতোদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান না হয়েই শিপমেন্ট হতো। তবে এখন থেকে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান হয়ে তারপর জাহাজে উঠবে।