দিন দিন বাড়ছে বর্জ্যব্যবস্থাপনার ব্যয়

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে জনসংখ্যা। বিদ্যমান ৩২৮টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশনে এখন মোট ৪ কোটি ৫ লাখ জনগণের বসবাস। শহরগুলোর জন্য মানুষের দৈনন্দিন বর্জ্যব্যবস্থাপনা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই এখন বর্জ্যব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। ২০২১ সালে ৩৪০টি শহরের বর্জ্যব্যবস্থাপনায় প্রতি নাগরিকের পেছনে শহরগুলোকে ব্যয় করতে হয়েছে গড়ে ৫৫৮ টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজম্যান্ট জরিপ ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএস জরিপে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ শহরগুলোতে ৩ কোটি ৭৯ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শহরগুলোতে ২০২০-২১ অর্থবছরে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখে।

জরিপে বলা হয়েছে, ৩৪০ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে মোট জনবল রয়েছে ২০ হাজার ১০৫ জন, এর মধ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ৩৮ শতাংশ। সরকারি ব্যয়ের শতাংশ হিসাবে পৌর ব্যয় বেড়েছে শহরগুলোতে। এতে দেখা যায়, ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি (১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৩২৮টি পৌরসভা) মোট সরকারি ব্যয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ ব্যয় করেছে। জরিপে বলা হয়েছে, ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি তিন বছরে শুধু বর্জ্যরে পেছনে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। এটি বছরের পর বছর বর্জ্যব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়।

১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৩২৮টি পৌরসভায় ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে যথাক্রমে ৮০ লাখ ৩ হাজার ৬২৭ মেট্রিকটন, ৭১ লাখ ৯৯ হাজার ২২৪ মেট্রিকটন এবং ৭৪ হাজার ১৩৮৩৯ মেট্রিকটন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে মাথাপিছু দৈনিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫৮ কিলোগ্রাম। ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ উভয় অর্থবছরে, দৈনিক মাথাপিছু বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ কিলোগ্রাম।

দৈনিক প্রতি বর্গকিলোমিটারে পৌর কঠিন বর্জ্যরে উৎপাদন ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি একত্রে বিবেচনায় নিলে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ সালে প্রতিদিন প্রতি বর্গকিলোমিটারে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্যরে পরিমাণ যথাক্রমে ৩ দশমিক ২১ মেট্রিকটন, ২ দশমিক ৮৯ মেট্রিকটন ও ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন।

সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলো একত্রে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদিত মোট কঠিন বর্জ্যরে মধ্যে গড়ে যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৩০ শতাংশ, ৭৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও ৭৯ দশমিক ২২ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। জরিপে বলা হয়েছে, সামগ্রিক বৃহত্তর সুযোগ সুবিধা এবং সক্ষমতার কারণে সিটি করপোরেশনগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের দক্ষতা সর্বাধিক ছিল।

উৎসভিত্তিক সংগৃহীত কঠিন বর্জ্যরে পরিমাণ হিসেবে শুধু পরিবারগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বর্জ্য আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিবার থেকে বর্জ্য এসেছে মোট বর্জ্যরে ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছে ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহরগুলোতে শিল্পের বর্জ্যরে পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট কঠিন বর্জ্যরে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ এসেছিল শিল্প থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ছিল ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিল্প বর্জ্য।

সমীক্ষাটি পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুপারিশ চিহ্নিত করে বলেছে, জনসচেতনতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ যে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো ছাড়া বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্ব জনগণের বোঝার সম্ভাবনা কম। এ উপলব্ধি ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩ , ২৫ কার্তিক ১৪৩০, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৫

দিন দিন বাড়ছে বর্জ্যব্যবস্থাপনার ব্যয়

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে জনসংখ্যা। বিদ্যমান ৩২৮টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশনে এখন মোট ৪ কোটি ৫ লাখ জনগণের বসবাস। শহরগুলোর জন্য মানুষের দৈনন্দিন বর্জ্যব্যবস্থাপনা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই এখন বর্জ্যব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। ২০২১ সালে ৩৪০টি শহরের বর্জ্যব্যবস্থাপনায় প্রতি নাগরিকের পেছনে শহরগুলোকে ব্যয় করতে হয়েছে গড়ে ৫৫৮ টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজম্যান্ট জরিপ ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএস জরিপে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ শহরগুলোতে ৩ কোটি ৭৯ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শহরগুলোতে ২০২০-২১ অর্থবছরে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখে।

জরিপে বলা হয়েছে, ৩৪০ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে মোট জনবল রয়েছে ২০ হাজার ১০৫ জন, এর মধ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ৩৮ শতাংশ। সরকারি ব্যয়ের শতাংশ হিসাবে পৌর ব্যয় বেড়েছে শহরগুলোতে। এতে দেখা যায়, ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি (১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৩২৮টি পৌরসভা) মোট সরকারি ব্যয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ ব্যয় করেছে। জরিপে বলা হয়েছে, ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি তিন বছরে শুধু বর্জ্যরে পেছনে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। এটি বছরের পর বছর বর্জ্যব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়।

১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৩২৮টি পৌরসভায় ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে যথাক্রমে ৮০ লাখ ৩ হাজার ৬২৭ মেট্রিকটন, ৭১ লাখ ৯৯ হাজার ২২৪ মেট্রিকটন এবং ৭৪ হাজার ১৩৮৩৯ মেট্রিকটন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে মাথাপিছু দৈনিক বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫৮ কিলোগ্রাম। ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ উভয় অর্থবছরে, দৈনিক মাথাপিছু বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ কিলোগ্রাম।

দৈনিক প্রতি বর্গকিলোমিটারে পৌর কঠিন বর্জ্যরে উৎপাদন ৩৪০টি মিউনিসিপ্যালিটি একত্রে বিবেচনায় নিলে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ সালে প্রতিদিন প্রতি বর্গকিলোমিটারে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্যরে পরিমাণ যথাক্রমে ৩ দশমিক ২১ মেট্রিকটন, ২ দশমিক ৮৯ মেট্রিকটন ও ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন।

সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলো একত্রে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদিত মোট কঠিন বর্জ্যরে মধ্যে গড়ে যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৩০ শতাংশ, ৭৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও ৭৯ দশমিক ২২ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ করেছে। জরিপে বলা হয়েছে, সামগ্রিক বৃহত্তর সুযোগ সুবিধা এবং সক্ষমতার কারণে সিটি করপোরেশনগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের দক্ষতা সর্বাধিক ছিল।

উৎসভিত্তিক সংগৃহীত কঠিন বর্জ্যরে পরিমাণ হিসেবে শুধু পরিবারগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বর্জ্য আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিবার থেকে বর্জ্য এসেছে মোট বর্জ্যরে ৬৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছে ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহরগুলোতে শিল্পের বর্জ্যরে পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট কঠিন বর্জ্যরে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ এসেছিল শিল্প থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ছিল ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিল্প বর্জ্য।

সমীক্ষাটি পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুপারিশ চিহ্নিত করে বলেছে, জনসচেতনতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ যে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো ছাড়া বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্ব জনগণের বোঝার সম্ভাবনা কম। এ উপলব্ধি ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।