গণমাধ্যম, নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভয়েসে গত ৩০ ডিসেম্বর সাংবাদিক, নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের অনলাইন সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দাবী জানান।

মুশাররাত মাহেরা সংবাদ সম্মেলনে ভয়েসের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইনে কি ধরনের তথ্য আদান প্রদান করা উচিৎ তার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা নেই। ডিজিটাল যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত এপ্লিকেশনে তথ্য সুরক্ষা এবং অন্যান্য নিরাপত্তামূলক বিষয়াদি সম্পর্কেও তারা খুব একটা অবগত নন। যার ফলে তারা হ্যাকার কর্তৃক বিভিন্ন স্প্যাম ও ম্যালোয়্যারের আক্রমনের শিকার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য হারিয়ে ফেলেন। ব্যবসায়িক বা চিকিৎসাক্ষেত্রে সেবা নিতে গেলে প্রতিনিয়তই আমাদের নিজস্ব বা পারিবারিক তথ্য প্রদান করতে হয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ভোক্তাদের তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রয় করে দিচ্ছে। এ সময় জানানো হয়, সাম্প্রতিককালে, জাতীয় পরিচয় পত্র পোর্টাল থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজ এপ্লিকেশনে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ইদানিংকালে আরও দেখা যায়, আমলা, তারকা, খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী, মানবাধিকারকর্মী কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিভিন্ন ফোনালাপ, অন্তরঙ্গ ছবি ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতে ফাঁস হচ্ছে। বিশেষ করে, নির্বাচন প্রাক্কালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিব্রতকর অডিও বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২ সম্পর্কে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, উপাত্ত সুরক্ষা আইনের আওতায় ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে সুরক্ষিত হবে, সেটি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরতে হবে এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় গোপন নজরদারির সাথে সম্পর্কিত সংস্থাগুলোকে অবশ্যই বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে যোগাযোগ নজরদারির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বায়ত্বশাসিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা/পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ যেটি হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৪ , ১৯ পৌষ ১৪৩০, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৫

গণমাধ্যম, নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি

image

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভয়েসে গত ৩০ ডিসেম্বর সাংবাদিক, নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের অনলাইন সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দাবী জানান।

মুশাররাত মাহেরা সংবাদ সম্মেলনে ভয়েসের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনলাইনে কি ধরনের তথ্য আদান প্রদান করা উচিৎ তার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা নেই। ডিজিটাল যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত এপ্লিকেশনে তথ্য সুরক্ষা এবং অন্যান্য নিরাপত্তামূলক বিষয়াদি সম্পর্কেও তারা খুব একটা অবগত নন। যার ফলে তারা হ্যাকার কর্তৃক বিভিন্ন স্প্যাম ও ম্যালোয়্যারের আক্রমনের শিকার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য হারিয়ে ফেলেন। ব্যবসায়িক বা চিকিৎসাক্ষেত্রে সেবা নিতে গেলে প্রতিনিয়তই আমাদের নিজস্ব বা পারিবারিক তথ্য প্রদান করতে হয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ভোক্তাদের তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রয় করে দিচ্ছে। এ সময় জানানো হয়, সাম্প্রতিককালে, জাতীয় পরিচয় পত্র পোর্টাল থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য টেলিগ্রাম নামক একটি মেসেজ এপ্লিকেশনে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ইদানিংকালে আরও দেখা যায়, আমলা, তারকা, খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী, মানবাধিকারকর্মী কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিভিন্ন ফোনালাপ, অন্তরঙ্গ ছবি ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতে ফাঁস হচ্ছে। বিশেষ করে, নির্বাচন প্রাক্কালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিব্রতকর অডিও বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২ সম্পর্কে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, উপাত্ত সুরক্ষা আইনের আওতায় ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে সুরক্ষিত হবে, সেটি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরতে হবে এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় গোপন নজরদারির সাথে সম্পর্কিত সংস্থাগুলোকে অবশ্যই বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগে যোগাযোগ নজরদারির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি স্বায়ত্বশাসিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা/পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ যেটি হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।