শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এসব নীতিকথা সবার জানা থাকলেও দিনদিন বেড়েই চলেছে শিশুশ্রম। দারিদ্র্যের কারণ দেখিয়ে নীরবভাবে বাড়ছে এ সংখ্যা। দরিদ্রতার কারণেই বেশিরভাগ শিশুকে কাজ করতে হয় বিভিন্ন স্থানে।

দেশের অনেক শিশু চায়ের দোকানে, রেস্টুরেন্টে, বাসের দরজায়, কলকারখানাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। টাকা আয় করতে গিয়ে অনেকেই পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ যুগে যুগে যত গুণীজন শিক্ষিত হয়ে অমর হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায় তাদের বেশিরভাগই ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাহলে কেন আজ এত শিশুশ্রম বাড়ছে?

শিশুশ্রম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সচেতনতার অভাব ও প্রশাসনিক যথোপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণের অভাব। গ্রামে-গঞ্জে যদি কোনো শিশুর বাবা মারা যায় তখন সবাই ভেবেই নেয় যে তার আর পড়াশুনা হবে না। অথচ সেই বাবা মরা ছেলেটির মাঝেও আছে উপযুক্ত শিক্ষিত হওয়ার সুপ্ত প্রতিভা। কিন্তু শিশুশ্রম সেই প্রতিভাকে নীরবে ধ্বংস করছে। আবার যদি কারো মা মারা যায়, তখন তার বাবা আবার নতুন বিয়ে করে। আর তখন সেই ছেলেটি সৎমায়ের অত্যাচারে শিশুশ্রমকে বরণ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এসব বাধ্য করা শিশুশ্রমকে প্রতিহত করার কোন ব্যবস্থা নেয়ার সংবাদ খুব কমই শোনা যায়। এভাবে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকালে পুরো জাতি একসময় অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। কারণ আজকে যারা শিশু, যারা নবীন, তাদের ওপরই আগামীর দেশ ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

তাই অনতিবিলম্বে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হয়ে শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে শিশুদের দুরন্ত শৈশব এবং নিশ্চিত করতে হবে উপযুক্ত শিক্ষা।

আব্দুল ওহাব

মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩ , ২৮ কার্তিক ১৪৩০, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৫

শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এসব নীতিকথা সবার জানা থাকলেও দিনদিন বেড়েই চলেছে শিশুশ্রম। দারিদ্র্যের কারণ দেখিয়ে নীরবভাবে বাড়ছে এ সংখ্যা। দরিদ্রতার কারণেই বেশিরভাগ শিশুকে কাজ করতে হয় বিভিন্ন স্থানে।

দেশের অনেক শিশু চায়ের দোকানে, রেস্টুরেন্টে, বাসের দরজায়, কলকারখানাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। টাকা আয় করতে গিয়ে অনেকেই পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ যুগে যুগে যত গুণীজন শিক্ষিত হয়ে অমর হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায় তাদের বেশিরভাগই ছিল দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাহলে কেন আজ এত শিশুশ্রম বাড়ছে?

শিশুশ্রম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সচেতনতার অভাব ও প্রশাসনিক যথোপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণের অভাব। গ্রামে-গঞ্জে যদি কোনো শিশুর বাবা মারা যায় তখন সবাই ভেবেই নেয় যে তার আর পড়াশুনা হবে না। অথচ সেই বাবা মরা ছেলেটির মাঝেও আছে উপযুক্ত শিক্ষিত হওয়ার সুপ্ত প্রতিভা। কিন্তু শিশুশ্রম সেই প্রতিভাকে নীরবে ধ্বংস করছে। আবার যদি কারো মা মারা যায়, তখন তার বাবা আবার নতুন বিয়ে করে। আর তখন সেই ছেলেটি সৎমায়ের অত্যাচারে শিশুশ্রমকে বরণ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আর এসব বাধ্য করা শিশুশ্রমকে প্রতিহত করার কোন ব্যবস্থা নেয়ার সংবাদ খুব কমই শোনা যায়। এভাবে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকালে পুরো জাতি একসময় অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। কারণ আজকে যারা শিশু, যারা নবীন, তাদের ওপরই আগামীর দেশ ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

তাই অনতিবিলম্বে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হয়ে শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে শিশুদের দুরন্ত শৈশব এবং নিশ্চিত করতে হবে উপযুক্ত শিক্ষা।

আব্দুল ওহাব