বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আজ থেকে

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর আহ্বানে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। একতরফাভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে টানা ৪৮ ঘণ্টার এ হরতাল ডেকেছে বিএনপি। একই সময়ে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণঅধিকার পরিষদ ও গণতন্ত্র মঞ্চ তফসিল প্রত্যাখ্যান করে হরতালের ডাক দিয়েছে। হরতাল শুরু হবে আজ সকাল ৬টায় শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার সকাল ৬টায়।

গত বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত স্থান থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তফসিল বাতিলের দাবিতে একই সময়ে বিএনপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে সমমনা দলগুলোও ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে। এর আগে বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা, হত্যা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে ২৯ অক্টোবর হরতাল ডেকেছিল দলটি।

হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একদফা এবং নির্বাচন কমিশন যে একতরফা তফসিল ঘোষণা করেছে, তার প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’ এ সময় দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিভিন্ন দলের আন্দোলনের মধ্যে গত বুধবার জাতীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরপরই বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণঅধিকার পরিষদ ও গণতন্ত্র মঞ্চ তফসিল প্রত্যাখ্যান করে গত রোববার থেকে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকে দফায় দফায় হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এরমধ্যে ২৯ অক্টোবর হরতাল এরপর ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথমদফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এরপর ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা, ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফা, ১১ ও ১২ নভেম্বর চতুর্থ দফা এবং ১৫ ও ১৬ নভেম্বর পঞ্চম দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। বিএনপির সমাবেশ প- করা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর প্রথমদফা এবং তফসিল প্রত্যাখ্যান করে আজ থেকে দ্বিতীয় দফা হরতাল পালন করতে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।

পুলিশের পৌষ মাস, জাতির

সর্বনাশ : রিজভী

‘পুলিশের এখন পৌষ মাস, আর জাতির সর্বনাশ’ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার বাণিজ্যের তা-বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া গ্রাম-গঞ্জে, মফস্বল জনপদে কেউ বাড়িঘরে থাকতে পারছে না। পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন থাকায় অসংখ্য পরিবারকে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে কেউ ব্যবসা- বাণিজ্য, কাজকর্ম করতে পারছে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করে কারও কাছ থেকে ১ লাখ, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে মিথ্যা মামলায় জেলখানায় নিক্ষেপ করছে।’

গতকাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘চোর-ডাকাত দিয়ে ভিন্ন কোনও উপায়ে ভোট করতে মরিয়া আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কেমন হবে তা দেশবাসী জানে। বাঘ তার ডোরা কাটা দাগ ফেলে আসতে পারে না।’

এসব করে পার পাওয়া যাবে না জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ রাজপথে নেমেছে অধিকার আদায়ের দুর্বার আন্দোলনে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে সরকারের পতন হবে। আপনারা যে তফসিল ঘোষণা করেছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। নির্বাচন স্থগিত করে আগে পদত্যাগ করুন। না হলে এই ফরমায়েশি তফসিলে বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচন হবে না। জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।’

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে সাতটি। আসামি করা হয়েছে ৯৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত)। মোট আহত ১২ জন।’

এছাড়া ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ২১০ জনের বেশি নেতাকর্মী। মামলা হয়েছে ২৯৬টির বেশি। ৪ হাজার ১৩৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একজন সাংবাদিকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান রিজভী।

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩ , ৪ অগ্রায়ন ১৪৩০, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আজ থেকে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর আহ্বানে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। একতরফাভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে টানা ৪৮ ঘণ্টার এ হরতাল ডেকেছে বিএনপি। একই সময়ে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতে ইসলামী, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণঅধিকার পরিষদ ও গণতন্ত্র মঞ্চ তফসিল প্রত্যাখ্যান করে হরতালের ডাক দিয়েছে। হরতাল শুরু হবে আজ সকাল ৬টায় শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার সকাল ৬টায়।

গত বৃহস্পতিবার অজ্ঞাত স্থান থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তফসিল বাতিলের দাবিতে একই সময়ে বিএনপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে সমমনা দলগুলোও ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে। এর আগে বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা, হত্যা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে ২৯ অক্টোবর হরতাল ডেকেছিল দলটি।

হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একদফা এবং নির্বাচন কমিশন যে একতরফা তফসিল ঘোষণা করেছে, তার প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’ এ সময় দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিভিন্ন দলের আন্দোলনের মধ্যে গত বুধবার জাতীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরপরই বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণঅধিকার পরিষদ ও গণতন্ত্র মঞ্চ তফসিল প্রত্যাখ্যান করে গত রোববার থেকে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর থেকে দফায় দফায় হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এরমধ্যে ২৯ অক্টোবর হরতাল এরপর ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথমদফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এরপর ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা, ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফা, ১১ ও ১২ নভেম্বর চতুর্থ দফা এবং ১৫ ও ১৬ নভেম্বর পঞ্চম দফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। বিএনপির সমাবেশ প- করা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর প্রথমদফা এবং তফসিল প্রত্যাখ্যান করে আজ থেকে দ্বিতীয় দফা হরতাল পালন করতে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।

পুলিশের পৌষ মাস, জাতির

সর্বনাশ : রিজভী

‘পুলিশের এখন পৌষ মাস, আর জাতির সর্বনাশ’ মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার বাণিজ্যের তা-বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া গ্রাম-গঞ্জে, মফস্বল জনপদে কেউ বাড়িঘরে থাকতে পারছে না। পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন থাকায় অসংখ্য পরিবারকে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে কেউ ব্যবসা- বাণিজ্য, কাজকর্ম করতে পারছে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটক করে কারও কাছ থেকে ১ লাখ, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে মিথ্যা মামলায় জেলখানায় নিক্ষেপ করছে।’

গতকাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘চোর-ডাকাত দিয়ে ভিন্ন কোনও উপায়ে ভোট করতে মরিয়া আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কেমন হবে তা দেশবাসী জানে। বাঘ তার ডোরা কাটা দাগ ফেলে আসতে পারে না।’

এসব করে পার পাওয়া যাবে না জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘জনগণ রাজপথে নেমেছে অধিকার আদায়ের দুর্বার আন্দোলনে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিলে সরকারের পতন হবে। আপনারা যে তফসিল ঘোষণা করেছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। নির্বাচন স্থগিত করে আগে পদত্যাগ করুন। না হলে এই ফরমায়েশি তফসিলে বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচন হবে না। জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।’

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে সাতটি। আসামি করা হয়েছে ৯৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত)। মোট আহত ১২ জন।’

এছাড়া ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এর চার-পাঁচ দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ২১০ জনের বেশি নেতাকর্মী। মামলা হয়েছে ২৯৬টির বেশি। ৪ হাজার ১৩৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একজন সাংবাদিকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান রিজভী।