চিকিৎসকের পছন্দের সেন্টারের টেস্ট, রিপোর্ট ছাড়া রোগীদের সেবা দেয়া হয় না

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শাকিল আহম্মেদ। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সিএনজি করে জেলা সদরে গাইনি বিশেষজ্ঞর কাছে দেখাবেন। তবে নির্দিষ্ট চিকিৎসকের ঠিকানা জানা নেই, একারণে সিএনজি চালকের পরামর্শ নেন। এই সুযোগে চালক একটি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যান । একজন চিকিৎসক দেখে আলট্রাসোনোগ্রাম, ইসিজিসহ বেশ কয়েকটি টেষ্ট ধরিয়ে দেন। এতে ২৪শ টাকা বিল আসে। টেষ্টের পর চিকিৎসক পছন্দ হয় না শাকিল আহম্মেদ এর। এ কারণে শহরের এসকেএস হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট দেখাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। বিকালে সিরিয়াল নিয়ে ওই রিপোর্টগুলো দেখানো হয়, কিন্তু তিনি ওই রিপোর্টগুলো গ্রহণ করেননি। একারণে তাকে আবারও প্রায় দু হাজার টাকার রিপোর্ট করাতে হয়। তথ্য জানা নেই তার ডায়াগনিষ্ট কিংবা হাসপাতালে রোগী আসলেও নানা ধরনের টেষ্ট লিখে প্রেসক্রিপশন লিখে দেয়া হয়। এসব টেষ্ট চিকিৎসকের পছন্দমতো ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজিতে করতে হয়। তবে এর ব্যতিক্রম হলেও চিকিৎসকেরা রিপোর্ট গ্রহণ করেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দাবি রোগীরা রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে টেষ্ট করায় রিপোর্টগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন উন্নত যন্ত্রপাতি, মেশিন ও চিকিৎসকের কারণে অসৎ ব্যবসার লক্ষ্যে সঠিক রিপোর্ট না দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা সদরসহ ৭ উপজেলায় ৩৫ ক্লিনিক ও প্রায় দু’শতাধিক ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে, জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুয়ায়ী রেজিষ্ট্রেনকৃত ডায়াগনষ্টিক ও হাসপাতালের সংখ্যা ২০ এর মধ্যে। অথচ বিভিন্নভাবে প্যাথলজি সেন্টার গড়ে তুলে যত্রতত্রভাবে চিকিৎসার নামে ভুলভাল রিপোর্ট ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে এসব সেন্টার থেকে। এতে করে জেলার চরাঞ্চলসহ সাধারণ রোগীদের অর্থ অপচয়, হয়রানি, ভোগান্তি বাড়ছে। গাইবান্ধা পালস ক্লিনিক এন্ড নার্সিং সেন্টারের ম্যাানেজার আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতিষ্ঠিত রেজিষ্ট্রেশনকৃত বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে গুণগত মান বজায় রেখে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে দাবি করা হলেও রেজিষ্ট্রিশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান । জিইউকে হাসপাতালে ম্যানেজার যুবায়ের আহম্মেদ জানান, হাসপাতাল হলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে রোগীদের সাথে প্রতারণা করা সুযোগ নেই। কিছু কিছু ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ব্যবসায়িক উদ্দেশে রোগীদের সাথে এধরনের প্রতারনা অন্যায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, ডা. মাহবুব হোসেন, সরকারি হাসপাতালে সব ধরণের রিপোর্ট নিখুঁতভাবে করা হয়। তবে, রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলিজিতে রিপোর্ট এর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় চিকিৎসকেরা এগুলো গ্রহণ করে না এবং তার পছন্দমতো সেন্টারে রিপোর্ট করতে বলেন। এজন্য তিনি রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

আরও খবর
দশমিনায় সড়কের দুই পাশে মরা গাছ, আতঙ্কে পথচারীরা
অবরোধকারীদের আগুনে পুড়ল ট্রাক, অটোরিকশা
রাজশাহীতে অস্ত্রড্যান্স, আরও ৪ যুবক গ্রেপ্তার
ফরিদপুরের চরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতিতে কমছে শিক্ষার্থী
দিরাইয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষ, আহত ৫৪
কেরানীগঞ্জে কৃতী শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত
সিরাজগঞ্জে ট্রাকে আগুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে রোধে মতবিনিময়
মুন্সীগঞ্জে আগুনে পুড়ে ঘুমন্ত যুবকের মৃত্যু
শিবগঞ্জে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার
নৌকায় সিল মারার ঘটনায় ইসির তদন্ত শুরু
কাঠালিয়ার রেকর্ডীয় খাল দখল করে বাগান, শতাধিক পরিবারে পানিসংকট
পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা নিম্নগামী
দেওয়ানগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০২৩ , ২৪ কার্তিক ১৪৩০, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৫

রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

চিকিৎসকের পছন্দের সেন্টারের টেস্ট, রিপোর্ট ছাড়া রোগীদের সেবা দেয়া হয় না

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শাকিল আহম্মেদ। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সিএনজি করে জেলা সদরে গাইনি বিশেষজ্ঞর কাছে দেখাবেন। তবে নির্দিষ্ট চিকিৎসকের ঠিকানা জানা নেই, একারণে সিএনজি চালকের পরামর্শ নেন। এই সুযোগে চালক একটি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যান । একজন চিকিৎসক দেখে আলট্রাসোনোগ্রাম, ইসিজিসহ বেশ কয়েকটি টেষ্ট ধরিয়ে দেন। এতে ২৪শ টাকা বিল আসে। টেষ্টের পর চিকিৎসক পছন্দ হয় না শাকিল আহম্মেদ এর। এ কারণে শহরের এসকেএস হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট দেখাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। বিকালে সিরিয়াল নিয়ে ওই রিপোর্টগুলো দেখানো হয়, কিন্তু তিনি ওই রিপোর্টগুলো গ্রহণ করেননি। একারণে তাকে আবারও প্রায় দু হাজার টাকার রিপোর্ট করাতে হয়। তথ্য জানা নেই তার ডায়াগনিষ্ট কিংবা হাসপাতালে রোগী আসলেও নানা ধরনের টেষ্ট লিখে প্রেসক্রিপশন লিখে দেয়া হয়। এসব টেষ্ট চিকিৎসকের পছন্দমতো ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজিতে করতে হয়। তবে এর ব্যতিক্রম হলেও চিকিৎসকেরা রিপোর্ট গ্রহণ করেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর দাবি রোগীরা রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে টেষ্ট করায় রিপোর্টগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন উন্নত যন্ত্রপাতি, মেশিন ও চিকিৎসকের কারণে অসৎ ব্যবসার লক্ষ্যে সঠিক রিপোর্ট না দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা সদরসহ ৭ উপজেলায় ৩৫ ক্লিনিক ও প্রায় দু’শতাধিক ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে, জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুয়ায়ী রেজিষ্ট্রেনকৃত ডায়াগনষ্টিক ও হাসপাতালের সংখ্যা ২০ এর মধ্যে। অথচ বিভিন্নভাবে প্যাথলজি সেন্টার গড়ে তুলে যত্রতত্রভাবে চিকিৎসার নামে ভুলভাল রিপোর্ট ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে এসব সেন্টার থেকে। এতে করে জেলার চরাঞ্চলসহ সাধারণ রোগীদের অর্থ অপচয়, হয়রানি, ভোগান্তি বাড়ছে। গাইবান্ধা পালস ক্লিনিক এন্ড নার্সিং সেন্টারের ম্যাানেজার আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতিষ্ঠিত রেজিষ্ট্রেশনকৃত বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে গুণগত মান বজায় রেখে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে দাবি করা হলেও রেজিষ্ট্রিশনবিহীন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান । জিইউকে হাসপাতালে ম্যানেজার যুবায়ের আহম্মেদ জানান, হাসপাতাল হলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে রোগীদের সাথে প্রতারণা করা সুযোগ নেই। কিছু কিছু ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ব্যবসায়িক উদ্দেশে রোগীদের সাথে এধরনের প্রতারনা অন্যায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, ডা. মাহবুব হোসেন, সরকারি হাসপাতালে সব ধরণের রিপোর্ট নিখুঁতভাবে করা হয়। তবে, রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক ও প্যাথলিজিতে রিপোর্ট এর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় চিকিৎসকেরা এগুলো গ্রহণ করে না এবং তার পছন্দমতো সেন্টারে রিপোর্ট করতে বলেন। এজন্য তিনি রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।