সাময়িকী কবিতা

মানুষের মাথা

খালেদ হামিদী

প্রতিভার দাম ক’জনইবা আর দেয়!

মাথার মূল্য কোথাও কেউ বা হাঁকে,

শিরেদের ঘোষণা তখন নেয়

ক্রোধোন্মত্ত লোক, লালসার বাঁকে।

ভুলি না মশাররফের উপন্যাস,

সীমার পাতকী অর্থের পিছে ধেয়ে

ঘটায় কেমন তুমুল সর্বনাশ

সব ইতিহাসে থাকি অপলক চেয়ে।

আরও আতঙ্ক গেলো শতকেও ছিলো

মেসোআমেরিকা, ওশেনিয়া, আফ্রিকা

জুড়ে নৃগোষ্ঠী শত্রুর শির নিলো;

অস্ট্রোনেশীয় আঁকেনি গুয়ের্নিকা।

হেডহান্টার ভিয়েতনামেও গেছে;

একই মার্কিন জাপানি মু-ু-ট্রফি

এনে হত্যার প্রমাণরূপ রেখেছে

দেখেই মনিব বাড়ায় কাপের কফি!

তাছাড়া খুলিতে জীবনীশক্তি থাকে

বিশ্বাসে পরকালেও পদাবনত

রাখার অমন নৃশংসতার ফাঁকে

মানবজন্ম তাৎপর্যের কত?

বালকবেলায় দেয়ালে হরিণমাথা

দেখেও ভাবিনি ওভাবে টাঙানো যায়

মানুষেরই হাতে মানবীকরোটি গাথা!

রাখেনি পূর্বপ্রজাতিও তারা, হায়!

গ্যালিলিও মরে বন্দি, নিজের ঘরে!

তাহলে কীসের মেধা, কে বা আর গুণী!

কেন, বিজ্ঞানী!জবাব এলেও পরে

কবি কহে: কারা এখনও বহাল খুনি!

শুধু একটি নাম

সোহেল মাজহার

উর্মি, মিতুল কিংবা শাওন

লিখিনা কোন নাম

জেসমিন, সিমি কিংবা লিমন

নাম নয় শুধু সর্বনাম।

লিখি মূলত দুপুর কলেজ করিডোর

রাতফুলের কোরকে সঙ্গীতময় ভোর

আঁকি আনন্দ, বিষণœতা পাখির ডানা

ফাগুনের ছায়া, চোখে আগুনের মন্ত্রণা...

দ্বগ্ধ নয়, অভিশপ্ত নয়, শাস্ত্রে হই ধ্যানমগ্ন

প্রার্থনা তুমি প্রার্থনাময়, শেষ হয় না লগ্ন।

বাউলের বেশে থাকি, দেহ তন্ত্রীতে বাজে সুর প্রণাম

গূঢ় ও উহ্য ভাষায় শুধু লিখি তাঁকে, শুধু তার নাম।

একাকী হাওয়া শুধুই ঘুরপাক খায়...

বিষণ্ণতার কোলাজ

নাসরীন জাহান

তুমি চলে যাও,বন্ধ ঘড়ির মতো আমি হয়ে থাকি।

চলে যাও তুমি বিষণ্ণ চোখ দেখে,যাও পরবাসে

মুহূর্ত ঝাঁক ঝাঁক বেঁধে চলে, চলে শুধু আঁকাআঁকি,

চাঁদে ডোবা রাত,সাপলুডু খেলা, চোখে শুধু ঝড়-ভাসে।

বিষাদের আলপিনে বেদনার কারুকাজ মেঘলোকে,

রাজহাঁস উড়ে যায়, ডাব পড়ে আছে, ডাব, গাবছায়া,

কুকুরেরা টানা কেঁদে যায় ফিসফিস ধবনি-শোকে,

চলে গেলে তুমি, বিষণ্ণ রাত, শিশিরেরা আবছায়া!

ঘুরে দাঁড়ালাম,গান গায় গাছ,উট নাচে রাত্তিরে,

কচ্ছপ শোন, আয়ু দাও গুরু,ডুবে যাবে পুণ্যতায়,

উড়ে যেতে দেখি তোমার ইমেল, জলহীন চোখ-নীড়ে

উদাসীন বালু ফরফর ওড়ে আমি উড়ি শূন্যতায়।

একাকীত্ব

বিনয় বর্মন

রেস্তোরাঁর নিভৃত কোণে একাকী এক টুকরো হাওয়া

ঘুরপাক খায়

ঘুরে ঘুরে আবার শান্ত হয়

কেউ কি তাকে দিয়েছে অভয়?

চারপায়ে দাঁড়ানো টেবিল চেঁচিয়ে ওঠে

আমাকে মুক্তি দাও স্থবিরতা থেকে

জন্মেই আঁটকে গেছি চতুরঙ্গধ্যানে

পিঠজুড়ে সমতল গান, পান আর স্নান

প্লেটগ্লাস আসে, হাসে, ঝলমলে

আহ্লাদ অবিরাম উদরপূর্তিতে

কাঁটাচামচে বিদ্ধ হৃদয়বাসনা

আর টুংটাং টুংটাং চোখের গিটার

অবিরাম আসা-যাওয়া

একজন মৌয়াল

মোহাম্মদ হোসাইন

বাঘ খেয়ে নিল মৌয়ালির শরীর

মধু পড়ে রয়েছে

গাছ, পাতা, ভেজা মাটি জুড়ে!

সুন্দরবনের মৌয়াল

প্রায়শই যায়, মধু আনে, সেই মধু বিক্রি করে খায়

নিজে খায়না কো মধু কোনও দিন!

তার স্ত্রী, সন্তানেরা ভাত চায় শুধু ভাত

আর সামান্য বেঁচে থাকার যোগাড়

আজ সেই মৌয়াল চলে গেছে দূর দেশে অন্য কোনো

মধু আহরণে!

অথচ, বনের বাঘ বোঝেনি মৌয়ালের স্ত্রী আছে

পুত্র কন্যারা আছে এতটুকু সংসার আছে!

আজ সবই ভেসে গেল বাঘের থাবায়...

বাঘেরা বোঝেনা

মানুষ কি বোঝে?

দুঃখটা হেঁটে যায়

রাহমান ওয়াহিদ

আমার অবাধ্য দুঃখটা জনারণ্যে

নগ্ন হয়ে হাঁটে, স্পর্ধায় হেঁটে যায়।

ব্রান্ডের নামি-দামি পোশাকেও তাকে

ঢাকতে পারিনি,পারি না।

প্রাণিজ মানুষেরা তাকে আলগা থুথু দেয়

টোকাইরা খুঁড়ে খুঁড়ে তার রক্ত কুড়ায়।

চিৎকার করে বলি,‘দুঃখ তুমি নগ্নতা ঢাকো

দুঃখ তুমি সভ্যতার ঝলমলে জামাটা পর’।

তবু সে বেপরোয়া যেতে যেতেই বলে,

‘কেন ডাকো? নগ্নতাই প্রিয়ম পোশাক

নগ্ন বলেই তো প্রিয়তি সাজুগুজু করে,

অন্ধকার সরিয়ে রেখে কী দারুণ চুমু দেয়!’

হাতজোড় করে বলি,‘দুঃখ কথা শোন,

তোমার বেঢপ নগ্নতা আমাকেও উলঙ্গ করে

দাঁড়াতে পারি না নির্জনতার অন্ধ চোখেও।’

দুঃখ তবু হেঁটে যায়,কোটি চোখ আটকে থাকে

তার জননেন্দ্রিয়র পে-ুলাম নান্দনিকতায়।

তাকে আর থামাতে পারিনি, পারি না।

লালন সাঁই

মতিন রায়হান

কী সাধনে পাই তোমাকে সহজ করে হৃদয়মাঝে?

যে জন রাখে মনের খবর মনমহাজন ডাকি তারে!

অষ্টপ্রহর কে ডাকে আজ, খুঁজি তারে কোন গোপনে?

হৃদয়মাঝি আজ উদাসীন, একতারাটা বাজলো বলে!

খাঁচার ভিতর অচিন পাখির ছটফটানি, গুমরে কাঁদে

হৃদয়বাউল, কোন সে কথার ফাঁদে! মহাজনের তালাশে

তাই চলে সাধন-ভজন; মনপাখিটা উড়লো যদি

কে রাখে সে খোঁজ? গহিন বনের অকুস্থলে কোন

ভয়ানক জন্তু এসে শানায় নখর খুর! ভাবি বসে

নিরজনে তোমার কথাই, কোন ধেয়ানে আছো রে?

চরণ তাহার খুঁজে না পাই... আঁধার ঘরে আলো!

কে দেবে রে সুপথের দিশা, মনের মানুষ কোথা পাই?

আমি তো আজ পথহারা এক অধম ফকির

পুঁজিপাটা নেই কিছুই, কী করে হই মানুষ রতন

মিথ্যামুকুট মাথায় পরে রংবেরঙা ভবের মাঝে!

কী সাধনে পাই তোমাকে সহজ করে হৃদয়মাঝে?

অন্তর্গত কথামালা-১০

চন্দনকৃষ্ণ পাল

প্রতীক্ষা আর অসহায় চাহনী ভরা এই সকাল প্রতিদিন আসে

আমাকে আরো বেশি হতাশায় ডুবিয়ে দিতে দিতে

এগিয়ে যায়, যেতে থাকে...

চোখের সামনেই লাফাতে লাফাতে যায় অটোভ্যান

আরোহীরা গঠিত চাহনীতে আমাদের অবলোকন করে

আমরা আরো ভেঙে পড়ি

ক্রমাগত গুড়ো গুড়ো হই।

ফোন সেটে সময়ের সংখ্যারা দ্রুত জ্বলে নেভে

বসের রক্তাক্ত চাহনীর জবাফুল দুলে দুলে ওঠে

আর কণ্টকিত হই, ভাবি এ কেমন ভবিতব্য

নাগরিক নরকের কীট

বাসিন্দা সব লুটে খায় দিনরাত্রি

অসহায় সকাল দুপুর

আমি কিংবা আমরা এই সকালে

নরকের অলিতে গলিতে ভ্যান ও অটোরিক্সা কিংবা

টমটমের প্রতীক্ষায় যাপন করি ভয়ার্ত সময়!

ফের দেখা হবে

আমির হামজা

জেনে রেখো

কোনও এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায়

আমাদের ফের দেখা হবে!

তুমি নির্ভার নিরুদ্বিগ্ন শৈশবে

হারিয়ে যাওয়া পুতুল ফিরে পাওয়ার

মতোই আনন্দে কাঁদবে।

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে

তোমাকে না দেখার ভান করে

পাশ কেটে চলে যাবো।

অথচ,

বৃষ্টি এলেই আমি আমার

সবুজ রঙের হৃদয় খুলে আসমানে উড়িয়ে দেই

তোমাকে খুঁজে পাবো বলে!

বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন ২০২৪ , ২৬ জৈষ্ঠ্য ১৪৩১ ২৭ জিলক্বদ ১৪৪৫

সাময়িকী কবিতা

মানুষের মাথা

খালেদ হামিদী

প্রতিভার দাম ক’জনইবা আর দেয়!

মাথার মূল্য কোথাও কেউ বা হাঁকে,

শিরেদের ঘোষণা তখন নেয়

ক্রোধোন্মত্ত লোক, লালসার বাঁকে।

ভুলি না মশাররফের উপন্যাস,

সীমার পাতকী অর্থের পিছে ধেয়ে

ঘটায় কেমন তুমুল সর্বনাশ

সব ইতিহাসে থাকি অপলক চেয়ে।

আরও আতঙ্ক গেলো শতকেও ছিলো

মেসোআমেরিকা, ওশেনিয়া, আফ্রিকা

জুড়ে নৃগোষ্ঠী শত্রুর শির নিলো;

অস্ট্রোনেশীয় আঁকেনি গুয়ের্নিকা।

হেডহান্টার ভিয়েতনামেও গেছে;

একই মার্কিন জাপানি মু-ু-ট্রফি

এনে হত্যার প্রমাণরূপ রেখেছে

দেখেই মনিব বাড়ায় কাপের কফি!

তাছাড়া খুলিতে জীবনীশক্তি থাকে

বিশ্বাসে পরকালেও পদাবনত

রাখার অমন নৃশংসতার ফাঁকে

মানবজন্ম তাৎপর্যের কত?

বালকবেলায় দেয়ালে হরিণমাথা

দেখেও ভাবিনি ওভাবে টাঙানো যায়

মানুষেরই হাতে মানবীকরোটি গাথা!

রাখেনি পূর্বপ্রজাতিও তারা, হায়!

গ্যালিলিও মরে বন্দি, নিজের ঘরে!

তাহলে কীসের মেধা, কে বা আর গুণী!

কেন, বিজ্ঞানী!জবাব এলেও পরে

কবি কহে: কারা এখনও বহাল খুনি!

শুধু একটি নাম

সোহেল মাজহার

উর্মি, মিতুল কিংবা শাওন

লিখিনা কোন নাম

জেসমিন, সিমি কিংবা লিমন

নাম নয় শুধু সর্বনাম।

লিখি মূলত দুপুর কলেজ করিডোর

রাতফুলের কোরকে সঙ্গীতময় ভোর

আঁকি আনন্দ, বিষণœতা পাখির ডানা

ফাগুনের ছায়া, চোখে আগুনের মন্ত্রণা...

দ্বগ্ধ নয়, অভিশপ্ত নয়, শাস্ত্রে হই ধ্যানমগ্ন

প্রার্থনা তুমি প্রার্থনাময়, শেষ হয় না লগ্ন।

বাউলের বেশে থাকি, দেহ তন্ত্রীতে বাজে সুর প্রণাম

গূঢ় ও উহ্য ভাষায় শুধু লিখি তাঁকে, শুধু তার নাম।

একাকী হাওয়া শুধুই ঘুরপাক খায়...

বিষণ্ণতার কোলাজ

নাসরীন জাহান

তুমি চলে যাও,বন্ধ ঘড়ির মতো আমি হয়ে থাকি।

চলে যাও তুমি বিষণ্ণ চোখ দেখে,যাও পরবাসে

মুহূর্ত ঝাঁক ঝাঁক বেঁধে চলে, চলে শুধু আঁকাআঁকি,

চাঁদে ডোবা রাত,সাপলুডু খেলা, চোখে শুধু ঝড়-ভাসে।

বিষাদের আলপিনে বেদনার কারুকাজ মেঘলোকে,

রাজহাঁস উড়ে যায়, ডাব পড়ে আছে, ডাব, গাবছায়া,

কুকুরেরা টানা কেঁদে যায় ফিসফিস ধবনি-শোকে,

চলে গেলে তুমি, বিষণ্ণ রাত, শিশিরেরা আবছায়া!

ঘুরে দাঁড়ালাম,গান গায় গাছ,উট নাচে রাত্তিরে,

কচ্ছপ শোন, আয়ু দাও গুরু,ডুবে যাবে পুণ্যতায়,

উড়ে যেতে দেখি তোমার ইমেল, জলহীন চোখ-নীড়ে

উদাসীন বালু ফরফর ওড়ে আমি উড়ি শূন্যতায়।

একাকীত্ব

বিনয় বর্মন

রেস্তোরাঁর নিভৃত কোণে একাকী এক টুকরো হাওয়া

ঘুরপাক খায়

ঘুরে ঘুরে আবার শান্ত হয়

কেউ কি তাকে দিয়েছে অভয়?

চারপায়ে দাঁড়ানো টেবিল চেঁচিয়ে ওঠে

আমাকে মুক্তি দাও স্থবিরতা থেকে

জন্মেই আঁটকে গেছি চতুরঙ্গধ্যানে

পিঠজুড়ে সমতল গান, পান আর স্নান

প্লেটগ্লাস আসে, হাসে, ঝলমলে

আহ্লাদ অবিরাম উদরপূর্তিতে

কাঁটাচামচে বিদ্ধ হৃদয়বাসনা

আর টুংটাং টুংটাং চোখের গিটার

অবিরাম আসা-যাওয়া

একজন মৌয়াল

মোহাম্মদ হোসাইন

বাঘ খেয়ে নিল মৌয়ালির শরীর

মধু পড়ে রয়েছে

গাছ, পাতা, ভেজা মাটি জুড়ে!

সুন্দরবনের মৌয়াল

প্রায়শই যায়, মধু আনে, সেই মধু বিক্রি করে খায়

নিজে খায়না কো মধু কোনও দিন!

তার স্ত্রী, সন্তানেরা ভাত চায় শুধু ভাত

আর সামান্য বেঁচে থাকার যোগাড়

আজ সেই মৌয়াল চলে গেছে দূর দেশে অন্য কোনো

মধু আহরণে!

অথচ, বনের বাঘ বোঝেনি মৌয়ালের স্ত্রী আছে

পুত্র কন্যারা আছে এতটুকু সংসার আছে!

আজ সবই ভেসে গেল বাঘের থাবায়...

বাঘেরা বোঝেনা

মানুষ কি বোঝে?

দুঃখটা হেঁটে যায়

রাহমান ওয়াহিদ

আমার অবাধ্য দুঃখটা জনারণ্যে

নগ্ন হয়ে হাঁটে, স্পর্ধায় হেঁটে যায়।

ব্রান্ডের নামি-দামি পোশাকেও তাকে

ঢাকতে পারিনি,পারি না।

প্রাণিজ মানুষেরা তাকে আলগা থুথু দেয়

টোকাইরা খুঁড়ে খুঁড়ে তার রক্ত কুড়ায়।

চিৎকার করে বলি,‘দুঃখ তুমি নগ্নতা ঢাকো

দুঃখ তুমি সভ্যতার ঝলমলে জামাটা পর’।

তবু সে বেপরোয়া যেতে যেতেই বলে,

‘কেন ডাকো? নগ্নতাই প্রিয়ম পোশাক

নগ্ন বলেই তো প্রিয়তি সাজুগুজু করে,

অন্ধকার সরিয়ে রেখে কী দারুণ চুমু দেয়!’

হাতজোড় করে বলি,‘দুঃখ কথা শোন,

তোমার বেঢপ নগ্নতা আমাকেও উলঙ্গ করে

দাঁড়াতে পারি না নির্জনতার অন্ধ চোখেও।’

দুঃখ তবু হেঁটে যায়,কোটি চোখ আটকে থাকে

তার জননেন্দ্রিয়র পে-ুলাম নান্দনিকতায়।

তাকে আর থামাতে পারিনি, পারি না।

লালন সাঁই

মতিন রায়হান

কী সাধনে পাই তোমাকে সহজ করে হৃদয়মাঝে?

যে জন রাখে মনের খবর মনমহাজন ডাকি তারে!

অষ্টপ্রহর কে ডাকে আজ, খুঁজি তারে কোন গোপনে?

হৃদয়মাঝি আজ উদাসীন, একতারাটা বাজলো বলে!

খাঁচার ভিতর অচিন পাখির ছটফটানি, গুমরে কাঁদে

হৃদয়বাউল, কোন সে কথার ফাঁদে! মহাজনের তালাশে

তাই চলে সাধন-ভজন; মনপাখিটা উড়লো যদি

কে রাখে সে খোঁজ? গহিন বনের অকুস্থলে কোন

ভয়ানক জন্তু এসে শানায় নখর খুর! ভাবি বসে

নিরজনে তোমার কথাই, কোন ধেয়ানে আছো রে?

চরণ তাহার খুঁজে না পাই... আঁধার ঘরে আলো!

কে দেবে রে সুপথের দিশা, মনের মানুষ কোথা পাই?

আমি তো আজ পথহারা এক অধম ফকির

পুঁজিপাটা নেই কিছুই, কী করে হই মানুষ রতন

মিথ্যামুকুট মাথায় পরে রংবেরঙা ভবের মাঝে!

কী সাধনে পাই তোমাকে সহজ করে হৃদয়মাঝে?

অন্তর্গত কথামালা-১০

চন্দনকৃষ্ণ পাল

প্রতীক্ষা আর অসহায় চাহনী ভরা এই সকাল প্রতিদিন আসে

আমাকে আরো বেশি হতাশায় ডুবিয়ে দিতে দিতে

এগিয়ে যায়, যেতে থাকে...

চোখের সামনেই লাফাতে লাফাতে যায় অটোভ্যান

আরোহীরা গঠিত চাহনীতে আমাদের অবলোকন করে

আমরা আরো ভেঙে পড়ি

ক্রমাগত গুড়ো গুড়ো হই।

ফোন সেটে সময়ের সংখ্যারা দ্রুত জ্বলে নেভে

বসের রক্তাক্ত চাহনীর জবাফুল দুলে দুলে ওঠে

আর কণ্টকিত হই, ভাবি এ কেমন ভবিতব্য

নাগরিক নরকের কীট

বাসিন্দা সব লুটে খায় দিনরাত্রি

অসহায় সকাল দুপুর

আমি কিংবা আমরা এই সকালে

নরকের অলিতে গলিতে ভ্যান ও অটোরিক্সা কিংবা

টমটমের প্রতীক্ষায় যাপন করি ভয়ার্ত সময়!

ফের দেখা হবে

আমির হামজা

জেনে রেখো

কোনও এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায়

আমাদের ফের দেখা হবে!

তুমি নির্ভার নিরুদ্বিগ্ন শৈশবে

হারিয়ে যাওয়া পুতুল ফিরে পাওয়ার

মতোই আনন্দে কাঁদবে।

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে

তোমাকে না দেখার ভান করে

পাশ কেটে চলে যাবো।

অথচ,

বৃষ্টি এলেই আমি আমার

সবুজ রঙের হৃদয় খুলে আসমানে উড়িয়ে দেই

তোমাকে খুঁজে পাবো বলে!